রান করার তীব্র বাসনা নিয়ে প্রতিদিন ঘুম থেকে ওঠা, অনুশীলনে প্রতিদিন একই রকম মনযোগ, ক্রিকেটের প্রতি সেই প্রথম দিনের মতো ভালোবাসা; খেলোয়াড়ী জীবনের শচীন টেণ্ডুলকারকে সবাই চেনেন এভাবেই। তবে খেলাটির শীর্ষ পর্যায় থেকে বিদায় নিলেও ক্রিকেটের প্রতি শচীনের ভালোবাসাটা যে এক বিন্দুও কমেনি সেটার প্রমাণ দিলেন তিনি নিজেই। তা না হলে এমসিসির একটি প্রদর্শনী ম্যাচের জন্য দু’মাস অনুশীলনের কথা ভাববেন কেন তিনি!
টেণ্ডুলকার ক্রিকেটের মক্কা খ্যাত লর্ডসের দ্বি-শতবর্ষ উপলক্ষে আগামী ৫ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচে এমসিসি দলের নেতৃত্ব দেবেন। প্রতিপক্ষ বিশ্ব একাদশের নেতৃত্ব দেবেন অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি শেন ওয়ার্ন। ৪১ বছরে পা রাখা টেণ্ডুলকার ইতোমধ্যেই এ ম্যাচের জন্য প্রস্তুতির চিন্তা-ভাবনা শুরু করে দিয়েছেন। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) খেলায় সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বিপক্ষে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের শেষ চলাকালে ধারাভাষ্যকার রবি শাস্ত্রীর এক প্রশ্নের জবাবে টেণ্ডুলকার বলেন, ‘ওই ম্যাচটির জন্য আমাকে অন্তত দুই মাস অনুশীলন করতে হবে। আমার ব্যাটের কেন্দ্রস্থল কোথায় সেটা আমাকে খুঁজে বের করতে হবে।’ ক্রিকেটের পোশাক পরে এবং ডাগ আউটে বসে খেলা দেখার সময় তিনি উত্তেজিত হয়ে যান কিনা- শাস্ত্রীর এমন প্রশ্নের জবাবে টেণ্ডুলকার অত্যন্ত বিনয়ীভাবে বলেন ‘না’। দীর্ঘদিনের বন্ধু শাস্ত্রীর সঙ্গে আলাপে শচীন কথা বলেছেন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ব্যাটসম্যানদের নিয়েও। দলের, দেশের কিংবা ক্রিকেটের প্রতি নিবেদনের জন্য বিশ্বের প্রতিটি ক্রিকেটারের কাছেই শ্রদ্ধার পাত্র শচীন মুম্বাই ব্যাটসম্যানদের আরো বেশি দায়িত্ব নিয়ে খেলার প্রতিও জোড় দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেঞ্চুরির সেঞ্চুরি করা একমাত্র ব্যাটসম্যানটি বলেন, ‘আমাদের ব্যাটসম্যানদের রান করা দরকার যাতে ডাগ আউটে আত্মবিশ্বাস বাড়ে।’ মুম্বাইয়ের আইকনের দায়িত্ব পালন করলেও ক্রিকেটের বাইরের সময়টা যে ভালই উপভোগ করছেন, টেণ্ডুলকার জানিয়েছেন সেটাও। এই ব্যাটিং কিংবদন্তি বলেন, ঠাঁসাঠাঁসি সূচির জন্য তাকে এখন আর ভ্রমণ করতে না হওয়ায় তিনি পরিবারকে অনেক সময় দিতে পারছেন এবং অবসর জীবনটা বেশ উপভোগ করছেন। লিটল মাস্টার বলেন, ‘বন্ধুদের সঙ্গে আমি অনেক বেশি ব্যাডমিন্টন ও টেবিল টেনিস খেলছি। পরিবারের সঙ্গেও অনেক সময় ব্যয় করছি।’
