অভিশাপ নয় আশীর্বাদ
আজকের এই তরুণ সমাজ
আজকের তরুণরাই দেশ, সমাজ কিংবা পরিবারের ভবিষ্যত্ কাণ্ডারি। তাদের কণ্ঠেই উচ্চারিত হয় নতুন দিনের গান। তাদের চোখে-মুখে আছে নতুন পৃথিবী গড়ার স্বপ্ন, যৌবনের উদ্দীপনা, সাহসিকতার দুর্বার গতি ও নতুন জীবন রচনার স্বপ্ন। তবুও আমাদের তরুণরা দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে নানা কারণে চরমভাবে হতাশাগ্রস্ত। শিক্ষাখাতে দুর্নীতি বা নিয়োগ বাণিজ্যের কারণে সঠিকভাবে মেধার মূল্যায়ন হচ্ছে না বললেই চলে। ফলে তরুণদের গায়ে পড়ছে বেকারত্ব ও হতাশার ছাপ। তাই এই তরুণ সমাজকে বেকারত্বের অভিশাপে না ফেলে রেখে যত দ্রুত সম্ভব কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে কর্মে নিয়োগের মাধ্যমে আশীর্বাদরূপে গ্রহণ করতে হবে। তবেই আমাদের দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখা ও উন্নয়নের গতি আরও ত্বরান্বিত সম্ভব করা হবে বলে মনে করি।
মো. খলিলুর রহমান
দর্শন বিভাগ (১ম বর্ষ, মাস্টার্স)
কারমাইকেল কলেজ, রংপুর
সত্যি তরুণ
সমাজ আজ
হতাশ
তরুণ সমাজ সকল কালেই সমাদৃত ছিল। কারণ এ বয়স মাথা নোয়াবার নয়। এ বয়সই পারে লাখো সূর্যের হাতছানি এনে দিতে। আবার এ বয়সই কখনো মেতে ওঠে হিংস তায়। হতাশার নীল রং চোখে মেখে ঘটায় জঘন্যতম ঘটনাগুলো, বিনাশ করে নিজের জীবনের সব প্রত্যাশাটুকু। হতাশার দিঘীতে ডুবসাঁতার কাটতে কাটতে একসময় বেছে নেয় আত্মহননের পথ, হয়ত ততক্ষণে অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে এ সমাজের, নিজের তো বটেই। হতাশা কেবল বেড়েই চলছে, যেন সভ্যতার অগ্রগতির সাথে প্রতিযোগিতায় নেমেছে। তাই তরুণ সমাজের বিরাট অংশ বেকারত্বের অভিশাপে দীর্ঘদিন জর্জরিত থাকে। অলস মস্তিষ্ক কখনোই সুফল বয়ে আনে না, তাই নিজের অজান্তেই জড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন অপকর্মে। সুতরাং দেশ তথা জাতিকে এগিয়ে নিতে হলে তরুণ সমাজের এই হতাশা কাটাতেই হবে। এজন্য পরিবার, সমাজ সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
মেঘ
অনার্স, চতুর্থ বর্ষ, সরকারি বিএম কলেজ, বরিশাল
থেমে নেই তরুণরা এগিয়ে যাচ্ছে...
তারুণ্য হচ্ছে অফুরন্ত প্রাণশক্তির আধার। সূর্যোদয়ে যেমন বিশ্বচরাচর আলোয় উদ্ভাসিত হয়,তারুণ্যের আবির্ভাবে সমাজের সমস্ত জরাজীর্ণতা দূর হয়। ’৪৭-এর দেশবিভাগ, ’৫২’র ভাষা আন্দোলন, ’৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধতে আমরা দেখেছি তরুণদের অবদান। তরুণরা দিশেহারা হয়ে যায়নি, তারা সংকটময় সময়ে এক হতে জানে। তরুণ সমাজ আজ দেশের উন্নয়নে কাজ করছে। কেউ বানাচ্ছে বাতাসচালিত মোটর সাইকেল তো আবার কেউ বানাচ্ছে ড্রোন। তরুণরা বসে নেই ঘরে, তারা আলোর মিছিলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তরুণরা কখনোই হতাশ নয়।
চাঁপা চক্রবর্তী
ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট
হতাশার
চাদরে তরুণ
সমাজ
দেশের দুর্যোগপূর্ণ সময় ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ সব বড় মহত্ কাজসমূহে তরুণ সমাজের ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মত। আজও তারা তাদের টগবগে কাজের স্পৃহার মাধ্যমে এগিয়ে নিতে পারে দেশকে। কিন্তু পরিসংখ্যানিক হারটা তুলনামূলকভাবে কম। বিশাল ও বিভিন্ন চাপে তারা আজ বিবেকহীন। হতাশার মহাসমুদ্রে হাবুডুবু খাচ্ছে প্রতিনিয়ত এই তরুণরা। এ হতাশার পিছনে কিছু মোক্ষম হাতিয়ার হল—বেকারত্ব, রাজনৈতিক অস্থিরতা, মাদক। পারিপার্শ্বিক পরিবেশ এ তরুণ সমাজকে খারাপ পথে নিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজট এবং সেই সেশনজট পার করে তরুণ সমাজ চাকরির জন্য দ্বারে দ্বারে দৌড়াতে দৌড়াতে আজ ক্লান্ত। পরবর্তীতে তারা সমাজের কালো জগতে পা বাড়ায়। এভাবে তরুণ সমাজ আজ খুব বেশি হতাশ। শিক্ষিত তরুণরা আজ টাকার জন্য যে কোন ধরনের নিম্ন কাজে নেমে আসতে দ্বিধাবোধ করছে না। এসব তরুণকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে সরকার থেকে শুরু করে সমাজের প্রতিটি স্তরের প্রতিষ্ঠানের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া উচিত।
মো. হাসিবুর রহমান সাফা
ভেটেরিনারি অনুষদ, লেভেল-১, শহীদ শামসুল হক হল. বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
রাজনৈতিক অস্থিরতা সীমাহীন বেকারত্ব তরুণ সমাজকে হতাশ করছে
বাংলাদেশের বিরাজমান সামগ্রিক পরিবেশে তরুণ সমাজ আজ হতাশায় দিন গুনছে। সেখানে রয়েছে রাজনীতিক অস্থিরতা, সীমাহীন দুর্নীতি, শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস, ছাত্র রাজনীতির নামে অছাত্রদের দাপট, লেজুড়বৃত্তিক ছাত্র রাজনীতি, সেশন জট, গণতন্ত্রের অপব্যবহার ইত্যাদি কারণে তরুণ সমাজ আজ হতাশায় হাবুডুবু খাচ্ছে। তাছাড়া দেশের অপরাজনীতির কারণে পরীক্ষায় ভাল ফলাফল করেও তরুণ সমাজ চাকরি পাচ্ছে না অথচ সি গ্রেড নিয়েও ভাল চাকরি পাচ্ছে। চাকরি নামের সোনার হরিণের পিছনে ছুটতে গিয়ে তাদের জীবনকে হতাশায় নিমজ্জিত করে দিচ্ছে। অন্যদিকে সম্প্রতি অপহরণ আতঙ্ক দেশের তরুণ সমাজকে ভাবিয়ে তুলছে। মা তার মেয়েকে স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছে। বাবা তার ছেলেকে স্কুলে পাঠাতে গিয়ে অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছে। কিন্তু কেন ? এমতাবস্থায় সরকারের উচিত জনগণের জানমাল রক্ষার্থে এগিয়ে আসা। এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে বিশেষ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া। অন্যদিকে বিরোধী দলের উচিত সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করা এবং জনগণের ক্ষতি সাধন হয় এমন কর্মসূচি বর্জন করা । তা হলে তরুণ সমাজ ও সাধারণ জনগণ হতাশ হলেও অন্তত সাময়িক দুশ্চিন্তামুক্ত হবে ।
কামাল হোসেন
বিএ (অনার্স), এমএ, ইতিহাস বিভাগ
সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজ, কুমিল্লা
