ভ্যালেন্সিয়ার সঙ্গে পয়েন্ট খোয়ানোর পর এবার রিয়াল ভ্যালাদোলিদের মাঠে ১-১ গোলে ড্র করেছে রিয়াল মাদ্রিদ। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে পয়েন্ট খোয়ানোর ফলাফল স্বরূপ রিয়ালের লিগ শিরোপা পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন প্রায় শেষই হয়ে গেছে। মানসিক অবসাদকেই এই ফলের কারণ হিসাবে উল্লেখ করেছেন কার্লো অ্যানচেলোত্তি। রিয়াল কোচের জন্য আরো বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে এসেছে দলের সেরা খেলোয়াড় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর চোট। পেশীর চোটে আক্রান্ত হয়ে এদিন ম্যাচের আট মিনিটেই মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন রোনালদো।
কে জানতো লা লিগার শেষে এমন নাটক অপেক্ষা করছে! রিয়ালের এই ড্রতে, মাত্র দু’দিন আগেও যেখানে বার্সেলোনার শিরোপা খোয়ানোর বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত বলে ধরে নেয়া যাচ্ছিল, এখন তারাই হয়ে উঠেছে শিরোপার অন্যতম প্রধান দাবিদার। যদিও, শিরোপা ধরে রাখতে হলে সর্বশেষ দুই ম্যাচেই জিততে হবে তাদের। আর ঘরের মাঠে মালাগার বিরুদ্ধে পরের ম্যাচটি জেতার পর লিগের শেষ দিন নূ ক্যাম্পে যদি অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ ন্যূনতম পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারে, তাহলে শিরোপা জিতবে তারাই। শীর্ষ তিন দলের মধ্যে এখন রিয়ালের সম্ভাবনাই সবচেয়ে কম। অ্যাটলেটিকো যদি মালাগার বিরুদ্ধে কাল জিতে যায়, সেক্ষেত্রে সেদিনই লিগ স্বপ্ন শেষ হয়ে যাবে ব্লাঙ্কোসদের। কারণ, সমান ৩৬ ম্যাচ শেষে শীর্ষে থাকা তিন দল অ্যাটলেটিকো, বার্সেলোনা এবং রিয়ালের পয়েন্ট যথাক্রমে ৮৮, ৮৫ ও ৮৪।
অথচ, ভ্যালেন্সিয়ার বিরুদ্ধে সমতায় শেষ করার পর ভ্যালাদোলিদের বিরুদ্ধে ভাল কিছুরই ইঙ্গিত দিচ্ছিল রিয়াল। জাভি আলোনসো, করিম বেনজামা, অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়াদের নিয়ে গড়া রিয়ালের আক্রমণভাগ রোনালদোর অভাব বুঝতেই দিচ্ছিল না রিয়ালকে। সার্জিও রামোসের সৌজন্যে ম্যাচের ৩৫ মিনিটে এগিয়েও যায় স্বাগতিকরা। পরবর্তী পঞ্চাশ মিনিটেও কোন দল গোলের দেখা না পাওয়ায় ধারণা করা হচ্ছিল এই গোলই হয়তো হয়ে উঠবে ভাগ্য নির্ধারণী। কিন্তু, খেলা শেষের মাত্র মিনিট পাঁচেক আগে ওসোরিওর গোলে কপাল পোড়ে রিয়ালের।
এই হারে রিয়ালের শিরোপা স্বপ্ন আরো কঠিন হয়ে গেল মানলেও এখনই হাল ছাড়তে নারাজ অ্যানচেলোত্তি।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের পাশাপাশি ঘরোয়া টুর্নামেন্টের টানা ধকল খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে পরিশ্রান্ত করে তুলেছে জানিয়ে এই ইতালিয়ান বলেন, ‘শারীরিকভাবে আমরা হয়তো ক্লান্ত নই, কিন্তু, মানসিকভাবে আমরা অবসাদগ্রস্ত। আর সেটাই আমাদের ক্ষতি করেছে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালের মতো একটা ম্যাচের পর এত দ্রুত সামলে নেয়াটা অবশ্য কঠিনই বটে। আমরা ৭০ মিনিট ম্যাচে আধিপত্য করেছি। এরপর আমরা সেটা হারিয়ে ফেলি এবং সেট পিস থেকে একটা গোল হজম করি। এটা দারুণ কঠিন সন্দেহ নেই তবে গাণিতিকভাবে এখনও আমাদের একটা সুযোগ আছে। সে জন্য আমাদের পরবর্তী দুটি ম্যাচ জিততে হবে। আর কে ফেভারিট (শিরোপা জয়ের ক্ষেত্রে) সেটা আমি মাথায়ই আনতে চাই না।’
