কেন হচ্ছে গুম

আপডেট : ০৮ মে ২০১৪, ২০:৫৬
সারা দেশবাসী আজ ভুগছে নিরাপত্তাহীনতায়, গুম খুনের তাণ্ডবে জর্জরিত দেশবাসী। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেখানে এসব অপকর্মের সাথে জড়িত সেখানে আমরা সাধারণ মানুষ আজ কোথায় যাব? একের পর এক গুম, খুন, অপহরণ বেড়েই চলছে। সরকার এসব অপকর্মের গডফাদারদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দানের জন্য যতটা না পেরেশানী তার চেয়েও বেশি পেরেশানী এসব ঘটনাতে বিরোধী দলের সম্পৃক্ততা খুঁজে বের করতে। বিরোধীদলেরও একই অবস্থা, তারাও সন্দেহের তীর ছুঁড়ছে সরকারের দিকে, এই যদি হয় বড় দুই রাজনৈতিক দলের ভূমিকা তবে মূল অপরাধীরা সহজেই পার পেয়ে যাবে। এভাবে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার কাজে ব্যস্ত থাকলে সেই সরকারী দল ও বিরোধীদল কখনো দেশের হয়ে কোন কাজ করতে পারবে না। দলের জন্য তারা অনেক কিছুই করতে পারবে এবং একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ক্ষমতায়ও থাকতে পারবে, কিন্তু ততক্ষণে দেশের বারোটা বেজে যাবে। ডাঃ মর্জিনা আক্তার বারিধারা পাইল্স কিউর সেন্টার বারিধারা (নদ্দা) গুলশান, ঢাকা। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ সাতজন অপহরণ ও পরে নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ডের পর, গুম, খুন ও অপহরণের এক বিশাল মানচিত্র দেশবাসী প্রত্যক্ষ করলো। যদিও গুম, খুন, হত্যা ও অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা বিগত কয়েক বছর ধরে চলে আসছে। নারায়ণগঞ্জ পরিস্থিতি গুম হত্যার সর্বশেষ মহড়া মনে হয়েছে। বহু বিশ্লেষণে খুন, গুম, হত্যা ও অপহরণের একাধিক কারণ বিদ্যামানঃ একঃ ক্ষমতায় থাকা ও ক্ষমতায় যাওয়ার মূলধন হিসেবে রাজনীতিকদের পেশীশক্তি লালন করা। দুইঃ গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ ও কাঠামো, রাষ্ট্রীয় যন্ত্রে যথাযথ প্রয়োগ না থাকা। তিনঃ দেশের দুটো বৃহত্দলের পারস্পরিক দোষারোপের রাজনীতিতে অপরাধীরা একদিকে রাষ্ট্রীয় আসকারা পাওয়া, অপরদিকে বিরোধীপক্ষের সুরক্ষার আঁচল পেয়ে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যেতে উত্সাহিত হওয়া। চারঃ জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্রকরে সৃষ্ট রাজনৈতিক অস্থিরতার মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়া। পাঁচঃ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর একটি অংশের নানা অনিয়মসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া। ছয়ঃ অপহরণ, গুম, খুনের আড়ালে রাজনৈতিক হানাহানি, ব্যক্তিগত ক্ষমতা ও আধিপত্য বিস্তার এবং অধিক প্রাপ্তির আশায় বিবেক ও মনুষত্ব বিকিয়ে দেয়া। সাতঃ স্বল্পতে তুষ্ট জাতি সাম্প্রতিক সময়ে সর্বগ্রাসী ক্ষিদেয় আক্রান্ত হয়ে সর্বভুখে পরিণত হওয়া। আটঃ অপরাধ করেও অপরাধীরা পার পেয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি চালু হওয়া। নয়ঃ মুর্খরা মঞ্চে বসছে, জ্ঞানীরা পালিয়ে বেড়ানোর এই পরিবেশ সৃষ্টি হওয়া। দশঃ সর্বপরি সকল কিছুতেই অতিরাজনীতিকীকরণের মাধ্যমে, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আদর্শিক ভিত্তিমূলগুলোকে নড়বড়ে করা। রাজনীতির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা বা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পাবার সঠিক পথ হলেও রাজনীতি এখন অধিক মিথ্যাশ্রয়ী ও নানা অনৈতিক বিষয়গুলো রাজনীতিকদের দ্বারা পৃষ্ঠপোশকতা পাওয়া। মুরাদ হোসেন মধুখালী, ঝিকরগাছা, যশোর। যে কোন দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম অবনতির পর্যায়ে হত্যা, গুম, অপহরণসহ সকল অপরাধ প্রবণতা চূড়ান্ত রূপ ধারণ করে। হতাশার হলেও সত্য যে আমাদের বাংলাদেশ বর্তমানে তেমনি একটি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। সরকার ও আইন-শৃঙ্খলার বাহিনীর ব্যর্থতার ফলে হত্যা, গুম হচ্ছে এমন প্রচারণা দেশবাসীর মুখে মুখে। মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম টিপু সেনবাগ, নোয়াখালী। গুম, খুন অপহরণের পেছনে রয়েছে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স। সারাদেশে এমন ব্যক্তির সংখ্যা অনেক। তাদের লাইসেন্স পাওয়ার প্রধান কারণ রাজনৈতিক। তাই ভবিষ্যতে রাজনৈতিক বিবেচনা করে অস্ত্রের লাইসেন্স দেয়া বন্ধ করতে হবে। শিশির আজিমপুর, ঢাকা। স্বাধীনতার আগে বঙ্গবন্ধু উন্নত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করেছিলেন। তখনও দেশবিরোধী চক্রান্তকারীরা দেশে দেশে নিরীহ মানুষ হত্যা করেছিল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সত্য কথা বলেছেন, জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় থাকাকালীন অবস্থায় হত্যা, গুম, খুন অপহরণ বেড়েছিল। বিএনপি ও জামায়াত শিবির এখনও সে কাজ করছে। আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর হলে গুম অপহরণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। দেশবিদ্রোহীরা কেন গুম করবে, অস্থিতিশীল করবে দেশকে। তার বিরুদ্ধে সরকারকে ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ এর দায় বর্তায় রাষ্ট্র ও সরকারের ওপর। ফারুক আহম্মেদ বাগমারা, রাজশাহী। নারায়ণগঞ্জ প্যানেল মেয়র নজরুলসহ ৭ অপহরণের পর হত্যার ঘটনা তদন্তে দায়ী ও দোষীদের শাস্তিদান বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সরকার দলীয় সংসদ সদস্য বলেছেন, যেই জড়িত থাক না কেন, তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়া হবে। বাস্তবে আমরাও চাই সেরকম দেখতে। মোঃ মেজবাহউদ্দিন সেলিম শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা। নারায়ণগঞ্জের ঘটনাটির মূল অপরাধী করা তা এখনও জানা যায়নি। আমরা চাই মূল ঘটনাটি সনাক্ত। আমরা আর গুম, খুন ও অপহরণের মত কোন ঘটনা আর দেখতে চাই না। মাসুম আহম্মেদ প্রকাশক ও সম্পাদক শিকড় সন্ধানে। বাংলাদেশে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে বিরোধী দলকে দমনের কাজে ব্যবহার করার দুর্বৃৃত্তরা খুন, গুমের মতো কাজগুলো দেদারসে করে যাচ্ছে। বৃহত্ দু’টি রাজনৈতিক দল একে অপরকে দোষারোপ করায় সকল তদন্তের কাজ সফলভাবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী করতে পারছে না। খুন ও গুমের কাজে যারা জড়িত তাদেরকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। মোহাম্মদ মোসলেমউদ্দিন সভাপতি ভিলেজ ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম সোসাইটি বাংগালপাড়া, শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ। রাজনীতিকে পরিণত করা হয়েছে স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে। এ রাজনীতি অবশ্যই ক্ষমতার রাজনীতি ও লোভের রাজনীতি। নিজের আখের গোছানোর রাজনীতি। তাহলে কি হবে দেশের অবস্থা। আমরা আশা করি, এ থেকে রাজনীতিবিদগণ বেরিয়ে আসবেন। সোহাগ ভাগলপুর লেন নবাবগঞ্জ, ঢাকা। নারায়ণগঞ্জসহ দেশের সর্বত্র চলছে খুন, গুম ও অপহরণ। জরিপ মতে, এ বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৪ মে পর্যন্ত অপহরণ কিংবা গুম হয়েছেন ৬৩ জন। তাদের মধ্যে ফেরত এসেছেন ১২ জন আর লাশ হয়ে উদ্ধার হয়েছেন ২২ জন, খোঁজ নেই ২৯ জনের। যা বিগত বছরের তুলনায় এ বছরে জনগণের সাথে বেশি পরিচিত। রাজনৈতিক দলগুলো পরস্পর দোষারোপ করার একটি ঘটনার ছায়ায় আরেকটি ঘটনা ঘটেই চলেছে। যা সাধারণ মানুষের জন্য অশনি সংকেত। সাদিক ইভান গাজীপুর, শ্রীপুর। শর্ষেই ভূত থাকলে লোক দেখানো বেহুদা ঝার ফুকে কোন কাজ হয় না। লাখো শহীদের রক্ত ও মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশে এটি কারো কাম্য ছিল না। আমাদের দেশে অধিকাংশ রাজনীতিবিদরাই অসত্ রাজনীতির পথ প্রদর্শক এবং চরিত্রহীন। এরা টাকা আর ক্ষমতা ছাড়া কিছুই বুঝে না। তাদের মনে এমনও হয়তো ভাবনা ক্রিয়া করে যে তাদের অর্থের জোরে এবং লালিত পালিত ক্যাডার বাহিনী করে স্বয়ং আজরাইলও তাদের জান কবজ করার সাহস দেখাবে না। স্বাধীনতার আগে বাঙালিদের পৃষ্টদেশে লাথি মেরে উর্দিভাষী দেশ শাসন করেছে। এখন আমাদেরই বাংলাভাষী অসত্ রাজনীতিবিদরা বাংলাদেশিদের গালে ধাপড় মেরে খুন,গুম করে দেশ শাসন করছে। যেভাবে নিত্যদিন গুম, খুন আমাদের দেশে ফ্রি স্টাইলে চলছে তার গণতান্ত্রিক কোন উন্নত বিশ্বে সংগঠিত হলে সে দেশের সরকার প্রধান তার মন্ত্রী সভার সকল সদস্যকে নিয়ে পদত্যাগ করতেন। কিন্তু বড়ই আফসোসের বিষয় যে, সংস্কৃতি আমাদের এখনও গড়ে উঠে নাই। কবে গড়ে উঠবে তা জানেন একমাত্র ওপর ওয়ালা। মো. লুত্ফর রহমান বাদল এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা। নারায়ণগঞ্জসহ দেশের সর্বত্র চলছে গুম, খুন ও অপহরণ। বিষয়টি নিয়ে সরকার অত্যন্ত কঠোরভাবে মোকাবিলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশের মানুষ শান্তি আর স্বস্তি চায়। মুন্সী মোহাম্মদ ওয়াহীদ উল্লাহ স্টুডিও ফুজিয়া, মিরপুর-১, ঢাকা গুম হচ্ছে তিন ধরনের। একটি রাজনৈতিক শিকার। দ্বিতীয়টি হচ্ছে সম্পদশালীর জন্য, তৃতীয়টি হচ্ছে আধিপত্য বিস্তারের জন্য। এটার জন্য ব্যবহার হচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং তারা সুবিধা নিচ্ছে সর্বত্র। এটা নিয়ে আমরা সাধারণ মানুষ আজ আতংকে আছি। সন্ধ্যার পর বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। সে ক্ষেত্রে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। গোলাম রব্বানী দিপু নীলফামারী সদর, রংপুর। মানুষের মধ্যে মানবতা বলতে বা মনুষ্যত্ব বলতে এগুলো চলে গেছে। দয়া মায়া ও মমতা কমে গেছে। গুম করে সে লাভবান হয়। সে মনে করে তার সম্পদ হয়। উপরে উঠতে পারবে বা বড় হতে পারবো। মানুষ মানুষকে আপনজন হিসেবে দেখছে না। একজনকে ক্ষতি করে অন্যজন বড় হতে চাচ্ছে। মানুষ মানুষের জন্য একথাটি এখন আর কার্যকর হচ্ছে না। এখন নিজেই নিজের জন্য ব্যস্ত। আমাদের দেশে এখন রক্ষকই ভক্ষক হয়ে গেছে। রুনিয়া, উত্তরা, ঢাকা। নারায়ণগঞ্জের খুন ও অপহরণের ঘটনা সারাদেশকে তোলপাড় করেছে। ইতিমধ্যে জাতির বিবেককে নাড়া দিয়েছে। এ ধরনের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কখনো কোন জাতি কামনা করে না। কেন গুম হচ্ছে—জবাবে বলতে হয়, রাজনৈতিক সহিংসতা, পূর্বশত্রুতার জের, ভূমি দখল, প্রতিহিংসা, ষড়যন্ত্র আর আইনের শাসনের প্রতি তোয়াক্কা না করা হচ্ছে মূল কারণ। এছাড়া রাজনৈতিক দলের সন্ত্রাসীদের শীর্ষে অবস্থানে রাখাই হচ্ছে গুম, খুন আর অপহরণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার প্রধান কারণ। এ জঘন্য ঘটনায় অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার হচ্ছে সহায়ক হিসেবে। এসব ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কোন সদস্য যদি জড়িত থাকে; তাকেও বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো উচিত। শাহ মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন হিরো কালিহাতি, টাঙ্গাইল। গুমের ঘটনার দায়-দায়িত্ব নিতে হবে নোংরা রাজনীতিবিদদের। আগে রাজনীতি মানে ছিল জনগণের সেবা। আর বর্তমানে রাজনীতি হচ্ছে খাস জমি দখল, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি করা। আমরা এমন রাজনীতিবিদদের ঘৃণা করি এবং প্রয়োজনে ’৭১ এর মত আমরা আবার যুদ্ধ করবো তাদের বিরুদ্ধে। এদেশকে এ নোংরা রাজনীতিবিদ থেকে মুক্ত করবো ইনশাআল্লাহ। সৈয়দ হায়দার আলী সভাপতি, মহাখালী যুব কল্যাণ সমিতি, মহাখালী, ঢাকা। গুম, খুন, গুপ্ত হত্যা এবং অপহরণ ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়ার কারণ ১. আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ন্যক্কারজনক রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার, ২. রাজনৈতিক নেতাদের ব্যাপক দুর্নীতি এবং দুর্নীতির অর্থ সম্পদ গুম, খুন অপহরণ ও গুপ্ত হত্যায় ব্যবহার করার জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জড়ানো, ৩. রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের কারণে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ না থাকা, ৪. গণতান্ত্রিকভাবে বিরোধী দলকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর যথেচ্ছ ব্যবহার, ৫. গণতান্ত্রিক আইনে শাসন ও বিচার প্রক্রিয়া সমুন্নত না রাখার কারণে, ৬. পুলিশ কিংবা আইন-শৃঙ্খলার মামলায় বাণিজ্যের কারণে। ৭. ৫/৭ জনকে আসামি করে আরো অজ্ঞাত হাজার হাজার মানুষকে আসামি করা প্রত্যেকটা খুন, গুম, অপহরণের মামলা সুষ্ঠু ও সঠিকভাবে তদন্ত না হওয়া। এখানে ইলিয়াস আলীর গুম ও সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাই প্রকৃত উদাহরণ, ৮. রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। উপরোক্ত বিষয়গুলো সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেই কেবল খুন, গুম, অপহরণ ও গুপ্তহত্যা বন্ধ হতে পারে। শাহ আলম খান, মরল, বাঁশখালী, চট্টগ্রাম। নারায়ণগঞ্জসহ সারাদেশে গুম, খুন, অপহরণ বিষয়টি দেখা দিয়েছে। যেন এক অরাজকতা চলছে দেশে। সাধারণ মানুষ আতংকগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। এটা থেকে মুক্তি চায় সাধারণ মানুষ। শাহীন ডিওএইচএস, মহাখালী, ঢাকা। কোন বাবা যদি তার ছেলেকে হুকুম করে যে ‘তুই সিগারেটটি ধরিয়ে নিয়ে আয়’ নিশ্চয়ই সিগারেটটি ধরাতে গেলে অবশ্যই টান দিতে হবে। এবার বলুন, ছেলে যদি সিগারেটে আসক্ত হয়ে পড়ে সেক্ষেত্রে ঐ বাবার তার ছেলেকে সিগারেট পান থেকে বিরত থাকার জন্য নিষেধ আরোপ করা সম্ভব? বর্তমানে আমাদের দেশে রাজনৈতিক যে সংস্কৃতি বিরোধী দলের উপর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করার কারণেই সরকারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আজ প্রশ্ন উঠেছে। প্রশ্ন উঠেছে গুম, খুন, হত্যার পিছনে র্যাব, পুলিশসহ প্রশাসনের হাত রয়েছে। বাস্তবতা কতটুকু সঠিক, তদন্তে তা বেরিয়ে আসবে। প্রত্যাশা করি তদন্তের মাধ্যমেই সঠিক তথ্য জাতির সামেন প্রকাশ হোক। তবে এ কথা সত্য রাজনীতি এবং প্রশাসন যদি একাকার হয়ে যায় সেদেশের রাজনৈতিক সহিংসতা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হত্যা, গুম, খুনের মত ঘটনা ঘটতেই থাকবে। আমাদের দেশের রাজনীতিতে অঙ্গীকার থাকা জরুরি হয়ে পড়েছে। ক্ষমতায় যাওয়ার পর প্রশাসন তার নিজস্ব গতিতে চলতে পারে সেই সহায়তা করা। অপরদিকে প্রশাসনের উপর প্রভাবকে মুক্ত রাখা। তবেই দেশের রাজনৈতিক সহিংসতা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা খুন, গুম, হত্যার মত ঘটনা থেকে দেশ মুক্ত হবে। দেশে ফিরে আসবে স্বস্তি, শান্তি। মনজু খন্দকার, চুয়াডাঙ্গা। খুন, গুম, অপহরণের প্রধান কারণ হচ্ছে সরকার প্রশাসনের অদক্ষতা। বার বার গুম, অপহরণ হওয়া সত্ত্বেও সরকারের টনক নড়ছে না। বেলার নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ রেজওয়ানা চৌধুরীর স্বামী জনাব সিদ্দিক সাহেব অপহরণ হলেন তখন সরকারের টনক নড়লো। কিন্তু ইলিয়াস আলীর গুম হলেন তখন সরকার সেটাকে অন্যদিকে নিলেন, তাহলে দেখা যাচ্ছে আইন সবার জন্য সমান নয়। প্রভাবহীন কোন পরিবারের সদস্য যখন অপহরণ হচ্ছে তখন সরকার প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কোন ভূমিকা দেখি না। কিন্তু রাষ্ট্রের বিশেষ ব্যক্তি যখন গুম, অপহরণ হয় তখন সরকারের দৃষ্টি দেখতে পাই। তাই আমরা চাই আইন সবার জন্য সমান হোক । মো. হাফিজুর রহমান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, আইন বিভাগ। নারায়ণগঞ্জসহ দেশের সর্বত্র চলছে গুম, খুন ও অপহরণ। নানা কারণে এই অপরাধমূলক কার্যকলাপগুলো হচ্ছে। সর্বত্র আতংক ও সাধারণ মানুষ আজ বিপাকে। বড় হতাশাব্যঞ্জক দিন কাটছে এ দেশের পরিস্থিতি। এ থেকে সাধারণ মানুষ মুক্তি চায়, চায় স্বস্তি ও শান্তি। মো. খায়রুল ইসলাম (ফুল) আরপপুর, ঝিনাইদহ। গুম, খুন ও অপহরণের মূল কারণ হচ্ছে প্রথমত সরকারি দল কর্তৃক বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাদের দমনপীড়ন। দ্বিতীয়ত হচ্ছে সরকার দলীয় কর্মীদের চাঁদাবাজি ভাগাভাগি, আধিপত্য বিস্তার। তৃতীয়ত হচ্ছে সরকার অতিরিক্ত প্রশাসনে নির্ভরশীলতা, চতুর্থ হচ্ছে প্রশাসনে অতিরিক্ত অর্থলোভ। এই কারণগুলো হচ্ছে বর্তমান অবস্থার চিত্র। নজরুল ইসলাম ম্যানেজার, Foampx Group, বনানী, ঢাকা। প্রথমত, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিনাশ করা, দ্বিতীয়ত, বিচার ব্যবস্থার অবক্ষয় এবং তৃতীয়ত, রাজনৈতিকদের অবৈধ প্রভাব এবং নেতৃত্ব ও ক্ষমতায় যাওয়ার লোভ। এই তিনটি প্রধান কারণে গুম, খুন, অপহরণ হচ্ছে বলে মনে করি। তাপস মিত্র লক্ষণকাঠি, ডাকঘর: জলাবারি নেসারাবাদ, পিরোজপুর। এটা জঙ্গি তত্পরতা বন্ধ করার জন্য সরকার যে পদক্ষেপ নিয়েছে তাকে বানচাল করা আত্মস্বীকৃত রাজাকার, আলবদর এবং চিহ্নিত লুণ্ঠনকারীকে রক্ষা করার জন্য স্বাধীনতা বিরোধী পাকিস্তানবাদী কিছু লোকের একটা নীলনক্শা যাতে সরকারের ভিত্তিকে নড়বড়ে করে সরকারের পতনকে ত্বরান্বিত করার জন্য আন্তর্জাতিক বিশ্বে একটা সার্পোটের জন্য মূলত এই কাজটি করা হচ্ছে। জনগণ যদি নিজের থেকে সচেতন হয়ে সজাগ দৃষ্টিকোণে প্রতিরোধ গড়ে তোলে তা হলে অচিরেই এই গুম হত্যা বন্ধ করা সম্ভব। এক্ষেত্রে সরকার এবং জনসাধারণ একযোগে কাজ করা উচিত বলে আমি মনে করি। এস. এম কানিজ ফাতেমা গবেষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। কেন গুম কেন, অপহরণ এই বিষয়টি বুঝতে হলে গুম এবং অপহরণের সংজ্ঞাটাও বোধ করি জানা প্রয়োজন। গুম বলতে বোঝায় নিখোঁজ হয়ে যাওয়া, পরবর্তীতে আর কোন হদিস না পাওয়া। অপরদিকে অপহরণ বলতে বোঝায় প্রলোভন, ফুসলিয়ে, চুরি অথবা বলপূর্বক আটক করে রাখা। এর বিনিময়ে মুক্তিপণ চাওয়া। গুম বলে কোন শব্দ বা সংজ্ঞা বা অপরাধের শাস্তির বিধান আইনে নেই। তবে গুম অপহরণের কোন বিচার আইনের মাধ্যমে হবে না তা নয়। দণ্ডবিধির ৩৪১ থেকে ৩৪৮ ধারায় শাস্তির বিধান রয়েছে। এ ছাড়া ৩৩৯-৩৪০, ৩৬৩,৩৬৪ ধারা অনুযায়ী বিচার করার ব্যবস্থা আইনে আছে। তাতে শাস্তির বিধান বর্ণনা করা হয়েছে। এখন আমরা দেখি কেন গুম কেন অপহরণ। মূলত আমাদের দেশে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার মানুষই বেশি অপহরণ , গুম হয়ে থাকে। এর পর আসে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি থেকে আয় বৃদ্ধির কামনা। অনেক সময় জমি-জমা দখল, বাড়ি কেনা বেচা, ভূমিসংক্রান্ত জটিলতা ইত্যাদির কারণেও অপহরণ গুম ঘটে থাকে। প্রেমে ব্যর্থতা এবং কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা ও সাহায্য না পেলে কেউ কেউ সহিংস হয়ে ওঠে। কিন্তু তারা আইনের ঊর্ধ্বে নয়। এ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আমাদের শিক্ষা, আমাদের সভ্যতা দিয়েছে। সুশিক্ষার মাধ্যমে দেশ ও জাতি এগিয়ে যায়। অপহরণ গুম ঠেকাতে হলে ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং সুশাসনের একান্ত প্রয়োজন। ওয়াহিদ মুরাদ স্বরূপকাঠি, পিরোজপুর।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন