প্রথম দিনে ব্যাটসম্যান আর বোলারদের লড়াইটা ছিল সমান-সমান। পাশাপাশি দুই মাঠে অনুষ্ঠিত ম্যাচের একটাতে দাপট দেখিয়েছিলেন বোলাররা, অপরটাতে ব্যাটসম্যানরা। গতকাল সেই লড়াইটাতে মোটামুটি একতরফা ভাবে এগিয়ে গেলেন বোলাররা। আরও নির্দিষ্ট করে বললে এগিয়ে গেলেন স্পিনাররা। দুই ম্যাচ মিলিয়ে দিনে উইকেট পড়েছে মোট ১৭ টি। আর এর মধ্যে ১৬ টি উইকেটই পেয়েছেন স্পিনাররা। স্পিন ঘূর্ণি দিয়েই দিনটা নিজের করে নিয়েছেন এনামুল হক জুনিয়র, ইলিয়াস সানি, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদরা।
রানের পাহাড়ে উত্তরাঞ্চল
প্রথম দিনই বড় একটা রান করার দিকেই এগোচ্ছিল। ওয়াল্টন উত্তরাঞ্চলের বিপক্ষে দ্বিতীয় দিনে বিসিবি উত্তরাঞ্চলের সেই লক্ষ্যটা আরও গতিশীল করলেন তানভির হায়দার, ফরহাদ রেজারা। ফলাফল, অল আউট হবার আগে ৪৫৭ রানের বিশাল স্কোর করে দলটি।
সর্বশেষ জাতীয় লিগে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা তানভির গতকালও পেয়েছেন হাফ সেঞ্চুরি। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের বলে আউট হবার আগে করেন ৬৬ রান। এছাড়া ফরহাদ রেজা করেন ৪৯ রান। অধিনায়ক নাসির হোসেন ৩৬ রান করে প্যাভিলিয়নে ফিরেন।
আগের দিনে ওয়াল্টন মধ্যাঞ্চলের হয়ে দুই উইকেট পাওয়া ইলিয়াস সানি গতকাল আরও দুটি উইকেট নিয়েছেন। অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ পেয়েছেন তিনটি উইকেট। এছাড়া নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরা মোশাররফ হোসেন রুবেল নিয়েছেন দুটি উইকেট।
জবাবে দ্বিতীয় দিনের খেলার শেষ হবার আগ পর্যন্ত মাত্র ১১৬ রান করতেই তিনটি উইকেট হারিয়ে ফেলেছে উত্তরাঞ্চল। সাত উইকেট হাতে নিয়ে এখনও ৩৪১ রানে পিছিয়ে আছে উত্তরাঞ্চল। সামশুর রহমান শুভ ৩৫ রানে অপরাজিত আছেন। এছাড়া আসিফ আহমেদ রাতুল ৩৩ ও ওপেনার আব্দুল মজিদ করেন ৩১ রান। অফ স্পিনার তাইজুল ইসলাম দুটি ও মিডিয়াম পেসার ফরহাদ রেজা একটি উইকেট পান।
এনামুলের ঘূর্ণির পরও শঙ্কায় পূর্বাঞ্চল
প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৩৫ রানে অল আউট হবারই মাশুল দিতে হচ্ছে ইসলামী ব্যাংক পূর্বাঞ্চলকে। তা না হলে কি আর বাম হাতি অফ স্পিনার এনামুল হক জুনিয়রের পাঁচ উইকেট পাওয়ার দিনেও ব্যাকফুটে থাকতে হয় তাদের।
বিকেএসপির চার নম্বর মাঠে গতকাল ৩৭৬ রানে অল আউট হয় প্রাইম ব্যাংক দক্ষিণাঞ্চল। এনামুল হক জুনিয়র পাঁচটি, মোসাদ্দেক হোসেন তিনটি ও মমিনুল হক দুটি উইকেট পান। উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মিথুন আলী ৭৭ ও সৌম্য সরকার ৭১ রান করেন। ৩০০ রানের মধ্যেই দক্ষিণাঞ্চলের ব্যাটসম্যানদের বেঁধে ফেলা সম্ভব ছিল।
কিন্তু সেটা হতে দেননি সোহাগ গাজী। সাথে যোগ দেন আব্দুর রাজ্জাক। এই দু’জনের ঝড় ব্যাটিংয়ে অল আউট হবার আগে ৩৭৬ রান করে দক্ষিণাঞ্চল। সোহাগ গাজী ৬৪ ও রাজ্জাক ২৮ রান করেন।
জবাবে দ্বিতীয় দিন শেষে নিজেদের প্রথম ইনিংসে এক উইকেট হারিয়ে ১৩৮ রান করেছে ইসলামী ব্যাংক পূর্বাঞ্চল। ওপেনার সাদমান ইসলাম ৫৭ ও লিটন কুমার ৪৭ রানে অপরাজিত আছেন। এছাড়া আরেক ওপেনার নাজিম উদ্দিন ২৭ রানে সোহাগ গাজীর বলে আউট হয়ে যান। দক্ষিণাঞ্চলের চেয়ে এখনও ১০৩ রানে পিছিয়ে আছে পূর্বাঞ্চল।
স ং ক্ষি প্ত স্কো র
ওয়াল্টন মধ্যাঞ্চল-বিসিবি উত্তরাঞ্চল
টস: বিসিবি উত্তরাঞ্চল
বিসিবি উত্তরাঞ্চল প্রথম ইনিংস: ১৪৯.২ ওভারে ৪৫৭ অল আউট (ফরহাদ হোসেন ১০৯, তানভির হায়দার ৬৬, জুনায়েদ সিদ্দিক ৬৫, হামিদুল ইসলাম ৬০, ফরহাদ রেজা ৪৯, নাঈম ইসলাম ৩৮; নাসির হোসেন ৩৬; ইলিয়াস সানি ৪/১১১, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ৩/১২৭, মোশাররফ হোসেন রুবেল ২/৭৩, মার্শাল আইয়ুব ১/২৯)
ওয়াল্টন মধ্যাঞ্চল প্রথম ইনিংস: দ্বিতীয় দিন শেষে ৩০.৫ ওভারে ১১৬/৩ (শামসুর রহমান শুভ ৩৫*, আসিফ আহমেদ রাতুল ৩৩, আব্দুল মজিদ ৩১; তাইজুল ইসলাম ২/২৫, ফরহাদ রেজা ১/৯)
প্রাইম ব্যাংক দক্ষিণাঞ্চল-ইসলামী ব্যাংক পূর্বাঞ্চল
টস: ইসলামী ব্যাংক দক্ষিণাঞ্চল
ইসলামী ব্যাংক দক্ষিণাঞ্চল প্রথম ইনিংস: ৬৯.৪ ওভারে ১৩৫ অল আউট (অলোক কাপালী ৫৬, সাদমান ইসলাম ৩৩, লিটন কুমান ১৩, মোসাদ্দেক হোসেন ১৩; আব্দুর রাজ্জাক ৪/৩৪, সোহাগ গাজী ৩/৪১) ও দ্বিতীয় ইনিংস: দ্বিতীয় দিন শেষে ৪০ ওভারে ১৩৮/১ (সাদমান ইসলাম ৫৬*, লিটন কুমার ৪৭*, নাজিম উদ্দিন ২৭; সোহাগ গাজী ১/৪১)
প্রাইম ব্যাংক পূর্বাঞ্চল প্রথম ইনিংস: ৯০.৩ ওভারে ৩৭৬ অল আউট (মিথুন আলী ৭৭, সৌম্য সরকার ৭১, সোহাগ গাজী ৬৪, এনামুল হক বিজয় ৫৯, ইমরুল কায়েস ৩৮, আব্দুর রাজ্জাক ২৮; এনামুল হক জুনিয়র ৫/১২৬, মোসাদ্দেক হোসেন ৩/৬৫, মুমিনুল হক সৌরভ ২/৪৩)
