তরুণ সমাজ কি হতাশ

আপডেট : ১০ মে ২০১৪, ২১:৫৬
তরুণদেরকে সকল বাধা বিপত্তি অতিক্রম করতে হবে একটি দেশের উন্নয়নের প্রধান হাতিয়ার হল সে দেশের তরুণ সমাজ। তরুণ সমাজই পারে দেশকে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন এনে দিতে । ৫২’র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ৭১’র স্বাধীনতা আন্দোলনসহ সকল আন্দোলনে তরুণরাই অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করেছে। কিন্তু প্রশাসনে দুর্নীতি, অস্থিতিশীল রাজনীতি, মাদকদ্রব্যের সহজপ্রাপ্যতা, মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং শিক্ষাঙ্গনে অপরাজনীতির কারণে তরুণরা আজ হতাশায় নিমগ্ন। এই সকল বাধা-বিপত্তিকে অতিক্রম করে তরুণদেরকেই দেশের উন্নয়নের হাল ধরতে হবে। তরুণরাই দেশের প্রাণশক্তি। সমগ্র জাতি আছে তাদের দিকে তাকিয়ে । নিজের মেধা, মনন, শিক্ষা এবং পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে এই তরুণদেরকেই । শাকিল লেভেল-২, সেমিস্টার-১ কৃষি প্রকৌশল ও কারিগরি অনুষদ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ। ০০০০০০০০০০০০০ তরুণরাই তো বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ইমেজ যুদ্ধ পরবর্তী বিধ্বস্ত বাংলাদেশ আর একবিংশ শতাব্দীর পজেটিভ বাংলাদেশ এক নয়। সমৃদ্ধির বাংলাদেশ নির্মাণে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছে তরুণরাই। রাজনৈতিক অস্থিরতা, বেকারত্ব, গোড়ামী, আমলাতন্ত্রের বাধা ছিল। এখনও আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। সবার জন্য সমান সুযোগ হচ্ছে না বলেই অনেক তরুণ সফলকাম হচ্ছে না। হতাশাগ্রস্ত হয়ে হাতে তুলে নিচ্ছে মাদক এবং অস্ত্র, জড়িয়ে পড়ছে অপরাধে। সে ক্ষেত্রে আমাদের অভিভাবকরা কার্যকর পথ নির্দেশিকা বাতলে দিতে পারছে না। তরুণদের মনে রাখতে হবে বাংলাদেশ অমিত সম্ভবনার দেশ। ধৈর্য ধরে সামনের দিকে এগুতে হবে। হতাশ হলেই সব শেষ। বাংলাদেশে থেকেই নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা সম্ভব। সাইফুল হক মিঠু সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগ (শেষ বর্ষ), ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়। ০০০০০০০০০০০০০ তরুণরাই অগ্নিযুগের বিপ্লবী সূর্যসন্তান মানব সমাজের অস্তিত্বের প্রারম্ভ থেকে অদ্যাবধি তরুণরাই দ্বান্দ্বিক বৈষম্যের শিকার। অথচ তরুণরাই যুগে যুগে, কালে কালে কালজয়ী উপাখ্যানে পরিণত করেছে পরিবার সমাজ সভ্যতা ও রাষ্ট্রকে। কখনো যুদ্ধে কখনো সংগ্রামে কখনো ভাষার লড়াই-এ কখনো দাসত্বের শৃংখল ভাঙ্গতে, কখনো মুক্তির সংগ্রামে, কখনো স্বাধীকারের প্রশ্নে কখনো বন্যা, ঝড়, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়, সাইক্লোন, সুনামী, সিডর, ভূমিকম্প, ভূমিধস সর্বক্ষেত্রে বেঁচে থাকার অহিংস সংগ্রামে মানসিক প্রশান্তি উত্তরণে জীবন উত্সর্গ করেছে। সর্বকালেই এই তরুণরাই স্বীকৃতি পেয়েছে অগ্নিযুগের বিপ্লবী সূর্যসন্তান হিসেবে। এই তরুণ সমাজ আজ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, দ্বন্দ্ব সংঘাত, ভয় সন্দেহ, সংশয়, আতঙ্কগ্রস্ত রক্তক্ষয়ী মরণাস্ত্রে জর্জরিত। রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বে তরুণদের আদর্শ বা দর্শন কী হওয়া উচিত? দাউ দাউ করে জ্বলে উঠা দাবানলের বিষাক্ত আগুনে তরুণ শক্তিকে ধ্বংসযজ্ঞের শ্মশানে পরিণত যদি হয় উদ্দেশ্য তাহলে তরুণরা কিভাবে দাঁড়াবে প্রতিবাদ মুখর হয়ে। মোঃ শফিকুল ইসলাম এম এস এস (ফাইনাল) সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনষ্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ০০০০০০০০০০০০০ তরুণদেরকে পূর্বের চেতনায় জাগ্রত করতে হবে এবং সঠিক গাইড দিতে হবে তরুণ সমাজের ওপর যে কোন দেশের ভবিষ্যত্ নির্ভরশীল। তরুণ ব্যতীত কোন দেশই উন্নতির চরম শিখরে পদার্পণ করতে পারে না। ইতিহাস খুঁজলে দেখা যায়, আমাদের দেশের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত প্রত্যেকটি ধাপে তরুণ সমাজ উদ্যমী, মেধাবী ও দুঃসাহসের পরিচয় দিয়েছে। সঠিক গাইড দিয়ে তাদেরকে সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে দ্বার করাতে হবে এবং তরুণদের জাগ্রত করতে হবে পূর্বের চেতনায়। তরুণের কণ্ঠে উচ্চারিত হতে হবে নজরুলের সেই বাণী— “উষার দুয়ারে হানি আঘাত, আমরা আনিব রাঙা প্রভাত, আমরা টুটাব তিমির রাত, বাধার বিন্ধ্যা চল’। আবু নোমান (নাজ) বিএ অনার্স (২য় বর্ষ), ঢাকা কলেজ, ঢাকা। ০০০০০০০০০০ সচেতনতাই পারে তরুণ সমাজকে হতাশার হাত থেকে বাঁচাতে তরুণ ছাত্ররা এসব বেড়াজাল থেকে নিজেদেরকে ছিন্ন করতে পারছে না তাই শিক্ষা ক্ষেত্রে তারা অনেক পিছিয়ে রয়েছে। কোন রকমে অনার্স পাস করার পর ভূমিকাও রাখতে পারছে না চাকরির ক্ষেত্রে। অবশেষে তারা বেছে নিয়েছে নেশা, খুন, রাহাজানি, অপহরণ নামক বিভিন্ন পন্থা। যেখানে আমাদের তরুণ সমাজের কথা ছিল সুশিক্ষিত হয়ে দেশ গড়ার কাজে লেগে যাওয়া, প্রতিটি ক্ষেত্রেই সাফল্যের সুনাম বয়ে আনা। কিন্তু তারা আজ হতাশ কেন? তাদের এই দুর্দশার জন্য স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠি আর আমাদের দেশের বর্তমান অবস্থা কি দায়ী নয়? এখনও সময় আছে আমাদের তরুণ সমাজকে জাগাতে হবে। শুধু তারাই পারে দেশটাকে উন্নতির সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছে দিতে। সমাজের প্রত্যকটা সচেতন নাগরিকের উচিত তরুণ সমাজকে তাদের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন করে তোলা। উম্মে হাবীবা সিদ্দিকা (শিশির) বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় অনার্স ৪র্থ বর্ষ, মাত্স্যবিজ্ঞান অনুষদ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন