মঞ্চে আসছেন হাতুরুসিংহা?

আপডেট : ১০ মে ২০১৪, ২২:১২
উপুল চান্দিকা হাতুরুসিংহা। শ্রীলঙ্কানদের বিশাল বিশাল নামের তুলনায় ভদ্রলোকের নাম ছোটই বলতে হবে। নাম ছোট হোক আর বড় হোক; আপাতত এই ভদ্রলোকের নামটা মনে রাখার চেষ্টা করতে পারেন। কারণ বাতাসে উড়তে থাকা গুঞ্জন সত্যি হলে শ্রীলঙ্কার এই সাবেক টেস্ট ক্রিকেটার এবং গত কয়েক বছর ধরে অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেটের দারুণ সফল এই কোচ হয়ে যেতে পারেন বাংলাদেশের পরবর্তী জাতীয় দলের কোচ। না, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কোচ অনুসন্ধান কমিটি তার নাম জানায়নি। কারো নাম জানানো তো দূরে থাক, কোচ অনুসন্ধান কমিটির সদস্যরা কোনো নামের প্রতি ইঙ্গিত দিতেও রাজী নন। তারা শুরু থেকেই বলছেন, কারো নাম সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ হলে তার সঙ্গে আলোচনা এগোনোটা সমস্যা হয়ে যায়; কারণ তিনি নিজের কর্মক্ষেত্রে চাপে পড়ে যান। এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে অনুসন্ধান কমিটি অত্যন্ত সফলভাবেই তাদের সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা কোচদের নাম চেপে রাখতে পেরেছেন। তারপরও শুরু থেকে মাইকেল বেভান, অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারদের সঙ্গে হাতুরুসিংহার নামটাও খুব বাতাসে ভাসছিল। আর গত দুদিন ধরে বোর্ডের কিছু সূত্রই আভাস দিচ্ছে, এই শ্রীলঙ্কানের সঙ্গেই আলোচনাটা সবচেয়ে বেশি এগিয়েছে। অনুসন্ধান কমিটির সদস্য ও বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স বিভাগের পরিচালক আকরাম খান নাম নিয়ে কোনো কথা বলতে না চাইলেও এটা বুঝিয়ে দিলেন যে, তারা কোনো একজনের সঙ্গে চূড়ান্ত আলাপ থেকে আর খুব একটা দূরে নেই, ‘আশা করছি এই মাসটা শেষ হওয়ার আগেই আমরা একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছে যেতে পারবো।’ আবার কমিটির আরেক সদস্য, বিসিবি পরিচালক খালেদ মাহমুদ বলছিলেন, ‘সংক্ষিপ্ত তালিকা ধরে আলোচনা চলছে। কিন্তু কারো নাম প্রকাশ করার সুযোগ নেই। আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছালে আমরাই দ্রুত আপনাদের জানিয়ে দেব।’ এই দুজন মুখ খুলতে রাজী না হলেও কমিটির আরেক সদস্য স্বীকার করে নিলেন যে, তাদের সংক্ষিপ্ত তালিকায় হাতুরুসিংহা ছিলেন বা আছেন। তবে তার কাছ থেকে চূড়ান্ত ‘হ্যা’ বা ‘না’ এখনও তারা জানতে পারেননি বলেই এই অপেক্ষাটা চলছে তাদের। তবে তিনি আভাস দিলেন, এই অস্ট্রেলিয়ার বাসিন্দা শ্রীলঙ্কান কোচের সঙ্গে তাদের চাওয়া-পাওয়া প্রাথমিকভাবে বেশ মিলে গেছে। এই চাওয়া-পাওয়া মেলাটাই আসল ব্যাপার। কোচ অনুসন্ধান কমিটির সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা আরও দুই কোচ অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার ও মাইকেল বেভানের সঙ্গে এটাই মিলছে না। অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার ইংল্যান্ড জাতীয় দলের চাকরি ছাড়লেও ইংলিশ বোর্ডেরই বড় চাকরি করছেন। সেখান থেকে তাকে ছুটিয়ে আনাটা বিপুল অর্থের ব্যাপার। মাইকেল বেভাগ উড়িশ্যা দলের চাকরি হারানোর পর থেকে বেকার আছেন। তবে তার সঙ্গে আলোচনা এগোনোর ক্ষেত্রেও অর্থ প্রধান বাধা বলে জানা যাচ্ছে। এ অবস্থায় শ্রীলঙ্কার হয়ে ২৬টি টেস্ট ও ৩৫টি ওয়ানডে খেলা সাবেক অলরাউন্ডার হাতুরুসিংহাই আসলে একমাত্র বিকল্পে পরিণত হয়েছেন। তার কোচিং ক্যারিয়ারও বাংলাদেশকে আগ্রহী করে তুলেছে। ২০০৫ সালে অবসর নেয়ার পর আরব আমিরাতের কোচ হিসাবে যাত্রা শুরু করেছিলেন। একবছর ওই দায়িত্ব পালনের পর তিন বছরের জন্য শ্রীলঙ্কা-এ দলের কোচ হিসাবে নিয়োগ পান মহানামা-জয়াসুরিয়াদের এই সতীর্থ। ২০০৯ সালে ট্রেভর বেলিসের সহকারী হিসাবে জাতীয় দলে যোগ দেন হাতুরুসিংহা। জয়াবর্ধনে-সাঙ্গাকারার খুব প্রিয় এই মানুষটিকে পরের বছর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বহিষ্কার করে। ততোদিনে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব পেয়ে যাওয়া হাতুরুসিংহা ২০১১ বিশ্বকাপে কানাডা দলের প্রধান কোচ হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। পর পরই তিনি নিউ সাউথ ওয়েলসের সহকারী কোচ হিসাবে যোগ দেন। ২০১২ সালের ডিসেম্বরে প্রধান কোচ অ্যান্থনি স্টুয়ার্ট চাকরি হারালে মৌসুমের বেশিরভাগ সময় দলের প্রধান কোচ ছিলেন তিনি। এই প্রোফাইল দেখে তাকে বাংলাদেশের কোচ করাটা খুব অন্যায় নয়। এখন কথা হল, ব্যাটে বলে মিলবে কিনা!