‘উপসর্গের অর্থবাচকতা নেই, কিন্তু অর্থদ্যোতকতা আছে
বাংলা দ্বিতীয়পত্র
আতাউর রহমান সায়েম
শিক্ষক (বাংলা)
অধ্যায় : উপসর্গ
প্রশ্ন: ‘উপসর্গের অর্থবাচকতা নেই, কিন্তু অর্থদ্যোতকতা আছে।’- উপসর্গের সংজ্ঞা উল্লেখপূর্বক উক্তিটি আলোচনা কর।
উত্তর: ‘উপসর্গ’ শব্দটি উপ-সৃজ ধাতু + ঘঞ প্রত্যয় যোগে গঠিত হয়েছে, যার অর্থ ‘উপসৃষ্টি’। উপসর্গের নিজের কোন অর্থ নেই। নাম শব্দ কৃদন্ত শব্দের সাথে যুক্ত হয়ে বিশেষ বিশেষ স্থলে বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে।
যে সকল অব্যয়সূচক শব্দ কৃদন্ত বা নাম শব্দের পূর্বে বসে ঐ শব্দের নানা অর্থের সৃষ্টি করে, তাকে (Prefix) উপসর্গ বলে।
যেমন: প্র, পরা, অপ, সম, অ, বি ইত্যাদি।
ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হকের মতে, “যে সকল অব্যয়-শব্দ কৃদন্ত বা নাম-শব্দের পূর্বে বসিয়া শব্দগুলির অর্থের সংকোচন, সমপ্রসারণ বা অন্য কোন পরিবর্তন সাধন করে, ঐ সকল অব্যয়-শব্দকে বাংলা ভাষায় উপসর্গ বলে।” রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর উপসর্গকে মাছের ছোট্ট পাখনার সঙ্গে তুলনা করেছেন, যে পাখনার চালনে মাছ ডানে-বাঁয়ে বা সামনে পেছনে বিশেষ গতি লাভ করে।
‘উপসর্গের অর্থবাচকতা নেই, কিন্তু অর্থদ্যোতকতা আছে।’ এটি শব্দ গঠনের একটি প্রক্রিয়া। পাশের উদাহরণের সাহায্যে উপর্যুক্ত উক্তিটি ব্যাখ্যা করার প্রয়াস পাচ্ছি:
অভি, অনু প্র, পরি, অপ প্রভৃতি উপসর্গের নিজস্ব কোন অর্থ নেই। কিন্তু এগুলো কোন শব্দের পূর্বে বসে যুক্ত হলে বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন সাধিত হয়; যেমন-
‘উপসর্গের অর্থবাচকতা নেই, কিন্তু অর্থদ্যোতকতা আছে।’- এ উক্তিটিকে আরো ফলপ্রসূ করার জন্য নিম্নে পাঁচটি যুক্তি দেওয়া হলো:-
১.উপসর্গ নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি করে। যেমন: প্র+হার=প্রহার (মারা), বি+হার=বিহার (ভ্রমণ করা), আ+হার=আহার (খাওয়া) ইত্যাদি।
২.উপসর্গ শব্দের অর্থের পরিপূর্ণতা দান করে। যেমন:পরি+পূর্ণ=পরিপূর্ণ, পরি+পুষ্টি=পরিপুষ্টি ইত্যাদি।
৩.উপসর্গ শব্দের অর্থের সমপ্রসারণ ঘটায়। যেমন: পরি+তাপ=পরিতাপ, সম্+বাদ=সংবাদ ইত্যাদি।
৪.উপসর্গ শব্দের অর্থের সীমা সংকুচিত করে। যেমন:নিম+রাজি=নিমরাজি, আড়+নজর=আড়নজর ইত্যাদি।
৫.উপসর্গ শব্দের অর্থের পরিবর্তন ঘটায়। যেমন: অভি+মান=অভিমান, কু+কথা=কুকথা ইত্যাদি।
উপরিউক্ত আলোচনায় বুঝা যাচ্ছে যে, উপসর্গগুলোর নিজস্ব অর্থ নেই, কিন্তু এরা শব্দের পূর্বে বসে শব্দের অর্থের নানারূপ পরিবর্তন ঘটাচ্ছে। সুতরাং বলা যায়- ‘উপসর্গের নিজস্ব অর্থ নেই, কিন্তু অর্থদ্যোতকতা আছে।’
অধ্যায়:উপসর্গ
এক কথায় উত্তর:
১.‘উপসর্গ’ শব্দটির বুত্পত্তিগত অর্থ কী?
উ: অবাঞ্চিত বিষয়।
২.‘উপসর্গ’ শব্দটির ব্যাকরণগত অর্থ কী?
উ: উপসৃষ্টি।
৩.নির উপসর্গ জুড়ে দিয়ে এমন একটি শব্দ তৈরি কর যা দেখিয়ে দেয় বাইরের দিক।
উ: নির্গত।
৪.শব্দে প্রত্যয়ের অবস্থান কোথায়?
উ: শেষে বা পেছনে।
৫.বে উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহূত হয়?
উ: না অর্থে।
৬.বর উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহূত হয়?
উ: মন্দ অর্থে।
৭.দর উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহূত হয়?
অধীন অর্থে।
৮.সাব উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহূত হয়?
উ: অধীন অর্থে।
৯.হার (অলংকার বিশেষ) শব্দটির সাথে কোন উপসর্গটি যোগ করলে তার অর্থ ভ্রমণ করা হয়?
উ: বি।
১০.ভাষায় ব্যবহূত কী সূচক শব্দের নাম উপসর্গ?
উ: অব্যয়সূচক।
১১.উপসর্গ দিয়ে গঠিত এমন একটি শব্দ তৈরি কর যা অর্থের পূর্ণতা বোঝায়?
উ: পরিপূর্ণ।
১২. সংস্কৃত উপসর্গ মূল ধাতুর পূর্বে বসে যেভাবে শব্দের অর্থ বদলিয়ে দেয় তার একটি উদাহরণ দাও।
উ: অপ-বদ+ঘঞ = অপবাদ (নিন্দা)।
১৩. রবীন্দ্রনাথ উপসর্গকে কীসের সাথে তুলনা করেছেন?
উ: মাছের ছোট পাখনার সাথে।
১৪. হার শব্দটির সাথে সম যুক্ত হলে যে শব্দ গঠিত হয় তার অর্থ কী?
উ: বিনাশ।
১৫.বিজ্ঞান শব্দের বি উপসর্গটি কি অর্থে ব্যবহূত হয়েছে?
উ:বিশেষ।
১৬.বর কোন শ্রেণির উপসর্গ?
উ: বিদেশি।
১৭. আধা অর্থে ব্যবহূত হয় এমন উপসর্গ লিখ।
উ: নিম।
১৮.বক্র অর্থে ব্যবহূত হয় এমন উপসর্গ নাম লিখ।
উ: আড়চোখ।
১৯.আ কোন শ্রেণির উপসর্গ?
উ: খাঁটি বাংলা উপসর্গ ও তত্সম বা সংস্কৃত উপসর্গ।
২০.রাম উপসর্গটি দিয়ে একটি শব্দ তৈরি কর। উ: রামদা।
২১.উপসর্গের অর্থবাচকতা নেই, কিন্তু কী আছে?
উ: অর্থদ্যোতকতা আছে।
২২.বি উপসর্গের অর্থ কী?
উ: অর্থ নেই।
২৩. হার কী শব্দ?
উ: মৌলিক শব্দ।
২৪. উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহূত হয়?
উ: সাথে।
২৫. দর উপসর্গটির অর্থ কী?
উ: অধীন।
২৬. সম উপসর্গের অর্থ কী?
উ: অর্থ নেই।
২৭. খাঁটি বাংলা উপসর্গ কোন শব্দের আগে যুক্ত হয়?
উ: খাঁটি বাংলা।
২৮. অপ উপসর্গের ক্ষমতা কী?
উ: নতুন শব্দ সৃষ্টি করতে পারে।
২৯. উপসর্গ কোন প্রত্যয় যোগে গঠিত?
উ: উপ+সৃজ্+ঘঞ(প্রত্যয়)
৩০. খাঁটি বাংলা উপসর্গ কয়টি?
উ: ২১টি
