আল আমিনের সামনে সুযোগ ছিল ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়ে দিনের নায়ক হয়ে যাওয়ার। নাসির হোসেনের সামনে সুযোগ ছিল এই ম্যাচের প্রথম সেঞ্চুরিটা করার; কিন্তু দিনশেষে প্রবল দাবদাহ ছাড়া আর কাউকেই ‘দিনের নায়ক’ বলে রায় দেয়া যাচ্ছে না!
আরো একবার এই উত্তপ্ত দিনে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়াম দেখলো ব্যাটসম্যানদের সেট হয়েও উইকেট ছুঁড়ে দিয়ে আসার পালা। এবার কাজটা করলেন বিসিবি উত্তরাঞ্চলের ব্যাটসম্যানরা। বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল) ফাইনালের গতকাল দ্বিতীয় দিনে অধিনায়ক নাসির হোসেনের ৭০ রানের পরও ৯৭.৫ ওভারে উত্তরাঞ্চল অল-আউট হলো ২৩৫ রানে। ফলে পাঁচ দিনের এই ফাইনালে প্রাইম ব্যাংক দক্ষিণাঞ্চলের প্রথম ইনিংসের চেয়ে ৩৬ রানে পিছিয়ে রইলো নাসিরের দল।
আগের দিনের বিনা উইকেটে ১৫ রান নিয়ে গতকাল ব্যাটিং শুরু করেছিল উত্তরাঞ্চল। সকাল বেলাতেই ২৫ রান করা জুনায়েদ ফিরে যান দলীয় ৩৮ রানে। এরপর মাইশিকুর ও ফরহাদ হোসেন ৬০ রানের একটা জুটি করে বেশ ধকল সামলে উঠেছিলেন; কিন্তু ওই যে ছুঁড়ে দিয়ে আসা রোগ! ৪২ রান করে মাইশিকুর ও ৩২ রান করে ফরহাদ ফিরে আসলেন। ৯৮ রান পর্যন্ত ১ উইকেট হারিয়ে আসা দলটি পরের ৬ রানে আরো ৩ উইকেট হারিয়ে ফেললো। প্রথম এই ৪ উইকেটের ৩টিই তুলে নিয়ে মিরপুরের নায়ক তখন পেসার আল আমিন।
এখান থেকে দলকে একা হাতে টেনে তোলারই এক চেষ্টা শুরু করেছিলেন নাসির হোসেন। অন্য প্রান্তে যাওয়া আসা অব্যাহত থাকলেও নাসির প্রায় শেষ পর্যন্ত লড়ে গেলেন। নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হয়েছেন ব্যক্তিগত ৭০ ও দলীয় ১৯৯ রানে। দিনশেষে নাসির নিজেও স্বীকার করলেন ওই সময়ে তিনিও উইকেট ছুঁড়ে দিয়ে না এলে দলের অবস্থা আরেকটু ভালো থাকতো। তবে এখনো ম্যাচের ব্যাপারে আশাবাদী নাসির।
এই আশাবাদটা ধরে রাখার মতো অবস্থায় নেয়ার পেছনে ১০ নম্বর ব্যাটসম্যান তাইজুলের ২৯ রানের ভূমিকাও কম না। তার কল্যাণেই শেষ দুই উইকেট জুটিতে ৩৬ রান যোগ করতে পারলো উত্তরাঞ্চল।
দক্ষিণাঞ্চলের হয়ে আল আমিন ৪টি এবং রাজ্জাক, সোহাগ ও শুভাগত ২টি করে উইকেট নিয়েছেন।
বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ
ফাইনাল
প্রাইম ব্যাংক দক্ষিণাঞ্চল (১ম ইনিংস)
৮৩ ওভারে: ২৭১/১০
বিসিবি উত্তরাঞ্চল: ১ম ইনিংস
মাইশিকুর ক এনামুল ব আল আমিন ৪২ ১৬৬
জুনায়েদ ক মিথুন ব আল আমিন ২৫ ৪৭
ফরহাদ হো. ক মিথুন ব শুভাগত ৩২ ১১৬
নাইম ক সালমান ব আল আমিন ০ ৬
নাসির ক শুভাগত ব সোহাগ৭ ০ ১১৩
তানভীর ক সোহাগ ব রাজ্জাক ৮ ৪২
হামিদুল এলবিডব্লু সোহাগ ৯ ২৩
ফরহাদ ক শুভাগত ব আল আমিন ৭ ১৫
সানজামুল ক অপু ব শুভাগত ৭ ১৬
তাইজুল নটআউট ২৯ ২৪
শুভাশিষ ব রাজ্জাক ১ ৩
অতিরিক্ত (বা-৩, লেবা-১. ও-৪) ৮
মোট: ৯৭.৫ ওভারে ২৩৫/১০ বোলিং:
আল আমিন ১৭-৫-৩৫-৪, মোস্তাফিজুর ১০-২-৩১-০, সোহাগ ২০-৪-৬৮-২, রাজ্জাক ৩১.৫-১৩-৬৭-২, জিয়া ৬-৩-৯-০, শুভাগত ১৩-৪-২১-২
(দ্বিতীয় দিন শেষে)
