হতাশার মাঝে
আশার আলো
খুঁজছি
আমরা তরুণ সমাজ আজ হতাশ। দেশের সার্বিক পরিস্থিতির কারণে হতাশার সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছি। স্বাধীনতার পরে প্রায় ৪৪ বছর কেটে গেল। কিন্তু আজো আমরা বিতর্ক করছি। কে ছিল স্বাধীনতার ঘোষক? কিংবা কে ছিল প্রথম প্রেসিডেন্ট? যখন শুনি কোন বিশেষ দল বা মতের লোকের শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন হয় না। তখন হতাশ না হয়ে পারি না। একজন ছাত্র হিসাবে তরুণ সমাজের পক্ষে বলতে চাই যে, যখন দেখি প্রাইমারী পরীক্ষা থেকে শুরু করে চাকরির পরীক্ষা পর্যন্ত সব প্রশ্নপত্র টাকা কিংবা ক্ষমতাবলে ফাঁস হয় তখন অবাক না হয়ে পারি না। যখন দেখি, আমার মতই একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তার সহপাঠীর হাতে খুন হয়, তখন হতাশা ছাড়া আমাদের কি করার আছে। আবার যখন দেখি, উচ্চশিক্ষিত প্রায় ৫০% বেকার, ইভটিজিং-এর হার বেশি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তখন হতাশ হয়ে ভাবি, কি দরকার এই উচ্চশিক্ষার? সর্বোপরি তরুণ সমাজের পক্ষ থেকে বলবো, আমরা হতাশার মাঝে থাকলেও হতাশা কাটানোর মত সক্ষমতা আমাদের আছে। আমরা একদিন সব হতাশাকে জয় করে সোনার বংলাদেশ গড়বো। নিপাত যাক সব অন্যায় অবিচার।
এম এ রহমান হাওলাদার
বিএসএস (অর্নাস) ৩য় বর্ষ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।
০০০০০০০০০০০
অধিকাংশ তরুণই
আজ হতাশ
জাতীয় সমস্যার কারণে একজন ছাত্রের মাস্টার্স পাস করতে সময় লেগে যায় ২৭-২৮ বছর। দু’বছর পায় চাকরি পাওয়ার সুযোগ। কিন্তু সেই সময় অপ্রতুল। অধিকাংশ ছেলেমেয়েই সময়মত ভাল চাকরি পায় না। বৃদ্ধ মা-বাবার সংসারে হাল ধরতে পারে না। একসময় বিভিন্ন চিন্তায় হাবুডুবু খেয়ে নেশা ও অপরাধ জগতের দিকে হাত বাড়ায় তা মূলত হতাশা থেকেই। এখন বিভিন্ন কোটা ব্যবস্থা থাকায় দেখা যায় মেধাবীরা কোটার বেড়াজালে আটকে পড়ে আছে, আর নিম্ন-মেধার লোক বিভিন্ন পদে বসে সেই কর্মক্ষেত্রকে ব্যর্থতায় পর্যবসিত করছে। হযরত আলী(রা.) বলেছিলেন-“ এমন এক সময় আসবে যোগ্য লোকেরা পদ/মঞ্চের বাইরে থাকবে, অযোগ্যরা তা আঁকড়ে ধরে থাকবে”। এখন তাই মনে হচ্ছে। তরুণ সমাজে আজ হতাশা আঁকড়ে ধরেছে। দেশে অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়া তারই ফল বলে মনে হচ্ছে। তা না হলে সকল তরুণ যদি কাজে লেগে থাকে অপরাধ করার সময় পাবে কোথায়? দু’একজন করলে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়ে সমাজে শান্তি-শৃংখলা ফিরিয়ে আনা। বর্তমানে দেশে অস্থিরতা অতি দ্রুত লাঘব হবে বলে আমি দৃঢ় বিশ্বাস করি। সরকারের সুদৃষ্টি পেলে অতিদ্রুতই তা কাটিয়ে উঠবে। কারণ আমরা বীরের জাতি। আমরা হতাশাকে পায়ে দলে উপরে উঠতে জানি।
পলাশ সরকার
মাস্টার্স, রাষ্ট্রবিজ্ঞান,
সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা।
০০০০০০০০০০
তরুণ সমাজ
সত্যি আজ
হতাশ
তরুণ সমাজ একটি দেশের প্রাণ, জাতির ভবিষ্যত্ কর্ণধার। সমাজের প্রাণ তথা তরুণ সমাজের অধিকার/চাহিদা যদি সঠিকভাবে আদায় বা পূরণ না হয়, তবে তারা তো হতাশ হবেই! বর্তমানে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক মন্দা, রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রয়োজনীয় কর্মসংস্থানের অভাবসহ দেশের সার্বিক আর্থ-সামাজিক অবস্থায় তরুণ সমাজ সত্যিই হতাশ। এর থেকে উত্তরণ প্রয়োজন। কেননা দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ এই তরুণ সমাজের মধ্যে বিরাজমান। হতাশাব্যঞ্জক অবস্থা যদি অব্যাহত থাকে তাহলে এর পরিণাম হবে ভয়াবহ। তাই একটি সুখী-সমৃদ্ধশালী দেশ গড়তে জাতির ভবিষ্যত্ কর্ণধার এই তরুণ সমাজের মধ্যে বিদ্যমান হতাশাব্যঞ্জক অবস্থা দূর করার লক্ষ্যে তরুণ সমাজের স্বার্থ সংরক্ষণসহ প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে উন্নয়ন সাধনে সরকারকে যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তাহলেই দেশের উন্নয়নে মেধাবী তরুণ সমাজের কাছ থেকে জাতি যোগ্য নেতৃত্ব পাবে।
মো. রেজাউল ইসলাম
এলএলবি (১ম বর্ষ)
বঙ্গবন্ধু ল’ কলেজ, ঢাকা।
০০০০০০০০০০০০০
চরম হতাশার মাঝেও
তরুণরা এগিয়ে
যেতে চায়
তরুণরা আজ সবচেয়ে বেশি হতাশ বেকারত্বকে নিয়ে । ৩০ বছর লেখাপড়া করে প্রায় অর্ধেক বুড়ো হয়ে যখন চাকরি পায় না তখন হতাশা ছাড়া আর কিছুই থাকে না। নিজেকে সমাজের কাছে পরিবারের কাছে, দেশের কাছে, পুরো জাতির কাছে বোঝা স্বরূপ মনে হয়। সমাজ তাকে ঘৃণা করার আগে সে নিজেকে নিজেই ঘৃণা করতে শুরু করে। হতাশ হয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। অনেকে আত্মহত্যার পথও বেছে নেয়। চাকরির বাজারে চরম দুর্নীতি, প্রশাসনের দুর্নীতি, কোচিং বাণিজ্য, সেশন জট, শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস, প্রতিহিংসার রাজনীতি, ছাত্রদের অপরাজনীতি, হত্যা, খুন, গুম, চাঁদাবাজি, খাদ্যে ভেজাল ইত্যাদির কারণেও আজ তরুণরা হতাশ। এসবের মাঝে তরুণরা এগিয়ে যাচ্ছে এমনটি নয়, বরং লড়াই করে এখনো টিকে আছে।
বাকীবিল্লাহ নাজীম
১ম বর্ষ ইসলামিক স্টাডিজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
