হার না মানা হেলেনা

আপডেট : ০৭ মে ২০১৪, ২২:১৩
মাঠে তার পজিশনটা ছিল আক্রমণভাগে। কিন্তু আন্তর্জাতিক ফুটবল তো দূরের কথা, পর্তুগীজ ঘরোয়া ফুটবলেও কোন কালে তেমন একটা খেলার সুযোগ পাননি তিনি। তাতে কি? ফুটবলের প্রতি ভালবাসা থেকে এক পাও পিছনে ফেরেননি হেলেনা মারগারিদা দস স্যান্তোস ই কস্তা। তার সেই অধ্যবসায়ের ফলাফলটাও এবার চোখের সামনেই। গত বছরই বাংলাদেশের মাটিতে এএফসি নারী ফুটবলের বাছাই পর্বে ইরানের কোচের দায়িত্ব পালন করা ৩৬ বছর বয়সী এই পর্তুগীজ সৃষ্টি করলেন অনন্য এক ইতিহাস। ফুটবল বিশ্বে মাত্র দ্বিতীয় কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিলেন কোন পেশাদার ফুটবল ক্লাবের। ফরাসি দ্বিতীয় বিভাগ ফুটবল ক্লারমোন্টের সাথে চুক্তিবদ্ধ হতে যাচ্ছেন তিনি। নিজেদের ওয়েবসাইটে এক অফিসিয়াল বিবৃতিতে ক্লাবটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘আমরা নতুন একটি যুগের সূচনা করতে যাচ্ছি। বেনফিকার কোচিং স্টাফের অংশ, কাতার ও ইরান নারী ফুটবল দলের কোচ হেলেনা কস্তাকে আনতে যাচ্ছি আমরা।’ আর মাত্র একজন নারীকেই কোন ছেলেদের পেশাদার দলে কোচিং করাতে দেখা যায়। তবে, ক্যারোলিনা মোরেসের সেই যাত্রাটা খুব দুঃসহই ছিল। ১৯৯৯ সালে ইতালির তৃতীয় বিভাগের দল ভিটারবেসের দায়িত্ব নেয়ার মাত্র দুই ম্যাচের মাথায় গণমাধ্যমের উপর বিরক্ত হয়ে পদত্যাগই করে ফেলেন এই ইতালিয়ান। হেলেনা কস্তার সংগ্রামটা শুরু হয় সেই নব্বইয়ের দশক থেকে। ২০০১ সালে শেষ করেন ক্রীড়াবিজ্ঞানের স্নাতক। এর মধ্যেই লিসবন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন থেকে প্রথম লেভেলের কোচিং লাইসেন্সটা পেয়ে যান। সর্বশেষ ২০১২-১৩ মৌসুমে লিসবনের লুসোফোনা ইউনিভার্সিটি থেকে ক্রীড়াবিজ্ঞান ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে লাভ করেন ডক্টরেট ডিগ্রি। কোচিং ক্যারিয়ারটা অবশ্য এর বেশ আগেই শুরু করে দেন হেলেনা। ১৯৯৮ সালে প্রথমবারের মতো কাজ করেন কোন পুরুষ দলের সাথে। পর্তুগালের খ্যাতনামা বেনফিকা ক্লাবের যুবদলের সহকারী কোচ হিসেবে শুরু করেন দীর্ঘ এক যাত্রা। এরপর পর্তুগালের স্থানীয় কয়েকটি নারী ফুটবল দলের কোচের ভূমিকায় দেখা যায় তাকে। পরে, কাজ করেছেন স্কটিশ ক্লাব সেল্টিকের স্কাউট হিসেবে। ঘুরে ঘুরে খেলোয়াড় সংগ্রহ করাই ছিল তার কাজ। ২০০৮ থেকে ২০১১ পর্যন্ত এই কাজটাই করে গেছেন মন দিয়ে। প্রথমবারের মতো কোন জাতীয় দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করার সুযোগ আসে ২০১০ সালে। সেবার মধ্যপ্রাচ্যের মেয়েদের মধ্যে ফিফার একটা কর্মসূচির আওতায় কাজ করতে আসেন কাতারে। বলা হয়, দেশটির মেয়েদের ফুটবল তার হাত ধরেই বিকশিত হয়েছে। সর্বশেষ দায়িত্ব পালন করেন ইরান নারী ফুটবল দলের প্রধান কোচ হিসেবে। ২০১২ সালের অক্টোবরে দায়িত্ব নেয়ার পর মুসলিম সংস্কৃতির সাথে মানিয়ে নিতে কম কাঠখড় পোড়াতে হয়নি হেলেনাকে। সেখানে গিয়ে মিশে গেছেন তাদের সাথে, হয়ে উঠেছিলেন তাদেরই একজন। সেই সম্পর্কে এবার ছেদ পড়তে যাচ্ছে। আরও বড় এক অর্জনের দিকে হাঁটছেন হেলেনা কস্তা। বাংলাদেশে এসে গত বছর স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, কোচিং স্টাইলের দিক থেকে তার কাছে আদর্শ হলেন স্বদেশী হোসে মরিনহো! তবে, এবার শুধু মরিনহো নয়, গোটা বিশ্বেরই অভিবাদন পাচ্ছেন হেলেনা!