শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র গতকাল শুক্রবার শ্রীলংকার বিমান বাহিনী দলকে ৫-০ গোলের শোচনীয় ব্যবধানে হারিয়ে এএফসি প্রেসিডেন্ট কাপ ফুটবলের চূড়ান্ত পর্বে ওঠার পথে এগিয়ে থাকলো। কলম্বোর সুগাথাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত খেলাটিতে মিঠুন চৌধুরী একাই দুই গোল দেন। অপর গোলগুলো আসে শাকিল আহমেদ, প্যাসকাল মিলিয়েন ও সবুজ বিশ্বাসের কাছ থেকে। বাংলাদেশের দলটি বিরতি সময়েই ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের চ্যাম্পিয়নরা প্রতিযোগিতার গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম খেলায় পাকিস্তানের খান রিসার্চ ল্যাবরেটরি ফুটবল ক্লাবের সাথে গোলশূন্য ড্র করে আগেই এক পয়েন্ট জোগাড় করে রেখেছিল। পাকিস্তানের ক্লাবটি কালকের খেলায় ভুটানের উগেইন ক্লাবকে ৩-০ গোলে হারায়। ফলে তারাও খান রিসার্চ ল্যাবরেটরি ও শেখ রাসেলের মতোই চার পয়েন্ট পেল। তবে বাংলাদেশের দলটি শ্রেয়তর গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে আছে।
চার দল নিয়ে তৈরি প্রতিটি গ্রুপ থেকে দুটি করে ক্লাব চূড়ান্ত পর্বে খেলবে।
শ্রীলংকার বিমান বাহিনী দল এর আগে তাদের প্রথম খেলাটিতে ১-০ গোলে ভুটানের উগেইন ফুটবল ক্লাবের বিরুদ্ধে জিতে তিন পয়েন্ট পেয়েছিল। এখন শেখ রাসেল স্বাগতিকদের হারিয়ে দুই খেলা শেষে চার পয়েন্ট পেয়ে সুবিধাজনক অবস্থায় থাকলো।
কোচ দ্রাগান দুকানোভিচ আগের খেলার দলটিকে অপরিবর্তিত রেখে এদিন মাঠে নামান। শুরুতে কিছুটা অগোছালো মনে হলেও পাসিং ফুটবল খেলে ধীরে ধীরে খেলাটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে শেখ রাসেল। আর তাতেই ১২ মিনিটে দলকে এগিয়ে দেন শাকিল। হাইতিয়ান প্যাসকেলের বাড়ানো বলে বক্সের বাইরে থেকে নিখুঁত প্লেসিং শটে গোলটি করেন শাকিল (১-০)। গোলের পর বিপক্ষকে আরো চাপে ফেলে পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে চারটি কর্নারও পায় সফরকারীরা। তাতে অবশ্য কোন গোল হয়নি। তবে এই চাপে দিশেহারা হয়ে পড়ে লঙ্কান দলটি।
এরই ধারাবাহিকতায় ৩৫ মিনিটে সংঘবদ্ধ আক্রমণ থেকে প্যাসকেলের পাসে বক্সের ভেতর থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মিথুন চৌধুরী (২-০)। বিরতির পর খেলতে এসে ৫৭ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন মিথুন (৩-০)। এবারও বল বানিয়ে দেন হাইতিয়ান মিডফিল্ডারটি। তিন গোলে বলের জোগান দেয়ার পর এবার নিজেই উদ্যোগী হন প্যাসকেল, ফ্রি-কিক থেকে ব্যবধান ৪-০ তে উন্নীত করে। তখন ৬০ মিনিটের খেলা চলছিল। খেলার অন্তিম মুহূর্তের তিন মিনিট আগে সব শেষ গোলটি আসে মিথুনের বদলি হিসেবে নামা সবুজের কাছ থেকে।
লঙ্কানরা অবশ্য দফায় দফায় পিছিয়ে পড়ার পর খেলায় ফেরার চেষ্টা চালালেও হাসান আল মামুন-রেজাউলদের দৃঢ়তায় পেরে ওঠেনি। অধিনায়ক বিপ্লবও এদিন দুটি আক্রমণ রুখে দেন।
