বাংলাদেশের নতুন কোচ কে হবেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ কী করবে; এসব নিয়ে চিন্তার অন্ত নেই। এমনকি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) দারুণ চিন্তিত আরেকটি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) আয়োজন বা টিভিস্বত্ব বিক্রির মতো অর্থকরী সব ব্যাপার নিয়ে। কিন্তু ক্রিকেটারদের ক্রিকেট সংস্কৃতি নিয়ে চিন্তা-ভাবনাটাই এখন সবচেয়ে বেশি জরুরি বলে মনে হচ্ছে।
অশালীন অঙ্গভঙ্গি, অশোভন আচরণ, ঔদ্ধত্যপূর্ণ কথাবার্তা বলে প্রায় সংবাদে পরিণত হওয়া ক্রিকেটাররা বারবার বুঝিয়ে দিচ্ছেন, অর্থ-বিত্তে বাংলাদেশের ক্রিকেট ধনী হওয়ার পথে থাকলেও তারা মানসিক পরিপক্বতায় দিনকে দিন দরিদ্রতর হচ্ছেন। গতকাল আরো একবার ক্রিকেট মাঠে চরম অশালীন আচরণ করে এই উদাহরণ তৈরি করে দিলেন জাতীয় দলের তারকা ও সাবেক অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।
ফর্মহীনতায় ধুকতে থাকা রিয়াদ গত মৌসুমে আরো কয়েকবার আচরণজনিত কারণে আলোচনায় এসেছেন। গতকাল অবশ্য একটা সেঞ্চুরি করে সুযোগ পেয়েছিলেন ইতিবাচক কারণে আলোচনায় আসার। কিন্তু মধ্যাঞ্চলের এই অধিনায়ক সেঞ্চুরি পূরণের পর নিজেদের দলের পৃষ্ঠপোষক ওয়ালটনকে উদ্দেশ্য করে চরম অশালীন ইঙ্গিত করলেন ক্রিকেট ব্যাট দিয়েই!
রিয়াদের এই অশালীন আচরণ দু’ দলের ক্রিকেটারদের সমান ব্যথিত করেছে। স্পর্শকাতর ব্যাপার বলে কেউ নাম প্রকাশ করতে চাইলেন না, তবে তারা বললেন, এমন আচরণ তারা মাঠে দেখে ব্যথিত। এই আচরণে রিয়াদের টিম ম্যানেজমেন্টও বিস্মিত। একই সঙ্গে ব্যাপারটি নজর কেড়েছে ম্যাচের অভিভাবক, ম্যাচ রেফারি শওকাতুর রহমান চিনুর। তিনি ঘটনার পরপরই রিয়াদকে শুনানিতে ডেকেছিলেন। নিজে চোখে যা দেখেছেন, শুনানি শেষেও তার কাছে আচরণটা একইরকম অগ্রহণযোগ্য বলে মনে হওয়ায় বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের বাইলজ অনুযায়ী রিয়াদকে শতভাগ ম্যাচ ফি জরিমানা ও দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ করেছেন তিনি।
ঘটনাটার পূর্বক্রমসহ বর্ণনা পাওয়া গেল মধ্যাঞ্চলে রিয়াদের এক সতীর্থর কাছ থেকে। ম্যাচের প্রথম দিনে অধিনায়ক রিয়াদের নিজের বোলিং ও তার দল পরিচালনা দেখে সেটাকে স্বত্বঃস্ফূর্ত বলে মনে করেননি টিম ম্যানেজমেন্ট ও ওয়ালটন কর্তৃপক্ষ। এই মনে করাটাকে কোচের মাধ্যমে গতকাল সকালে রিয়াদকে জানানো হয়েছিল। তাতেই রিয়াদ চটে যান। আর সেঞ্চুরি করে সুযোগ পেতেই তিনি ব্যাট দিয়ে অত্যন্ত অশোভন এক ভঙ্গি করেন জার্সিতে লেখা স্পন্সরের নামে ইঙ্গিত করে।
এ ব্যাপারে কথা বলতে চাইলে দলের কোচ মিজানুর রহমান বাবুল বিব্রত বোধ করে কথা বলতে রাজী হননি। কথা বলার জন্য অনেকবার চেষ্টা করেও ফোনে পাওয়া যায়নি রিয়াদকে। তবে টিম ম্যানেজার ও জাতীয় দলের সাবেক খেলোয়াড় সানোয়ার হোসেন তার বিস্ময় ও নিন্দা চেপে রাখলেন না, ‘এই অশোভন ভঙ্গি যে কোনো ক্রিকেটারের কাছ থেকেই অগ্রহণযোগ্য ও নিন্দনীয়। তারপর সে দলের অধিনায়ক, তাকে নিজের আবেগ সামলে রাখতে পারতে হবে। এরপরও অনেক ব্যাপার আছে। রিয়াদ জাতীয় দলের একজন তারকা, সে তরুণ ক্রিকেটারদের কাছে হবে আদর্শ। আজ বিকেএসপিতে খেলা হচ্ছে। এখানে ছোট বাচ্চারা খেলা দেখতে এসেছিল। তারা একজন তারকার কাছ থেকে এই আচরণ থেকে কী শিখলো! দ্বিতীয় কথা হল, ওয়ালটন বা যে কোনো পৃষ্ঠপোষকরা হল খেলার প্রাণ। তাদের এভাবে প্রকাশ্যে অপমান করাটা খুব অবাঞ্ছনীয়।’
উল্লেখ করা যেতে পারে, এর আগে জাতীয় লিগেরও শেষ পর্বে এসে অশোভন আচরণের দায়ে শাস্তি পেতে হয়েছিল মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে।
