তরুণ সমাজ কি হতাশ

আপডেট : ০২ মে ২০১৪, ২১:২১
এত কিছুর পরও তরুণ সমাজ হতাশ নয় তরুণ সমাজ সঠিক গাইড লাইনের অভাবে হতাশায় ভোগে। তাছাড়া চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল না করতে পারাই তরুণ সমাজ বর্তমানে হতাশায় ভোগছে। তরুণসমাজত সঠিক ক্যারিয়ারের সিদ্ধান্ত না নিতে পারাই অনেকেই মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ছে। আমাদের জীবনটা খুব বেশি বড় নয়। কিন্তু এ ছোট জীবনকে সীমিত চেষ্টায় অপরিসীম আন্তরিকতায় পূর্ণকরা যায়। যদি সিদ্ধান্তটা সঠিক হয়। তাছাড়া নিজের সিদ্ধান্তের উপর ভর করে ভুল করার কষ্টও কিন্তু নিজেকেই ভোগ করতে হয়। কারণ সিদ্ধান্তটা যেহেতু আমাদের তাই তার দায়ভারও আমাদের। অনেক বাবা মা সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগা ছেলে-মেয়েদের পাশে এসে দাঁড়ান। যাদের বাবা-মা সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত তারাই কেবল সন্তানের পাশে এসে দাঁড়ান এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী সঠিক গাইড লাইন দেন। কিন্তু যাদের বাবা-মা এ কাজটি করেন না, তারাই যতো ভুল পথে পা বাড়ান। পরিশেষে তাদের মাধ্যমেই একটি সুন্দর পরিবার, সমাজ, দেশ এমনকি সমস্ত বিশ্বটা অসুন্দর হয়ে ওঠে। তাই বাবা-মার সাথে সন্তানের সবসময়ই সুসম্পর্ক থাকা উচিত। বাংলাদেশের অপরাজনীতি বন্ধ করে এ দেশের তরুণ সমাজের সুপ্ত প্রতিভাকে বিকশিত করার জন্য সুযোগ করে দিতে হবে। তরুণ সমাজের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে মাদক মুক্ত রাখার জন্য সরকার, পুলিশ প্রশাসন এবং সুশিক্ষিত সমাজকে এগিয়ে আসতেই হবে। কারণ আজকের তরুণ আগামী দিনের জাতির কর্ণধার- এ কথা বাঙালি জাতির ভুলে গেলে চলবে না। এতসব প্রতিকূল অবস্থার পরেও আমাদের কিছু জাগ্রত তরুণ সমাজ হতাশ নয়। এদেশ স্বাধীন হওয়ার পূর্বে এবং পরে, বর্তমানেও সঠিক পথে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। কারণ “তরুণ চিরকালই তরুণ।” তারা লয়-ক্ষয়, জরা-মৃত্যু-উত্থান পতন এবং সন্ত্রাসকে ভয় পায় না। খাজা মাহদী ফটোসংবাদিক (DUPS) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সাহস ও সহযোগিতার হাত প্রসারিত করতে পারলে তরুণ সমাজ হতাশ হবে না একজন শিক্ষার্থী অনেক স্বপ্ন নিয়ে তার জীবনের অনেকটা সময় দিয়ে যখন তার শিক্ষাজীবন শেষ করে তখন তার সামনে আসে আরেক পাহাড়, যার নাম জীবন সংগ্রাম। যেখানে সে তার শিক্ষাজীবনের সঞ্চয়টা বাস্তবিক ভাবে প্রয়োগ করে। কিন্তু আমাদের চাকুরীর বাজার এমন, সেটা সরকারী হোক বা বেসরকারী, যেখানেই মামা-খালু বা বড় অংকের ঘুষ না থাকলে চাকুরী বাবাজির আর দেখা নেই। সেজন্যই তরুণরা হতাশা হয় আমরা তরুণরা সবসময় চাই সুন্দরভাবে নিজ ও দেশকে বিশ্ব দরবারে মেলে ধরতে, চাই শুধু একটু সহযোগিতার হাত। আমাদের দেশের তরুণরা এত প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও নিজের গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য সত্ ও নিরলসভাবে চেষ্টা করছে তা সত্যই প্রশংসার দাবিদার। তারা বিপথে যায়নি বলেই আমাদের সমাজে এখনও ভাল মানুষ সৃষ্টি হচ্ছে এবং বাংলাদেশ এগুচ্ছে। আসুননা আমরা সবাই মিলে তরুণদের বাড়িয়ে দেওয়া হাত ধরে তাদের আরেকটু সাহস ও সহযোগিতা দেই। তাহলে আমার বিশ্বাস আমাদের দেশের তরুণরা একদিন এমন এক শক্তিতে পরিণত হবে যাদের ছোঁয়ায় পুরো দেশ বদলে যাবে, দূর হবে সকল অশুভ শক্তি এবং মেঘমুক্ত আকাশের মত আমাদের দেশ হবে দূর্নীতিমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত। মোহাস্মদ মোশারফ হোসেন সোহাগ বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম। সত্যি আজ তরুণ সমাজ হতাশ বর্তমানে তরুণ সমাজের আরেক নাম হতাশ সমাজ। এই হতাশার অবশ্য বহুবিধ কারণ রয়েছে। তন্মধ্যে অন্যতম কারণগুরো হচ্ছে, দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রাজনৈতিক সহিংসতায় মেধাবী শিক্ষার্থীরা প্রাণ-হারাচ্ছে এবং শিক্ষার্থীরা সেশনজটে পড়ছে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যাওয়ায় মেধার প্রকৃত মূল্যয়ন সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া শিক্ষাজীবন শেষে অনেকেই প্রত্যাশিত চাকরি পাচ্ছে না। এই কর্ণধারদের রক্ষায় এগিয়ে যেতে হবে। যুগে যুগে তরুণরাই মঙ্গলার্থে কাজ করে গেছে আজও তরুণ সমাজ হতাশ না হয়ে সকল বাঁধা বিপত্তি জয় করে নিজের জন্যে ও দেশের জন্যে কাজ করে যাবে। এটাই হোক তরুণদের ব্রত। পিয়াল মাহমুদ আল-আমিন ১ম বর্ষ, ১ম সেমিস্টার গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। হতাশার দুষ্টচক্রে তরুণ সমাজ আজ আবদ্ধ বাংলাদেশের যুবসমাজ আজ অন্তহীন হতাশার মধ্যে নিমজ্জিত। বেঁচে থাকাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ আমাদের এই লাল সবুজের দেশে। এর সাথে ক্রনিক ডিজিজের মত আছে বেকারত্ব, নিরক্ষরতা, মূল্যবোধের অবক্ষয় ও মাদকের উপর নির্ভরশীলতা। ছাত্রনেতা ও ছাত্ররাজনীতির একই সমান্তরালে বিভীষিকাময় রূপ নিয়ে আবির্ভূত হওয়া, রাজনৈতিক সংঘাত, অর্থনৈতিক মন্দা, বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিতিশীলতা- সবকিছুই হতাশ করছে যুবসমাজকে । অধিকাংশ ছাত্রই জানে না বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশোনা শেষ করে কি করবে? কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা নেই। দেশের নাগরিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক সব ধরনের সুবিধা ক্ষমতাসীন রাজনীতিকদের পকেটে । ফলে যুবসমাজের উপর প্রত্যাশা ও হতাশার বোঝা দুইই বাড়ছে। নূর মুহাম্মদ রিফাত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় লোকপ্রশাসন বিভাগ(১ম বর্ষ)

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন