তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি

আপডেট : ০৫ মে ২০১৪, ১৯:৪২
একজনের ডেটা অন্য জনের নিকট বাইনারি পদ্ধতিতে স্থানান্তর করার পদ্ধতিকে ডেটা কমিউনিকেশন বলে প্রকাশ কুমার দাস প্রভাষক, কমিপউটার শিক্ষা মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরী গার্লস কলেজ, ঢাকা প্রিয় শিক্ষার্থীবৃন্দ, আজ দ্বিতীয় অধ্যায়-কমিউনিকেশন সিস্টেমস ও নেটওয়ার্কিং থেকে প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করা হলো। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এ অধ্যায়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ। তোমরা প্রতিটি লেখা সংগ্রহ করে মনোযোগ সহকারে পড়বে। প্রশ্ন-১। ডেটা কমিউনিকেশন সিস্টেম কী? এর উপাদানগুলোর বর্ণনা দাও। উত্তর: ডেটা কমিউনিকেশন পদ্ধতিতে বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত কমিপউটার হতে কমিপউটারে অথবা কমিপউটার ও অন্য কোনো মাধ্যমে ডেটা আদান-প্রদান সম্ভব। কোন ডেটাকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে অথবা এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে অথবা একজনের ডেটা অন্য জনের নিকট বাইনারি পদ্ধতিতে স্থানান্তর করার পদ্ধতিকে ডেটা কমিউনিকেশন বলে। এই যোগাযোগ প্রক্রিয়ার পাঁচটি মৌলিক উপাদান হলো- ১. উত্স ২. প্রেরক ৩. মাধ্যম ৪. গ্রাহক বা প্রাপক ও ৫. গন্তব্য। চিত্র : ডেটা কমিউনিকেশনের সাধারণ ব্লক চিত্র নিচে এদের সম্পর্কে বর্ণনা দেওয়া হলো: ১. উত্স: যে ডিভাইস হতে ডেটা পাঠানো হয় তাকে উত্স বলে। যেমন- কম্পিউটার, টেলিফোন ইত্যাদি। ২. প্রেরক: উত্স থেকে প্রাপকের নিকট ডেটা পাঠানোর জন্য যে যন্ত্র ব্যবহূত হয় তাকে প্রেরক বলে। উত্স থেকে ডেটা সরাসরি প্রেরিত হয় না। এর জন্য প্রেরকের প্রয়োজন হয়। ৩. মাধ্যম: যার মাধ্যমে ডেটাসমূহ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বা এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে স্থানান্তর করা হয় তাকে মাধ্যম বলে। ডেটা কমিউনিকেশনের মাধ্যম হিসেবে ক্যাবল, পাবলিক টেলিফোন লাইন, রেডিও ওয়েভ, মাইক্রোওয়েভ, স্যাটেলাইট প্রভৃতি ব্যবহার করা হয়। ৪. গ্রাহক বা প্রাপক: যে যন্ত্র ডেটা গ্রহণ করে তাকে প্রাপক বলে। প্রাপক যন্ত্র হিসেবে মডেম ব্যবহার করা হয়। গ্রাহক কম্পিউটারের সাথে যুক্ত মডেম কম্পিউটারের অ্যানালগ সংকেতকে ডিজিটাল সংকেতে পরিণত করে। ৫. গন্তব্য: সর্বশেষ গন্তব্য হিসেবে সার্ভার বা কম্পিউটার ব্যবহূত হয়। প্রশ্ন-২। ডেটা ট্রান্সমিশন স্পীড কী? এ সম্পর্কে বর্ণনা দাও। উত্তর: এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে বা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ডেটা স্থানান্তরের হারকে ডেটা ট্রান্সমিশন স্পীড বলে। এ ট্রান্সমিশন স্পীডকে ব্যান্ড উইড্থ্ বলা হয়। সাধারণত bit per second (bps) দ্বারা Band Width হিসাব করা হয়। অর্থাত্ প্রতি সেকেন্ডে যে পরিমাণ বিট ট্রান্সফার হয় তাকে bps বা Band Width বলে। ডেটা ট্রান্সমিশন স্পীডের উপর ভিত্তি করে ডেটা কমিউনিকেশন গতিকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- ১. ন্যারো ব্যান্ড, ২. ভয়েস ব্যান্ড ও ৩. ব্রড ব্যান্ড। নিচে এদের সম্পর্কে বর্ণনা দেওয়া হলো: ১. ন্যারো ব্যান্ড: ন্যারো ব্যান্ডে ডেটা স্থানান্তরের গতি সাধারণত 45 bps (bit per second) থেকে সর্বোচ্চ 300 bps পর্যন্ত হয়ে থাকে। সাধারণত ধীরগতি ডেটা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে এ ব্যান্ড ব্যবহার করা হয়। টেলিগ্রাফিতে তারের ব্যবহার বেশি হওয়ায় ডেটা স্থানান্তরের গতি কম। টেলিগ্রাফিতে ন্যারো ব্যান্ড ব্যবহার করা হয়। ২. ভয়েস ব্যান্ড: ভয়েস ব্যান্ডে ডেটা চলাচলের গতি সাধারণত সর্বনিম্ন 1200 bps থেকে সর্বোচ্চ 9600 bps পর্যন্ত হয়ে থাকে। সাধারণত টেলিফোনে এই ব্যান্ড উইডথ বেশি ব্যবহূত হয়। তবে কম্পিউটার ডেটা কমিউনিকেশনে কম্পিউটার থেকে প্রিন্টারে ডেটা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে এবং কার্ড রিডার থেকে কম্পিউটারে ডেটা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ভয়েস ব্যান্ড ব্যবহার করা হয়। ৩. ব্রড ব্যান্ড: উচ্চ গতি সম্পন্ন এ ব্যান্ডের ডেটা চলাচলের গতি 1 mbps হতে সর্বোচ্চ কয়েক gbps পর্যন্ত উচ্চ গতি সম্পন্ন হয়ে থাকে। সাধারণত অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল, Digital Satellite Link ক্যাবল, মডেম, রেডিও লিংকে ব্রড ব্যান্ড ব্যবহার করা হয়। ব্রড ব্যান্ড স্পীডের জন্য বাংলাদেশে DSL ক্যাবল মডেমের দাম কম হওয়ায় ব্রড ব্যান্ড প্রচলনই বেশি।