প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে ওঠা বসনিয়া-হারজেগোভিনা কোচ সাফেত সুসিচ আশা করছেন ব্রাজিলে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে তার দল শেষ ১৬ নিশ্চিত করতে পারবে। ২০১৪ বিশ্বকাপের জন্য ২৪ সদস্যের প্রাথমিক দল ঘোষণা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই একটা লক্ষ্য থাকতে হবে এবং সেটা হলো দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার চেষ্টা করা।
এবারের বিশ্বকাপের জন্য বসনিয়রাই প্রথম দল ঘোষণা করল। দলে আছেন তাদের বড় দুই তারকা স্ট্রাইকার ম্যানচেস্টার সিটির এডিন জেকো ও জার্মানির স্টুটগার্টে খেলা ভেদাদ ইবিসেভিচ এবং স্টোক সিটির গোলরক্ষক আসমির বেগোভিচ। গত সোমবার দল ঘোষণার পর ৫৯ বছর বয়সী বসনিয় কোচ সাফেত আরো বলেন,‘আমরা দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলবো। আমি বিশ্বাস করি আমরা ব্রাজিলে নিজেদেরকে সেরা ১৬টি দলের মধ্যে দেখতে পাবো।’
বিশ্বকাপের দলগুলোকে অবশ্য ২ জুনের মধ্যে সর্বোচ্চ ২৩ জনে নামিয়ে আনতে হবে। কিন্তু মার্চে ইনজুরির কবলে পড়া মিডফিল্ডার মেনসুর মুজদজা ফিট হয়ে ওঠার জন্য এখন সময়ের সাথে লড়ছেন। এখন দেখার বিষয় বাদ পড়তে যাওয়া একমাত্র খেলোয়াড়টি কি মেনসুরই হন কিনা।
সুসিচের মতে ‘এফ’ গ্রুপে থাকা দল চারটির মধ্যে আর্জেন্টিনাই হলো ‘মূল ফেবারিট’। এছাড়াও এই গ্রুপে আছে নাইজেরিয়া ও ইরান।
বসনিয়রা ১৫ জুন রিও ডি জেনিরোতে আর্জেন্টিনার মোকাবেলার মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের অভিষেক ঘটাবে। এর ছয়দিন পর কুইয়াবায় খেলবে নাইজেরিয়ার সাথে। তাদের শেষ খেলা পড়েছে ২৫ জুন ইরানের বিরুদ্ধে।
এক সময়ের যুগোশ্লাভিয়া থেকে ১৯৯২ সালে স্বাধীনতা পাওয়া বসনিয়া দলটিকে ২০০৯ সালে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে ধীরে-ধীরে গড়ে তোলেন সুসিচ।
জেকো এবং ইবিসেভিচ হলেন বিশ্বকাপের ইউরোপীয়ান বাছাই পর্বে বসনিয়ার হয়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা। দুজনের গোল যথাক্রমে দশ ও আটটি। তবে সুসিচ জানিয়েছেন আর্জেন্টিনার খেলায় লিওনেল মেসিকে সামলানোর কঠিন দায়িত্বটি থাকবে হাঙ্গেরির ফেরেঙ্কভারোসে খেলা মুহামেদ বেসিচ। এ ব্যাপারে বসনিয় কোচ বলেন, ‘২৪ জনের মধ্যে সেই হলো একমাত্র খেলোয়াড় যে কিনা মেসিকে থামাতে পারে।’ এই খেলোয়াড়দের নিয়ে ১৫ মে থেকে সারায়েভোতে প্রথম অনুশীলন ক্যাম্প শুরু হবে। এরপর ২৭ মে দলটি যুক্তরাষ্ট্রে উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেবে। সেখানে ৩০ মে আইভরি কোস্ট এবং এর চারদিন পর মেক্সিকোর সাথে দুটি অনুশীলন ম্যাচ খেলবে বসনিয় দল।
গোলরক্ষক
আসমির বেগোভিচ (স্টোকসিটি/ ইংল্যান্ড), আসমির অ্যাভডুকিচ (বোরাচ বানিয়া লুকা/ বসনিয়া), জাসমিন ফেজজিচ (ভিএফআর অ্যালেন/ জার্মানি)।
রক্ষণভাগ
এমির স্পাহিচ (লেভারকুসেন), টনি সুনজিচ (জরিয়া লুগানস্ক/ ইউক্রেন), সিয়াদ কোলাসিনাচ (শালকে/জার্মানি), অগনিয়েন ভ্রানজেস (এলাজিগসপোর/ তুরস্ক), এরভিন জুকানোভিচ (জেন্ট/ বেলজিয়াম), এরমিন বিচাকচিচ (আইনট্রাখট ব্রাউনশিয়েগ/ জার্মানি), মুহামেদ বেসিচ (ফেরেনকভারোস/ হাঙ্গেরি)।
মিডফিল্ডার
মিরালেম জেনিচ (রোমা/ ইতালি), ইজেত হ্যাজরোভিচ (গ্যালাতাসারায়/ তুরস্ক), মেনসুর মুজডা (ফ্রেইবুর্গ/ জার্মানি), হ্যারিস মেদুনজানিন (গ্যাজিয়ানটেপস্পোর/ তুরস্ক), সেনাদ লুলিচ (ল্যাজিও), এনেল হাদজিচ (স্টারর্ম/ অস্ট্রিয়া), টিনো সুচিচ (হাজডুক/ ক্রোয়েশিয়া), সেজাদ সেলিহোভিচ (হফেনহেইম/ জার্মানি), ভেজডান মিচিমোভিচ (গুইজোর রেনহে), সেনিজাদ ইবরিসিচ (এরসিয়েসপোর/ তুরস্ক), এডিন ভিচকা (স্টানবুল বিবি), আভদিজা ভ্রাসালজেভিচ (হাজদুক/ ক্রোয়েশিয়া।
আক্রমণভাগ
ভেদাদ ইবিসেভিচ (ভিএফবি স্টুটগার্ট/ জার্মানি), এডেন জেকো (ম্যানচেস্টার সিটি/ইংল্যান্ড) ও এডিন ভিসচা (ইস্তাম্বুল বিবি/ তুরস্ক)।
