সকলের জন্য সুবিচার

ভারতের সাবেক প্রধান বিচারপতি যেভাবে দেখেন

আপডেট : ০৫ মে ২০১৪, ২১:২৩
গত ২৮ এপ্রিল আমাদের দেশে ২য় বারের মত জাতীয় আইন সহায়তা দিবস উদযাপিত হয়ে গেল। শ্লোগান ছিল, গরীবের মামলার ভার গ্রহণ করবে সরকার। ইতোমধ্যে একই বিষয়ে সমঝদার ভারতের ৩৯তম ও সাবেক প্রধান বিচারপতি আলতামাস কবির গত ২৪ এপ্রিল ঢাকা ব্র্যাক সুশাসন ও উন্নয়ন ইনস্টিটিউট কর্তৃক আয়োজিত এক সেমিনারে সাবলীল ভাষায় গল্পাকারে (?) আইনের প্রয়োগ ও বিচার ‘সকলের জন্য সুবিচার’ পৌঁছান’ বিষয়ক এক বক্তব্য রাখেন। শুরুতেই ঠাট্টাস্থলে ঢাকা শহরের ট্রাফিক জ্যামে তাঁর অতিষ্ঠ অভিজ্ঞতা দিয়ে বলেন, Transport Don’t move, Same thing in the Administration. তিনি বলেন ন্যায্যতা অবশ্যই সকল জনগণের জন্য হতে হবে। চাই সে ধনী বা গরীব। Justice not only Constitution alone, it is plus. ঝাঁড়খণ্ডের রেললাইনের পাশের মনিকা (এখন ডাক্তার), স্বামী জিতেন শর্মা ও স্ত্রী আশার মধ্যে ঝগড়া, ১৪ বছরের নারী নিকেতনের রূপা এবং কাশ্মীরের তাংসংএ সাংবিধানিক বিচার না পাওয়া এক অসহায় নারীর কথা বিস্তারিত কি, কেন, ক্রিয়া, প্রতিক্রিয়া, জটিলতা, ধারা, উপধারাসহ এর প্রতিকার কি ভাবে করেছেন তা তুলে ধরেন। বিচারপতি কবির কলকাতা থেকে লেখাপড়া ও ১৯৭৩ সালে কলকাতায় আইন পেশা শুরু করেন। ১৯৯০ সালে কলকাতা হাইকোর্টে বিচারক নিয়োজিত হয়ে, সুপ্রিম কোর্ট বেয়ে প্রধান বিচারক’র পদ অলংকৃত করেন। ১৮ জুলাই ২০১৩ থেকে অবসরে যাওয়া ভারতের ৩৯তম ও সাবেক প্রধান বিচারপতি আলতামাস কবির এখন ফের কলকাতাই বসবাস করেন। প্রতিথযশা কবির পরিবারে ১৯৪৮ সালের ১৯ জুলাই জন্ম নেন আলতামাস। তাঁর বর্ণিত ৪টি বিচারের মধ্যে এর অন্তর্নিহিত বিচার ব্যবস্থা অব্যবস্থার বিষয়কে ইচ্ছুক হলে কিভাবে আইন সহজলভ্য করা যায়, তার উপমা দিয়ে তার উপর বার বার গুরুত্ব দেন। এ প্রেক্ষিতে মন, সদিচ্ছা, ক্ষমতা, সকল কিছুকে মিলিয়ে সাধারণ, বিশেষ করে সুবিধা বঞ্চিতদের সুবিচারে প্রবেশ অধিকার বা তাদের নিকট কাছে বিচার পৌঁছানোর কথা বলেন। ১.২২ মিলিয়নের বিশাল ভারতের আর্থ-সামাজিক রাজনৈতিক বৈচিত্র্যতায় বিচারকার্যে, রাজনৈতিক চাপে থাকতে হয় কিনা প্রশ্নের উত্তরে, কাঁধকে বিস্তৃত করে রেখে, তা সামাল দিতে হয় বলেন। কোন রাজনৈতিক চাপ থাকে কিনা প্রশ্ন করলে ‘বলতে গেলে নাই’ উত্তর দেন। আইনের সহায়তাকে গ্রাম/ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, গ্রামে সাধারণ লোক যেমন চিকিত্সার জন্য ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গেলে প্রাথমিক চিকিত্সা দেয়া হয় বা প্রয়োজনে জেলা হাসপাতালে রেফার করে, তেমনি গরীব নিম্ন বর্ণ, অসচ্ছল, প্রতিবন্ধী অসহায় নারী ইত্যাদিরাও তালুক (গ্রাম) পর্যায়ে সালিশি, আইন সহায়তার মাধ্যমে সুবিচার নিশ্চিত করা সম্ভব এবং প্রয়োজনে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মত উচ্চ পর্যায়ে রেফার ও সহায়তা করতে হবে। ধনীরা সব সময়ই কোর্ট কাচারিতে যেতে পারে কিন্তু সাধারণদের সুবিচার উপলব্ধি ও তাদেরকে সাহায্য করার জন্য তাঁর অনুভূতি ও অনুশীলনের কথা বলেন। আর অভিমত দেন যে, এসব কাজে কেউ আগ্রহী না হলে করা যায় না। ‘If you don’t take interest you can’t proceed with it. Justice for all, not for a few. রাজনীতি থাকবে কিন্তু এর মধ্য দিয়েই এগুতে হবে। Needs initiative & commitment. জনাব কবিরের উপস্থাপনা সম্পূর্ণ ইংরেজীতে হলেও অনুষ্ঠান পরিচালক মিঃ আকরাম হোসেনের অনুরোধে প্রশ্ন উত্তর পর্ব বাংলায় অনুষ্ঠিত হয়। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের অ্যাডভোকেট সুলতানা কামালের সভাপতিত্বে প্রায় ডজন ঊর্ধ্ব আইন বিশারদ, মানবাধিকার সংগঠক, নাগরিক, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের সকল প্রশ্ন, মনোযোগ সহকারে গ্রহণ করে সবিশেষ গুরুত্ব ও বাংলায় উত্তর প্রদান করেন। ধনীদের জন্য, ধনীদের কর্তৃক, ধনী শিক্ষায় আইন পেশী, বৈষম্য এবং যাদের আছে তাদের জন্য আইনের সুযোগ-সুবিধা আছে ও তা লাভের। বিপরীতে কতজন বঞ্চিত ও গরীবের দোর গোড়ায় আইন গিয়ে কাজ করা কতটা বাস্তবসম্মত ও সফলতা দিবে? একই সাথে খণ্ডিত- বিক্ষিপ্ত বিশেষ সুবিধা, অধিকার, ছাড় কতটুকু কার্যকর ও সকলের জন্য সুবিচার বয়ে আনতে পারে, এক প্রশ্নের দীর্ঘ উত্তরে তাঁর অভিজ্ঞতা ও বর্ণিত, সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ তুলে ধরে ইচ্ছা, শক্তি ও যার যার স্থলে থেকে প্রান্তিক মানুষের কাছে বিচার নিয়ে যাওয়ার উপরই ‘সকলের জন্য সুবিচার সম্ভব’ বলে পুনরাবৃত্তি করেন। লেখক :প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশ মানবাধিকার সমন্বয় পরিষদ-বামাসপ এবং গুসি আন্তর্জাতিক শান্তি পুরস্কার লরিয়েট ই-মেইল[email protected]

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন