খেলায় ফিরলেন সেই মোদী

আপডেট : ০৬ মে ২০১৪, ২১:৫৯
++নির্বাসনে থেকেই রাজস্থানের সভাপতি নির্বাচিত মোদী ++রাজস্থানকে সঙ্গে সঙ্গে বহিষ্কার করেছে ভারতীয় বোর্ড ++লড়াই এবার আদালতে হবে বলে মোদীর হুঙ্কার নিজেরই সাবেক সঙ্গীদের দ্বারা নিষিদ্ধ হয়ে এখন লন্ডনে নির্বাসনে আছেন। মাথার ওপর গ্রেপ্তারের আতঙ্ক নিয়ে দেশ ছাড়া হওয়া ভারতীয় ক্রিকেটের সেই বিতর্কিত সংগঠক লোলিত কুমার মোদি আবারও দারুণ আলোচনায় চলে এলেন। নির্বাসনে থেকেই আদালতের নজরদারিত্বে অংশ নিয়েছিলেন তিনি রাজস্থান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের (আরসিএ) নির্বাচনে। নির্বাচনের ফলাফল স্থগিত রাখার পর গতকালই আদালতের নির্দেশে তা প্রকাশিত হয়। সেই ফলাফলে দেখা গেছে বিপুল ব্যবধানে আরসিএ’র সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন সেই মোদী! সভাপতি নির্বাচিত হয়েই লন্ডন থেকে হুঙ্কার ছেড়েছেন নিজের সাবেক পৃষ্ঠপোষক ও বর্তমান ঘোষিত শত্রু, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) পদচ্যুত সভাপতি এন শ্রীনিবাসনকে এবার তিনি ‘নকআউট’ করতেই ফিরবেন দেশে। পাশাপাশি তিনি পরিষ্কার করে দেন যে, শ্রীনিবাসনকে দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দেয়া বিহার ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের মামলার নেপথ্যে এতোদিন তিনিই ছিলেন। এবার সামনে এসে লড়বেন। মোদী এই হুঙ্কার দেয়ার কয়েক মিনিটের মাথায় ‘নিষিদ্ধ’ মোদীকে নির্বাচিত করায় খোদ আরসিএ-কেই বহিষ্কার করে দিয়েছে বিসিসিআই। তারা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে, এই বিতর্কিত নির্বাচনের ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত একটি আহবায়ক কমিটি করে দেবে তারা আরসিএ-তে। মাত্র কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে এই ঘটনাগুলো শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা সময় বলবে। তবে এটা পরিষ্কার যে, আইপিএল দুর্নীতি নিয়ে ভারতীয় ক্রিকেটে যে ভয়ঙ্কর খেলা শুরু হয়েছে, সেটা এবার চরম আকার পেতে যাচ্ছে। একসময় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সমস্ত সু ও কু কাজের ‘মাস্টার মাইন্ড’ এবং শরদ পাওয়ার, শ্রীনিবাসনদের ডান হাত লোলিত মোদীকে গত বছর সেপ্টেম্বরে বিসিসিআই নিষিদ্ধ করে ‘ভয়ঙ্কর অসদাচরণ ও উচ্ছৃঙ্খলতা’র দায়ে। বিসিসিআইয়ের এই কর্মকর্তা একাধারে আইপিএলের স্রষ্টা ও চেয়ারম্যান হিসেবে ভারতীয় ক্রিকেটে দুর্নীতি, অসাধুতা ও উচ্ছৃঙ্খলতা টেনে আনার জন্য নিন্দিত এবং বোর্ডের কাছে নন্দিত ছিলেন বিপুল অর্থের উত্সব তৈরি করে দেয়ায়। কিন্তু কালক্রমে ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী থেকে শুরু করে বিসিসিআই সভাপতি শ্রীনিবাসনের সঙ্গে গোলমালে জড়িয়ে পড়েন মোদী। ফলে ক্ষমতা হারান, বহিষ্কৃত হন এবং দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। সেই থেকে মোদী কয়েক দফা বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় ক্রিকেটে শেকড় গাড়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু ভারতীয় বোর্ডের দাপটে তা পারেননি। এরপর তিনি সিদ্ধান্ত নেন আরসিএ নির্বাচনে লড়বেন। তার নির্বাচনে লড়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয় সুপ্রিম কোর্টে। সুপ্রিম কোর্ট মোদীকে বৈধ বলে রায় দিয়ে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ও তদারকির জন্য সাবেক বিচারপতি এনএম কাসলিওয়ালকে দায়িত্ব দেয়া হয়। পরে জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফল সিলগালা করে আদালতে রাখা হয়। আর গতকাল সেই ফলাফল ঘোষিত হলে দেখা যায় ৩৩ ভোটের মধ্যে ২৪ ভোট পেয়ে ভূমিধস বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছেন মোদী। সঙ্গে তার প্যানেল থেকেই সাধারণ সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ, সহ-সভাপতিও নির্বাচিত হয়েছেন। এই নির্বাচিত হওয়ার পরই লন্ডন থেকে দেয়া সাক্ষাত্কারে মোদী পরিষ্কার বলেছেন, ‘বিসিসিআই আমাকে নিষিদ্ধ করায় আমি আরও জেদি হয়ে উঠেছিলাম। আমাকে প্রমাণ করতে হত যে, আমাকে নিষিদ্ধ করা মানেই আমি শেষ নই। আমি আবার ফিরে এসেছি।’ তিনি এটাও বলেছেন যে, এই জয়ের ভেতর দিয়ে বিসিসিআইতে ফেরার যাত্রা শুরু করতে চান তিনি। মোদী বলেছেন, তার লড়াই এখন পরিষ্কার শ্রীনিবাসন ও তার দুর্নীতির বিপক্ষে, ‘শ্রীনিবাসনরা তো এখন সবকিছু ফিক্সিং করতে উঠে পড়ে লেগেছে; সেটা খেলা হোক, মিটিং হোক আর আইসিসি হোক। এটা মেনে নেয়া যায় না। আমি আর চুপ থাকতে পারি না।’ এতোদিন অনুমান ছিল যে শ্রীনিবাসনকে ক্ষমতাচ্যুত করা সুপ্রিম কোর্টের মামলার পেছনে এই মোদীর হাত আছে। মোদী এবার সগর্বে বলে দিলেন, ‘হ্যাঁ, আমি সিএবিকে সহযোগিতা করেছি, পরামর্শ দিয়েছি, নথিপত্র দিয়েছি। তারা একটা লোকের ঘোর অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। আমরা পাশে না দাঁড়ালে কে দাঁড়াবে?’ একই সঙ্গে মোদী বলছেন, এবার ভারতে সরকার বদল হলে তিনি দেশে ফিরে এমন একটা নাড়া দেবেন যে, শ্রীনিবাসনই উল্টে নির্বাসনে চলে যাবেন। তার বিশ্বাস বিসিসিআইয়ের ভেতরেই তার পক্ষে অনেক লোক আছেন। আর তার নির্বাচনের ফলে আরসিএ-কে যে নিষিদ্ধ করা হবে, এটাও অনুমান করতে পেরেছিলেন তিনি। ফলে আগেই জানান দিয়ে রেখেছিলেন, ‘আমি লড়াইয়ে ভয় পাই না। কী করবে ওরা? নিষিদ্ধ করবে? করতে দেন। লড়াই এখনও বাকি আছে।’ খেলা তাহলে আসলেই জমলো!