বাজেটে সহজগম্যতার স্বপ্ন

আপডেট : ১০ মে ২০১৪, ২০:৫৮
অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট আওতায় মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সারা দেশে প্রতিটি ইউনিয়নে গড়ে ২১ জন গরিব মা সুনির্দিষ্ট যেমন বাল্যবিবাহ, তালাক, বিবাদরোধ, বিবাহ নিবন্ধন, জন্ম নিবন্ধন, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, পুষ্টি খাদ্য, বিশ্রাম, প্রশিক্ষিত ধাত্রী, পূর্বাপর যত্ন সুপরিবেশ প্রদান ইত্যাদি শর্তে মাসে ৩শ’ টাকা দিয়ে শুরু হয়ে, এই সরকারের সময় বাড়িয়ে এ ভাতা প্রতি মাকে ৩৫০ টাকা হারে উপজেলা পরিষদের ব্যবস্থাপনায় দেয়া হয়। এ পর্যন্ত মহিলা অধিদপ্তরের সাথে ৩ শতাধিক এনজিও উপজেলা ভিত্তিক বাস্তবায়ন সহযোগী হিসাবে কাজ করে যাচ্ছে। মা কভারেজ ও সরকারের বাজেট বরাদ্দ হিসাব ক্রম অগ্রগতি ২০০৭-০৮ অর্থ বছরে শুরু হয়ে ২০১৩-১৪ অর্থ বছর পর্যন্ত ৩ লক্ষাধিক মা মাতৃত্বকালীন ভাতার আওতায় আসে এবং তা চলমান। এ যাবত্ বাজেট বরাদ্দ হয় ২শ’ কেটি টাকার ঊর্ধ্বে। তাই বছর কাবারীতে প্রতি বছরই আর্থ-সামাজিক অর্থনৈতিক দিকসহ এর একটা ব্যালেন্স সীটের কথা এসেই যায়। এত কম টাকা দিয়ে কি হয়, স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ী টাকা নিয়ে যায়, সঠিক মা’রা পান না, এত কম মা কভারেজ, সঠিক বাছাই ও ব্যবহার হয় না ইত্যাদি অনেক প্রশ্নের তালিকা আছে। পাশাপাশি বিচ্ছিন্ন নিঝুম দ্বীপের কামাল মেম্বারকে দেখলাম গর গর করে শর্তাবলী, বাছাই প্রক্রিয়া, সংখ্যায় কমের পরও খুশী সে, তার ভোটার জনদের কাছে মৌলিক একটি অধিকার পূরণের লক্ষ্যে সে কাজ করতে পারছে। পিরোজপুরের জেলা মহিলা কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার প্রচুর চাহিদার সংখ্যা ও পরিমাণের অপ্রতুলতার বাস্তবতার সম্মুখীন হয়ে এক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে কেঁদেই ফেললেন, অসহায় অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে। সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদ ইউনিয়নে, সাংবাদিক বোনদের এক প্রশ্নের উত্তরে এক ভাতাপ্রাপ্ত মা মাজেদা বলেন, এই টাকা থেকে যদি আমার স্বামী কিছু নিয়ে যায় বা আমি দেই, অসুবিধা কি? সেতো সারা বছরেই আমরা পরস্পরকে দেখা-শুনা করি। নদী ভাঙ্গা রামগতির ফাতেমা বলে, আমার স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ী এখন আমারে ভাল জানে, জিগায়, আমার ক্ষমতা বাড়ছে। তবে প্রথম দিকে সকল নিয়ম-কানুন তথ্য সকল দুর্গম বা সকল এলাকায় না জানার কারণে লামা উপজেলার সরাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ আলী দুই সন্তানের অধিক মাকেও বাছাই করেছেন। এমন দুই-একটি উদাহরণ যে নেই তা নয়। মা-ভাতার গল্প কুমিল্লা-বগুড়া একাডেমী, বিআইডিএস, পিপিআরসি, প্রসেসসহ দেশের বাহিরের সংস্থাও মূল্যায়ন-স্টাডি করেছে। সব গবেষণায় অকৃপণ এগিয়ে নেয়ার সুপারিশ এসেছে। এছাড়া দেশের স্থানীয়, কেন্দ্রীয় সরকার জনপ্রতিনিধি, জনপ্রশাসন, একাডেমেশীয়ান, জ্ঞান-সমাজ সর্বোপরি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মৌলিক সমর্থন, উপলব্ধি ও বিনিয়োগ এই হিসাবের খাতা বিয়োগ না হয়ে যোগের ঘরেই গড়াচ্ছে। বছরকে বছর সকল ধরনের স্থানীয়, কেন্দ্রীয় মিডিয়ার দুরদর্শিতা ছিল বড় নিয়ামক, বিশেষ করে, নারী সাংবাদিকরা ছিলেন প্রত্যয়ী। প্রশ্ন আসে এই স্বল্প মেয়াদী ২৪ মাসের পর কি? ধারাবাহিকতা, টেকসই ও জবাবদিহিতার জায়গাটায় বৈষম্য ও দারিদ্র্য বিমোচনে সবার প্রিয় মাকে সমতার অধিকার দৃষ্টিতে ন্যায্যতায় আনা যায় কি? ক্ষমতার সদিচ্ছা ও সততার প্রক্রিয়ায়, উপলব্ধির তাড়নায়, স্বয়ংক্রীয় পদ্ধতিতে দীর্ঘমেয়াদী সামগ্রিক উন্নয়ন আওতায় আনা যায় কি? এসব প্রশ্নের উত্তরের খোঁজাখুঁজির নামই হলো ‘স্বপ্ন’। Social Assistance Program for Non-Asseters- SAPNA. স্বপ্ন সফল বাস্তবায়নে প্রয়োজন হবে সামাজিক ও রাজনৈতিক মনিটরিং। এ ফাঁকে স্বয়ংক্রীয় টেকসই ও তা মনিটরিং এর জন্য এ সকল মাকে নিয়ে ফকিরহাট ‘স্বাস্থ্যগ্রাম’ কেন্দ্রিক ‘মা-সংসদ’ গঠন ও অনুশীলন চলছে। স্বপ্ন মাকে নিয়ে স্থানীয় সরকারের সাথে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানকে ব্যবহারিক প্রধান করে ‘পাবলিক পুয়র প্রাইভেট পার্টনারশীপ (পিপিপি) বেকআপ সমর্থক মা- সংসদ প্লাটফরম ও পিপিপি চুক্তির অনুশীলন চলছে। দ্বীপ ভোলার এওয়াজপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নূরে আলম সিকদার পুষ্টি, পানি, স্যানিটেশন কেন্দ্রিক পিপিপি অনুশীলন করছে। পাশপাশি সার্কভুক্ত দেশের স্যানিটেশন প্লাটফরম (SACOSAN) কাঠমাণ্ডু ২০১৩ ঘোষণায় গরিবকে পার্টনার করে পিপিপি ধারণাটি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এখন প্রয়োজন এগিয়ে নেয়ার। আশা করা যায় দারিদ্র্য বিমোচন লক্ষ্যে খণ্ডিত ও বিক্ষিপ্ততার মধ্যে সামগ্রিকতার একটি ‘স্বপ্ন’ পূরণ হবে, এবারের বাজেট ভাবনায়। উপলব্ধি ও ইচ্ছার স্থান শক্তভীতে প্রতিস্থাপিত হবে, এটাই সুবিধা বঞ্চিত দেশবাসীর প্রত্যাশা। মাকে নিয়ে বাজেট ভাবনার মূল কথাটার উত্পত্তি হয়েছিল ২ হাজার সালে ‘জনগণের স্বাস্থ্য আন্দোলন’ প্রেক্ষিতে বাঁশখালীর চাপাছড়ি গ্রামে। এক মা’র কথায় ‘গরিবের কি স্বাস্থ্য নাই, বাজেটে আমার হিস্যা কই’? দারিদ্র্য নিরসন কৌশলপত্র রচনার এক আলোচনা সভায় ভিএইচএসএস প্লাটফরমে মাতৃত্বকালীন ভাতা ২০০৫ সালে জাতীয় বাজেটে বরাদ্দের কথা আসে। ঐ দিন থেকে দেশজ মা দিবস ২০১৪ সালে ৮ বছর পেরিয়ে ৯ বছরে পদার্পণ করলো। বাংলাদেশকে পুনঃআবিষ্কার করার তাগিদ, আজকের এ মা দিবসের ‘স্বপ্ন’ দিয়ে। সামাজিক নিরাপত্তা বাজেট আওতায় সামষ্টিকভাবে হিসাবের দায়িত্বেই মাতৃত্বকালীন ভাতা-স্বপ্ন, সংখ্যা ও ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধির কথা অবশ্যই দাবী রাখে। লেখক: নির্বাহী প্রধান, ডর্প এবং গুসি আন্তর্জাতিক শান্তি পুরস্কার লরিয়েট

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন