মানব শিশু মায়ের কারণেই সুশীতল ধরাতলের সুন্দর মুখখানি দেখতে পায়। শিশু ভূমিষ্ঠ হবার পর বিশাল পৃথিবীর দিগন্ত বিস্তৃত আকাশের নিচে দুর্বল ও অসহায় থাকে। তাই মানব শিশুর জীবনের অস্তিত্ব নির্ভর করে সম্পূর্ণভাবে মায়ের আদর-যত্নের উপর। সন্তানকে লালন-পালন করা, তার লেখাপড়া, সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে মা সারাজীবনই উদ্বিগ্ন থাকেন। মা নিজে না খেয়ে সন্তানকে খাওয়ান। নিজে না পরে ভালো পোশাকটি সন্তানের গায়ে তুলে দেন। সন্তানের জন্য নানা উত্কণ্ঠায় বিনিদ্র রজনী কাটান। সন্তানের যে কোন অমঙ্গল মায়ের জন্য বেদনার কারণ হয়। কঠোর পরিশ্রম আর নানা কষ্ট সহ্য করে, নিঃস্বার্থভাবে তার সন্তানের জন্য সংসারের আয়-রোজগারের টাকা ব্যয় করে থাকেন। তাই বলতে হবে, মায়ের মতো অকৃত্রিম স্বজন পৃথিবীতে দ্বিতীয় আর কেউ নেই।
মাকে শ্রদ্ধা ও ভালবাসা জানানোর নির্দিষ্ট কোন দিন নেই। মায়ের প্রতি ভালবাসা প্রতিটি মুহূর্তের। তারপরও বিশ্বের সকল মানুষ যাতে একসাথে মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারে সেজন্য আন্তর্জাতিক মা দিবস পালন করা হয়। ১৯৭২ সালে আন্তর্জাতিকভাবে মা দিবস পালন শুরু হয়। বেশিরভাগ দেশই মাসের দ্বিতীয় রবিবার এই মা দিবস উদযাপন করে থাকে। মা দিবস পালনের উদ্দেশ্য হল—সমাজে মায়ের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা, মায়ের প্রতি বিশেষ সম্মান দেখানো, নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করা ইত্যাদি। আশার কথা হলো, মাতৃমৃত্যু কমানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। মাতৃত্বকালীন ছুটি বাড়িয়ে ছয় মাস করা হয়েছে। দরিদ্র মায়েরা পাচ্ছেন মাতৃত্বকালীন ভাতা। নিরাপদ মাতৃত্ব ও শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় অভূতপূর্ব সাফল্যে জাতিসংঘ বাংলাদেশকে (এমডিজি এওয়ার্ড ও সাউথ সাউথ এওয়ার্ড) পুরস্কৃত করেছে।
তাই, হে সকল প্রিয় সন্তান, তোমাদের কখনো মায়ের অবাধ্য হওয়া উচিত নয়। অবাধ্য সন্তান মায়ের কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কৃতী সন্তান মায়ের কাছে মাথার মুকুটস্বরূপ। যে সন্তান মায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও অনুগত, তারা জীবনে সাফল্য লাভ করে। বৃদ্ধ অবস্থায় “মা” সন্তানের উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় অসুখ ও স্বাস্থ্যের প্রতি অধিক নজর দিতে হবে। তাঁর সেবা-শুশ্রষার প্রতি যত্নশীল হওয়া সন্তানের একান্ত কর্তব্য। একটি অপূর্ব উক্তি যা না বললেই নয়— মাকে স্মরণ করে জগদ্বিখ্যাত মনীষী আব্রাহাম লিংকন বলেছিলেন, ‘আমি যা কিছু পেয়েছি, যা কিছু হয়েছি অথবা যা হতে আশা করি তার জন্য আমি আমার মায়ের কাছে ঋণী।’
সবশেষে বলতে হয়, মায়ের স্নেহ-ভালবাসা অকৃত্রিম এবং প্রতিদানহীন। কোন উপমা বা সংজ্ঞা দিয়ে মায়ের এ ভালবাসার পরিধি ও গভীরতা পরিমাপ করা যায় না। মা উচ্চারণের সাথে সাথে হূদয়ের অতল গহীনে যে আবেগ ও অনুভূতি রচিত হয় তাতে অনাবিল সুখের প্রশান্তি নেমে আসে। কাজেই, মা হচ্ছেন মমতা-নিরাপত্তা-অস্তিত্ব, নিশ্চয়তা ও আশ্রয়স্থল। মা সন্তানের অভিভাবক, পরিচালক, দার্শনিক, দিক-নির্দেশক, শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ও বড় বন্ধু। যাঁর ভালবাসার কোন সীমারেখা নেই।
লেখক:এসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার
সোনালী ব্যাংক লিমিটেড
