মোহামেডান আবাহনীর আরেকটি লড়াই আজ

আপডেট : ০৩ মে ২০১৪, ২২:০৪
আবাহনীর মোকাবেলায় আজ মোহামেডানের জন্য সবচেয়ে খারাপ খবর হচ্ছে সাদাকালো দল ইনজুরিতে ভুগছে। অধিনায়ক জাহিদ হাসান এমিলি, ড্যামিয়েন, হেমন্ত ভিনসেন্ট এবং জাহিদ হোসেন ইনজুরিতে ভুগছেন। মোহামেডানের আক্রমণভাগ অনেকটাই নিস্ক্রিয়। অথচ বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হতে যাওয়া খেলাটিতে দলটি হারলে লিগে আরো পিছিয়ে পড়বে। অপরদিকে আবাহনীর লক্ষ্য থাকবে জিতে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষে থাকা শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের সাথে ব্যবধান কমিয়ে আনা। এমিলি আজ আবাহনীর বিরুদ্ধে খেলতে পারবেন কিনা তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। তিনি উত্তর বারিধারার বিরুদ্ধে খেলতে নেমে চোট পেয়েছিলেন। বিজেএমসির বিরুদ্ধে খেলতে পারেননি। বিশ্রাম নিয়ে মাঠে হালকা অনুশীলন করছেন। কাল বিকালে মোহামেডান ক্লাবে গিয়ে দেখা হলে এমিলি বললেন, ‘আমি ইনজুরিতে আছি। কুচকিতে লেগেছিল। এখন কিছুটা ভালো। ৭০ ভাগ ভালোর দিকে। কিন্তু খেলবো কিনা বলতে পারছি না।’ মোহামেডানের পর্তুগীজ কোচ রুই ক্যাপেলাও অসুস্থ। কাল বিকালে অনুশীলনের আগে ক্লাবে গিয়ে রুমে ঢুকেই সটান হয়ে বিছানায় শুয়ে পড়লেন। সবাই জানতে চাইলো কি হয়েছে। কোচ বললেন, ‘স্যালাইন আনুন।’ জলদি স্যালাইন আনতে লোক পাঠালেন দলের সহকারি কোচ সাবেক স্ট্রাইকার আলফাজ আহমেদ। আগের দিন রাস্তার খাবার খেয়ে অসুস্থ কোচ পেটের পীড়ায় ভুগছেন। বিছানায় শোয়া কোচ আলফাজকে বললেন, ‘প্লিজ তুমি গিয়ে প্র্যাকটিস করাও আমি পারবো না। পেট ব্যথা করছে। কাল সারা রাত টয়েলেটে যাওয়া আসা করেছি।’ বিছনায় শুয়ে সংবাদ মাধ্যমের সাথে অসুস্থ কণ্ঠে বিড়বিড় করে কোচ রুই ক্যাপলা বললেন, ‘হেমন্ত ভিনসেন্টের খেলার সম্ভাবনা ৫০ ভাগ। ইনজুরি যদি ভালোর দিকে যায় তাহলে হয় তো মাঠে দেখা যাবে হেমন্তকে। জাহিদের ইনজুরি আছে। খেলতে পারবে না। ড্যামিয়েনেরও একই অবস্থা।’ এমিলি খেলতে পারবেন কিনা জানতে চাইলে কোচ বলেন, ‘ও খেলতে পারবে। সমস্যা আছে। তারপরও আমি তাকে নামাবো।’ মোহামেডানের ডাইরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন বললেন, ‘কোচ অসুস্থ হলেই বা কি। কোচ তো খেলবে না। খেলেতে হবে খেলোয়াড়দেরকে। ওরা যদি গা লাগিয়ে না খেলে জিতবে কিভাবে।’ ম্যাচ নিয়ে অধিনায়ক এমিলি বলেন, ‘বিজেএমসির কাছে হেরে আমরা শিরোপা ফাইট থেকে দূরে চলে যাচ্ছি। আবাহনীকে হারিয়ে ক্ষতিটা পুষিয়ে নিতে চাই। এজন্য জয়ের কোনো বিকল্প নেই। ম্যাচ ড্র করে এক পয়েন্ট নিয়ে ঘরে ফেরার কোন সুযোগ নেই।’ স্ট্রাইকার ওয়াহেদ আহমেদ এমিলির বদলে খেলতে নেমেছিলেন বিজেএমসির বিরুদ্ধে। এমিলি না থাকলে ওয়াহেদ সেরা একাদশে থাকবেন। তিনি কি পারবেন জয়গা পূরণ করতে, ‘কেন পারবো না। পারতে হবে। এমিলি ভাই না থাকলে আমাদেরকে দলের জন্য খেলতে হবে। আশাকরি গোল করবো। এমিলি ভাই না থাকলেও জয় এনে দেবো।’ দলের সহকারী ফুটবল ম্যানেজার ইমতিয়াজ আহমেদ নকিব খেলোয়াড়দের ইনজুরি প্রসঙ্গে রাগ করেই বলছিলেন, ‘হান্ড্রেড পারসেন্ট ফিট থেকেও বা লাভ কী। ফিট থেকেও তো বিজেএমসির কাছে হেরেছি। এখন আর কোনো কথা নাই। ইনজুরি নিয়েই ম্যাচ জিততে হবে। আবাহনীকে হারাতে হবে।’ মোহামেডানের ইনজুরি নিয়ে ভাবছে না আবাহনী। কারণ আবাহনীর চোখে মোহামেডান শক্তিশালী দল। আরমান আজীজ, অধিনায়ক সুজন, ডিফেন্ডার মিশু, মিডফিল্ডার প্রাণতোষ, উইংব্যাক ওয়ালী ফয়সালদের কাছে বড় ম্যাচের গুরুত্বই পাচ্ছে। তারা মনে করছেন এই ম্যাচে যারাই নামুক না কেন। তারাই সেরাটা দিয়ে ম্যাচ তুলে নিতে চায়। আবাহনীর জন্য সুখবর হচ্ছে দলে কোনো ইনজুরি নেই। ইরানী কোচ আলী আকবর বলেছেন, ‘আমরা গত চারটি ম্যাচের মধ্যে দু’টিতে জয় পেয়েছি। একটি ড্র এবং আরেকটি হেরেছি। এর মূল কারণ ছিল ইনজুরি সমস্যা। এখন এই সমস্যাটা নেই। আমি দল নিয়ে ভালো অবস্থানে আছি।’ আবাহনীর অধিনায়ক সুজন চাইছেন ম্যাচটা জিতে শেখ জামালের (৩১) চেয়ে পয়েন্ট ব্যবধান কমিয়ে আনা। আবাহনীর পয়েন্ট ২৫। জিতলে ২৮ হবে। পিছিয়ে যাবে মোহামেডান।’ আর মিশু বলেছেন, ‘আমাদের টিকে থাকতে হলে জিততে হবে।’ এমিলির কথাও একই। টিকে থাকতে হলে জিততে হবে। কার কথা টিকবে সে প্রমাণ হবে আজ মাঠে। উল্লেখ্য, লিগের প্রথম পর্বে আবাহনী ১-০ গোলে হারায় মোহামেডানকে।