ফাইনালে দক্ষিণাঞ্চল

আপডেট : ০৫ মে ২০১৪, ২২:২৫
এই রাউন্ডের আগেও প্রাইম ব্যাংক দক্ষিণাঞ্চলের ফাইনালে ওঠার রাস্তাটা ছিল প্রায় অসম্ভব। কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের তৃতীয় দিনে সেই অসম্ভব পথটাকেই সহজ করে দিলেন দক্ষিণাঞ্চলের অধিনায়ক আব্দুর রাজ্জাকের। এই অফ স্পিনারের বোলিং ঘূর্ণিতে ইসলামী ব্যাংক পূর্বাঞ্চলকে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছে গেল দক্ষিণাঞ্চল। আর ফাইনালের অপর দল হবার জন্য লড়াইয়ে আছে বিসিবি উত্তরাঞ্চল ও ওয়াল্টন মধ্যাঞ্চল। শেষ দিনে জয়ের জন্য নয় উইকেট হাতে নিয়ে মধ্যাঞ্চলের দরকার ২৬৫ রান। রাজ্জাকের স্পিন জাদু সামপ্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার পারফরম্যান্স যেমনই থাকুক না কেন ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রতিনিয়তই পারফরম করে যাচ্ছেন অফ স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক। বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) তৃতীয় রাউন্ডের ম্যাচেও দুই ইনিংস মিলিয়ে নিলেন নয় উইকেট। আর এর সুবাদেই ইসলামী ব্যাংক পূর্বাঞ্চলের বিপক্ষে ছয় উইকেটের জয় নিয়ে ফাইনালে পৌঁছে গেল প্রাইম ব্যাংক দক্ষিণাঞ্চল। দ্বিতীয় নয় উইকেট হাতে নিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের চেয়ে ১০৩ রান পিছিয়ে ছিল পূর্বাঞ্চল। গতকাল তারা অল আউট হবার আগে করে ৩৪১ রান। সর্বোচ্চ ৯৮ রান করেন ওপেনার সাদমান ইসলাম। এছাড়া লিটন কুমার ৭০, মুমিনুল হক সৌরভ ৫২ রান করেন। আব্দুর রাজ্জাক একাই নিয়েছেন পাঁচটি উইকেট। শুভাগত হোম তিনটি ও সোহাগ গাজী দুটি উইকেট নেন। মাত্র ১০১ রানের সহজ লক্ষ্যে পৌঁছাতে মাত্র চারটি উইকেট হারায় দক্ষিণাঞ্চল। ওপেনার এনামুল হক বিজয় সর্বোচ্চ ৬৩ রান করেন। চারটি উইকেটই পেয়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন। লড়াইয়ে ফিরলো মধ্যাঞ্চল প্রথম ইনিংসে ৪৫৭ রানের পাহাড়। সেখান থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৮৭ রানে অল আউট। তাও আবার নয় নম্বর পজিশনে ব্যাট করতে নেমে ফরহাদ রেজা করেছেন ৪৯! একটা সময় মাত্র ৩৬ রানের মধ্যেই নয়টি উইকেট হারিয়ে ফেলে বিসিবি উত্তরাঞ্চল। সেখান থেকে চতুর্থ দিনে জয়ের যে কিছুটা আশা এখনও আছে তা ওই রেজার কল্যাণেই। দ্বিতীয় ইনিংসে উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা করেন অফ স্পিনার ইলিয়াস সানি। পাঁচটি উইকেট আছে তার ঝুলিতে। শাহাদাত হোসেন ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ দুটি করে উইকেট নেন। এর আগে অবশ্য দিনের পুরোটা ভাগেই আলো ছড়িয়েছেন আরেক অফ স্পিনার তাইজুল ইসলাম। তার ছয় উইকেটের সুবাদে নিজেদের প্রথম ইনিংসে অল আউট হবার আগে ওয়াল্টন মধ্যাঞ্চল করে ২৭৮ রান। সর্বোচ্চ ১০৫ রান আসে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের ব্যাট থেকে। এছাড়া সামশুর রহমান শুভ করেন ৪৪ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে ২৬৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই একটি উইকেট হারিয়ে বসেছে মধ্যাঞ্চল। ওপেনার আব্দুল মজিদকে ফিরিয়ে দিয়েছেন সেই তাইজুল ইসলাম। নয় উইকেট হাতে নিয়ে জয়ের জন্য এখনও ২৬৫ রান দরকার মধ্যাঞ্চলের। সংক্ষিপ্ত স্কোর ওয়াল্টন মধ্যাঞ্চল-বিসিবি উত্তরাঞ্চল টস: বিসিবি উত্তরাঞ্চল বিসিবি উত্তরাঞ্চল প্রথম ইনিংস: ১৪৯.২ ওভারে ৪৫৭ অল আউট (ফরহাদ হোসেন ১০৯, তানভির হায়দার ৬৬, জুনায়েদ সিদ্দিক ৬৫, হামিদুল ইসলাম ৬০, ফরহাদ রেজা ৪৯ নাঈম ইসলাম ৩৮; নাসির হোসেন ৩৬; ইলিয়াস সানি ৪/১১১, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ৩/১২৭, মোশাররফ হোসেন রুবেল ২/৭৩ মার্শাল আইয়ুব ১/২৯) ও দ্বিতীয় ইনিংস ২৭.১ ওভারে ৮৭ অল আউট (ফরহাদ রেজা ৪৯, তাইজুল ইসলাম ১৪, তানভির হায়দার ১০; ইলিয়াস সানি ৫/৪৪, শাহাদাত হোসেন ২/১১, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ২/১৭) ওয়াল্টন মধ্যাঞ্চল প্রথম ইনিংস: ৮২ ওভারে ২৭৮ অল আউট (মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ১০৫*, সামশুর রহমান শুভ ৪৪, আসিফ আহমেদ রাতুল ৩৩, আব্দুল মজিদ ৩১, নূরুল হাসান ২৯; তাইজুল ইসলাম ৬/৮৮, তানভির হায়দার ২/৫৪, সাঞ্জামুল ইসলাম ১/৫৫ ফরহাদ রেজা ১/১২) ও দ্বিতীয় ইনিংস ২ ওভারে ১/১ (রনি তালুকদার ০*, ইলিয়াস সানি ০*; তাইজুল ইসলাম ১/১) প্রাইম ব্যাংক দক্ষিণাঞ্চল - ইসলামী ব্যাংক পূর্বাঞ্চল টস: ইসলামী ব্যাংক দক্ষিণাঞ্চল ইসলামী ব্যাংক দক্ষিণাঞ্চল প্রথম ইনিংস: ৬৯.৪ ওভারে ১৩৫ অল আউট (অলোক কাপালী ৫৬, সাদমান ইসলাম ৩৩, লিটন কুমার ১৩, মোসাদ্দেক হোসেন ১৩; আব্দুর রাজ্জাক ৪/৩৪, সোহাগ গাজী ৩/৪১) ও দ্বিতীয় ইনিংস: ১০২.৩ ওভারে ৩৪১ অল আউট (সাদমান ইসলাম ৯৮, লিটন কুমার ৭০, মুমিনুল হক সৌরভ ৫২, ধীমান ঘোষ ২৮, নাজিম উদ্দিন ২৭; আব্দুর রাজ্জাক ৫/৯৫, শুভাগত হোম ৩/৬৫, সোহাগ গাজী ২/৯৩) প্রাইম ব্যাংক পূর্বাঞ্চল প্রথম ইনিংস: ৯০.৩ ওভারে ৩৭৬ অল আউট (মিথুন আলী ৭৭, সৌম্য সরকার ৭১, সোহাগ গাজী ৬৪, এনামুল হক বিজয় ৫৯, ইমরুল কায়েস ৩৮, আব্দুর রাজ্জাক ২৮; এনামুল হক জুনিয়র ৫/১২৬, মোসাদ্দেক হোসেন ৩/৬৫, মুমিনুল হক সৌরভ ২/৪৩) ও দ্বিতীয় ইনিংস ১৯ ওভারে ১০৩/৪ ( এনামুল হক বিজয় ৬৩, সৌম্য সরকার ১০; মোসাদ্দেক হোসেন ৪/৩৩) ফল: প্রাইম ব্যাংক পূর্বাঞ্চল ছয় উইকেটে জয়ী।