তিন দফায় এগিয়ে থেকেও ক্রিস্টাল প্যালেসের মাঠে লিভারপুলের ৩-৩ ড্রয়ে বাধ্য হওয়ায় আরো সুবিধাজনক অবস্থায় উঠে এলো ম্যানচেষ্টার সিটি। শুধু তাই নয় আজ বুধবার রাতে সিটি যদি নিজ মাঠে অ্যাস্টন ভিলাকে হারিয়ে দেয় তাহলে মরু ধনকুবেরদের দলটি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপার নাগালের মধ্যে চলে আসবে।
লিভারপুল ভক্তদের গত সোমবার রাতে হয়তো মনে পড়ে গিয়েছিল ২০০৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালের কথা। তিন গোলে পিছিয়ে থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধে প্রত্যাবর্তনের অবিশ্বাস্য এক গল্প লিখে সেই রাতে এসি মিলানকে হারিয়ে ট্রফি জিতেছিল লিভারপুল। ক্রিস্টাল প্যালেসের মাঠে গত সোমবার প্রায় একই ঘটনার পুনর্মঞ্চায়নই দেখলেন অল রেডস সমর্থকরা। তবে নিয়তির পরিহাসে এবার তাদের হতাশ হয়েই মাঠ ছাড়তে হলো। তিন গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ দশ মিনিটে তিন গোল হজম করে ক্রিস্টাল প্যালেসের সঙ্গে ড্র করলো লিভারপুল। আর এই ড্রতে দুই যুগ পর লিগ শিরোপা জেতার স্বপ্ন ম্লান হয়ে গেল তাদের।
প্যালেসের বিরুদ্ধে এই ড্রর পর শিরোপা জিততে এখন নিজেদের জয়ের পাশাপাশি ম্যানচেষ্টার সিটির হারেরও আশা করতে হবে লিভারপুলের। একটি মাত্র খেলা অবশিষ্ট থাকা লিভারপুলের পয়েন্ট এখন ৮১। অপরদিকে ৩৬ ম্যাচ খেলে সিটির অর্জন ৮০ পয়েন্ট। সিটির শেষ দুই খেলায় ওয়েস্ট হ্যাম এবং অ্যাস্টন ভিলার বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে খেলবে। তবে এ দুটির কোন একটিতে জয় এবং অপরটি ড্র হলেও ২০১২ সালের পর আবার শিরোপা উঠবে সিটির হাতে।
কারণ, লিভারপুল যদি অ্যানফিল্ডে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচ জেতেও সেক্ষেত্রে দুই দলেরই পয়েন্ট দাঁড়াবে ৮৪। কিন্তু, শ্রেয়তর গোল ব্যবধানে এগিয়ে আছে সিটি। আর লিভারপুল-সিটি দু’দলই যদি তাদের অবশিষ্ট ম্যাচগুলো হেরে যায়, তাহলেই কেবল সুযোগ আছে পয়েন্ট টেবিলে তৃতীয় স্থানে থাকা চেলসির। এক ম্যাচ বাকি থাকতে যাদের পয়েন্ট ৭৯। অর্থাত্ কাগজে কলমে সুযোগ থাকলেও বাস্তবে লিভারপুলের শিরোপা জেতার সম্ভাবনাটা কঠিনই বলা চলে।
অথচ, সেলহার্স্ট পার্কে এই রাতে শুরুটা দারুণই হয়েছিল লিভারপুলের। রেডসদের হয়ে জো অ্যালেনের প্রথম গোলে ম্যাচের ১৮ মিনিটেই এগিয়ে যায় লিভারপুল। এরপর, দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ড্যানিয়েল স্টারিজের গোলে ব্যবধান বাড়ায় তারা। মিনিট দুয়েক পরেই সফরকারীদের তৃতীয় গোলটি আসে স্টারিজের আক্রমণ সহযোগী লুইস সুয়ারেজের কাছ থেকে। অসুস্থতা সত্ত্বেও মাঠে নামা এই উরুগুইয়ানের লিগে এই মৌসুমে এটা ছিল ৩১তম গোল।
ব্যবধান কমাতে মরিয়া স্বাগতিকদের প্রথম গোলে ছিল সৌভাগ্যের ছোঁয়া। ম্যাচ শেষ হওয়ার ১১ মিনিট আগে ড্যামিয়েন ডেলানির জোড়ালো শট লিভারপুলের রক্ষণে বাধা পেয়ে দিক পাল্টে জালে প্রবেশ করে। এর মিনিট দুয়েক পরেই দারুণ এক পাল্টা আক্রমণ থেকে দ্বিতীয় গোলটিও পেয়ে যায় তারা। গোল করেন ডুয়েট গেইল। ব্যবধান ধরে রাখতে মরিয়া লিভারপুলকে শেষ আঘাতটিও করেন গেইলই। বদলি খেলোয়াড় গ্লেন মারের কাছ থেকে পাওয়া বলকে ঠান্ডা মাথায় লিভারপুল গোলরক্ষকের দু’পায়ের মধ্য দিয়ে জালে জড়ান এই ব্রিটিশ।
