নিজে অনেকবার বলেছেন, বাংলাদেশের হেড কোচ হওয়াটা তার কাছে স্বপ্নের চেয়েও বড় ব্যাপার ছিল। সেই স্বপ্নটার শুরু দারুণ করেছিলেন শেন জার্গেনসেন। কিন্তু হঠাত্ দলের বাজে পারফরম্যান্স আর মাঠের বাইরের কিছু ঘটনা মিলিয়ে শেষ হয়ে গেল বাংলাদেশে জার্গেনসেন অধ্যায়। গতকাল বিদায়ের দিনে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের বিনয়ী, সদালাপী ভাবমূর্তি ধরে রেখেই বলে গেলেন—কারো ওপর তার কোনো রাগ নেই।
বিসিবির সঙ্গে বৈঠকের ফলাফলটা কী হল? থাকছেন আপনি?
দেখুন, প্রেসিডেন্টের (বিসিবি সভাপতি) সঙ্গে দারুণ ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আমাদের মধ্যে যেসব মতবিরোধ ছিল, আদৌ কোনো মতবিরোধ ছিল কি না; এসব নিয়ে আলাপ হয়েছে। আমরা জাতীয় দল নিয়ে, ভবিষ্যত্ নিয়ে আলাপ করেছি। সংবাদ মাধ্যমে যেসব কথা এসেছে, তাও পরিষ্কার করা হয়েছে। বলতে পারি, বেশ ভালো আলোচনা করা হয়েছে।
তাহলে আপনি কী থাকছেন?
আমি বলেছি, আমি পদত্যাগই করতে চাই। তবে সেটা কখন কার্যকর হবে, তা বোর্ড ঠিক করবেন। তারাই ঠিক করবেন, আমি কী এখনই চলে যাবো, নাকি ভারতের সিরিজটা করে যাবো।
আপনি যেহেতু থাকতে রাজীই হলেন না, তাহলে আলোচনাকে ফলপ্রসূ বলছেন কেন!
আসলে সংবাদ মাধ্যমে কিছু ব্যাপার এসেছিল, যা কিছুটা বিতর্কিত। সেটা পরিষ্কার করাতেই আমি ফলপ্রসূ বলতে চেয়েছি।
আপনাকে কী বিশ্বকাপ পর্যন্ত থাকতে বলা হয়েছিল?
হ্যাঁ। বলা হয়েছিল আমি কী অন্তত বিশ্বকাপটা শেষ হওয়া পর্যন্ত কাজ করে যেতে রাজী আছি কি না।
আপনি রাজী হলেন না...
না। আমি আমার অবস্থানটা বলেছি। আমি পদত্যাগ করেছি, সেটাই করতে চাই। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এটাই আমার অবস্থান। আমি তাদের বলেছি, আমাকে এই প্রস্তাব দেয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ। কিন্তু আমি কাজ চালিয়ে যেতে চাই না। তাদেরকে আমি দুটো অপশন দিয়েছি—তারা আমাকে আজই ছেড়ে দিতে পারেন, অথবা ভারতের বিপক্ষে সিরিজ পর্যন্ত রাখতে পারেন।
একটু বলবেন, আসলে আপনার এই শক্ত অবস্থানের কারণটা কী? কেন পদত্যাগ করলেন?
সহজ করে বললে বলা যায়, দলের ভালোর জন্যই পদত্যাগ করেছি। আমি সবসময়ই একজন টিমম্যান। এখন আমি না থাকাটা যদি দলের সেরা ফল নিয়ে আসতে পারে, সেটাই ভালো। আমার মনে হল, আমি অদৃশ্য হয়ে গেলে ছেলেরা নিজেদের বোধহয় আরো ভালো প্রস্তুত করতে পারবে। সেটাই করতে চেয়েছি।
এটাই আপনার পদত্যাগের একমাত্র কারণ!
অনেক কারণ মিলিয়েই তো ব্যাপারটা হয়েছে। তবে আমি বেশি কিছু বলতে চাই না। আমি আসলে কথার লড়াই পছন্দ করি না। আমার ব্যক্তিগত কারণটা বলি। আমার ছোট্ট একটা পরিবার আছে; ছোট ছোট বাচ্চারা আছে, স্ত্রী আছে। ছয় বছর ধরে এখানেই তো আছি। আমি স্ত্রীকে আর বাচ্চাদের বললাম, দেশে ফিরে আসতে চাই। ওরা যে আনন্দ পেল! এটা নিশ্চয়ই আসল কারণ নয়। তবে এটা বড় ব্যাপার। একটা কথা আপনাদের নিশ্চিত করি, সংবাদ মাধ্যমের কোনো লেখা আমাকে সিদ্ধান্ত নিতে উদ্বুদ্ধ করেনি। এটা অন্য অনেক কিছু মিলিয়ে হয়েছে।
মাঠের পারফরম্যান্স আপনাকে প্রভাবিত করেছে?
না। বলা যায়, মাঠের বাইরের ঘটনাতেই আমি উপলব্ধিটা করতে পেরেছি এবং আমার ভবিষ্যত বুঝতে পেরেছি। মাঠের কথা বললে আমি ক্রিকেটারদের প্রতি কৃতজ্ঞ যে তারা আমাকে প্রতিটা মুহূর্তে সমর্থন করে গেছে।
কোনো চাকরিতে যোগ দিচ্ছেন?
এখনই হয়তো না। দেশে কিছু কাজের সুযোগ আছে। আলোচনা করতে হবে। দেখা যাক।
যাওয়ার সময় ক্রিকেটারদের বা বোর্ডকে সামনের সময়ের জন্য কিছু বলে যাচ্ছেন?
পরামর্শ? হা হা হা... আমি অনেক পরিকল্পনা দিয়েছি। এমনকি ভবিষ্যত্ কোচ কে হতে পারেন, সে নিয়েও কথা বলেছি। ক্রিকেটারদের কাছে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছি। বিসিবিকে ধন্যবাদ দিচ্ছি, তারা আমাকে আমার স্বপ্নের চেয়েও বড় ব্যাপার, একটি টেস্ট দলের পূর্ণাঙ্গ কোচ হওয়ার সুযোগ দিয়েছিলেন। বাংলাদেশের সমর্থকদের যে অবিশ্বাস্য সমর্থন দেখেছি, সে জন্যও সবাইকে ধন্যবাদ দিচ্ছি।
