শেখ জামাল ৩
মোহামেডান ০
কলকাতার দর্শকদের মুগ্ধ করে ফেরার পর থেকে সেই আক্রমণাত্মক ফুটবলটা যেন হঠাত্ই ভুলে গিয়েছিল শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্রীড়াচক্র। ওয়েডসন, সনি নরদে আর এমেকা ডার্লিংটনদের খেলা দেখে যেসব ফুটবল সমর্থকরা সন্তুষ্ট হতে পারছিলেন না; অবশেষে সমর্থকদের মন ভরিয়ে দিলেন এই তিন ফুটবলার। গতকাল আক্রমণের স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে দারুণ এক পারফরম্যান্স দেখিয়ে এই ত্রয়ীর ওপর ভর করেই শেখ জামাল ৩-০ গোলে মোহামেডানকে হারিয়েছে।
ম্যাচের শুরুর সাথে সাথে শেখ জামালের আক্রমণভাগ যেন মোহামেডানের উপর ঝাপিয়ে পড়েছিল। পুরো মাঝ মাঠ দখল করে মোহামেডানকে ছিন্ন ভিন্ন করে বারবার গোলের সুযোগ তৈরি করছিলো তারা। মোহামেডান যেন কিছুতেই খেলা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছিল না।
শুরু থেকে মোহামেডানের রক্ষণভাগ কাঁপিয়ে দেয়ার ফল হিসেবেই ১২ মিনিটে সনি আর ২২ মিনিটে এমেকা ডার্লিংটন গোল করে পরিষ্কার এগিয়ে দেন শেখ জামালকে। ৬১ মিনিটে দলের তৃতীয় গোলটি করেন সেই ডার্লিংটনই।
এ দুই গোলের আগেই অবশ্য শেখ জামাল আরও দুই গোলে এগিয়ে যেতে পারতো। ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই প্রথম সুযোগটি নষ্ট করেছেন ডিফেন্ডার নাসির। তিনি হেড করতে উঠে বল মেরেছেন মাটিতে।
তবে শেখ জামালের হয়ে সব জাদুটা যেন আবার দেখাতে নেমেছিলেন সেই সনি নর্দে। কলকাতায় সনি যে খেলাটা খেলেছেন সেটাই কাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে দেখিয়েছেন তিনি। দূর থেকে আসা বল নিয়ে সনি মোহামেডানের তিন ডিফেন্ডারের মাঝ দিয়ে চোখের পলকে শট করেন মোহামেডানের জালে। গোলকিপার তিতুমীর চৌধুরী এই প্রথম গোলটা কিভাবে হল যেন বুঝতেই পারেননি।
দ্বিতীয় গোলের পেছনেও সেই সনি। ঘুরে দাঁড়ানোর আগেই দ্বিতীয় গোল হজম করে মোহামেডান। ২২ মিনিটে সনির বাড়ানো বল নিয়ে ডার্লিংটন গোল করেন। পরপরই সনি নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোল পেয়ে যেতে পারতেন। কিন্তু তিনি বল নিয়ে মোহামেডানের অরূপ বৈদ্য এবং মিন্টু শেখকে কাটিয়ে বল বাইরে মারেন।
শেখ জামালের এই দারুণ আক্রমণের বিপরীতে আগের ম্যাচে আবাহনীকে হারানো মোহামেডানের খেলা দেখে একেবারেই পরিকল্পনাহীন বলে মনে হল।
ম্যাচে ফেরার মতো দুটি সুযোগ পেয়েছিল মোহামেডান। প্রথমার্ধের শেষ প্রান্তে অরূপ বৈদ্য শট করেন। বল সাইড বারে লাগলে বেঁচে যায় শেখ জামাল। এখান থেকে কাউন্টার অ্যাটাকে শেখ জামালের ওয়েডসন একাই বল নিয়ে মাঝ মাঠ পার হয়ে শেখ জামালের বক্সে ঢুকে গোলকিপারকে একা পেয়েও তার গায়ে লাগান। ম্যাচের ৬১ মিনিটে আবারো গোলের উত্স গড়ে দেন সনি; ডার্লিংটন গোল করেন।
মোহামেডান পর্তুগীজ কোচ রুই ক্যাপেলা ম্যাচ হেরে খুব হতাশ। তিনি বলছেন পাঁচ-ছয়টি গোলের সুযোগ তিনি পেয়েছেন। কিন্তু গোল করতে পারেনি তার ছেলেরা। ইনজুরির কারণে তার ছেলেরা মাঠে খেলতে পারছে না। কোচ বলেন, ‘আমি আক্রমণে জঙ্গো, হার্ডিপিন্টু, সবুজ, এমিলিকে দিয়েছি। তারপরও তারা গোল করতে পারেনি।’ তিনি বলেন, এটা স্ট্রাইকারদের ব্যর্থতা।’
মাঝমাঠে ডিফেন্ডার নাইজেরিয়ান হেনরিকে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি নিজের জায়গা ডিফেন্স ছেড়ে মাঝমাঠে মুন্সিয়ানা দেখাতে পারেননি। কিন্তু এমন জয়ে খুব বেশি উচ্ছ্বসিত না শেখ জামালের নাইজেরিয়ান কোচ। ৩৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলে শীর্ষে শেখ জামাল। মোহামেডান এখন ১১ পয়েন্ট দূরে। লিগ শিরোপা জয়ের ব্যাপারে কোচ যোশেফ আপুসি বলেছেন, ‘এখনো অনেক দূর যেতে হবে।’
জাতীয় জুনিয়র অ্যাথলেটিকসের কারণে আজ শুক্রবার ও শনিবার খেলা নেই।
রবিবারের খেলা: ব্রাদার্স ও উত্তর বারিধারা।
