তরুণ সমাজ
সঠিক দিক-নির্দেশনা
পাচ্ছে না
তরুণ সমাজ আজ সত্যিই হতাশ ও বিচলিত। কারণ তারা সঠিক দিক-নির্দেশনা পাচ্ছে না। জাতির জ্ঞানের মেরুদণ্ড হলো শিক্ষা। আর শক্তির মেরুদণ্ড হলো তরুণ সমাজ। আজ তরুণ সমাজ বড় ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। আর এর জন্য বেশি দায়ী অভিভাবকগণ। কারণ তারা তাদের সন্তানদের এমনভাবে গড়তে চান যে তারা বড় হয়ে যেন বেশি কামাইদার হতে পারে। আর সেভাবেই গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। কিন্তু কখনো ভাবেন না টাকাই জীবনের মূল উদ্দেশ্য নয়। তারা যদি আদর্শবান, চরিত্রবান ও ধর্মীয় জ্ঞানসম্পন্ন করে গড়ে তুলতেন, তাহলে আদরের সন্তানদের হাতে লাঞ্ছিত, অপমানিত হতে হতো না। মানুষের মনুষত্ব বিকাশের জন্য ধর্মীয় শিক্ষা এবং তার বাস্তবায়ন অবশ্যই দরকার। আজ তরুণ সমাজ রূপচর্চা, নেশা জাতীয় দ্রব্য ও পর্নোপ্রাফির পিছনে যে অর্থ ও সময় ব্যয় করছে যদি এই মূল্যবান সময় মানুষের কল্যাণে এবং অর্থ আয়-এর পিছনে করত তাহলে জীবনে কখনো তাদের কোনো হতাশা গ্রাস করত না। প্রযুক্তির স্বর্ণযুগে বাস করেও তরুণ সমাজ তার অপব্যবহার করে বিপথগামী হয়ে দুশ্চিন্তা দূরাবস্থায় পতিত হচ্ছে। আজ তরুণ সমাজের জন্য আত্মশুদ্ধির দ্বার উন্মুক্ত করা অতীব প্রয়োজন। আর এ দায়িত্ব নিতে হবে পরিবার, সমাজ, মিডিয়া এবং সরকারকে এবং তা হতে হবে খুবই দ্রুত। আর না হলে জাতিকে চরম মূল্য দিতে হবে। সেদিন হয়ত বেশি দূরে নয়।
মোসা. শাহীনুর মুন্নী, ডিগ্রী
সমাজকল্যাণ
মজিদা বেগম মহিলা কলেজ, ভাণ্ডারিয়া, পিরোজপুর।
===
তরুণরা আজ
হতাশ নয়
চিন্তিত
সমকালীন পরিবেশ তরুণকে হতাশার সাগরে ডুবাতে না পারলেও, গভীরভাবে চিন্তিত করেছে। বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, বর্তমানে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্নপত্র, নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র, ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র, পিএসসি, জেএসসি, এসএসসি এমনকি এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রও বাজারে পণ্যের মত বিক্রি হচ্ছে। ফলে প্রশ্ন কিনে অনেকেই অনেককিছু না পড়েও হয়ে যাচ্ছে অসাধারণ মেধাবী ছাত্র। পেয়ে যাচ্ছে বড় বড় পোস্টের চাকরি। অপরদিকে লেখাপড়া করে যাওয়া সাধারণ শিক্ষার্থীরা বার বার ধোঁকা খাচ্ছে। ফলে লেখাপড়ার প্রতি একটা অনীহা জন্মাচ্ছে তাদের। এভাবে চলতে থাকলে হয়ত পরবর্তী প্রজন্মকে তারা বলবে,“লেখাপড়া করেও দেখছি, টাকা থাকলেই ভালো রেজাল্ট করা যায়। ভালো চাকরি পাওয়া যায়।”তাই এই বিষয় নিয়ে তরুণ সমাজ আজ চিন্তিত। কিভাবে বন্ধ করা যায় প্রশ্নপত্র বিক্রির ব্যবসা, কিভাবে বাঁচানো যায় পরবর্তী প্রজন্মকে এই ধ্বংসের হাত থেকে।
মো. জাকির হোসেন
মাত্স্য বিজ্ঞান অনুষদ, লেভেল-০১,
শাহ্জালাল হল, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।
===
হতাশা যখন দরজার সামনে
এসে দাঁড়ায় আশা তখন
জানালা দিয়ে পালায়
আমি বাংলাদেশের কথা বলছি। স্বাধীনতার এত দিন পেরিয়েও জাতি হিসেবে আমরা এখনও স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠতে পারিনি। রোগ-শোক দরিদ্রতা আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। এক বুক আশা নিয়ে যখন প্রাচ্যের অক্সফর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসি তখন গর্বে বুকটা ভরে যায়। কিন্তু এ আনন্দ, আশা ছিল ক্ষণিক সময়ের জন্য। আমি পারি না সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে। ঘরে ভাত নেই, বাবার চশমা নেই, মায়ের ওষুধ নেই, বোনের স্কুলের বেতন ফি নেই, দু’মুঠো ভাত খাবার জন্য একটা টিউশনি পর্যন্ত পাচ্ছি না। এভাবে কি আর জীবন চলে। আবার পড়াশোনা শেষ করে চাকরির সন্ধানে আমাদের মত সাধারণ কৃষক পরিবারের সন্তানদের জুতোর তলা ক্ষয়ে যায়, কারণ আমাদের তো আর এতো টাকা-পয়সা নাই যে বড় বড় মামা-খালুকে ধরব, নেই কোন কোটা। তখনই মনে হয় আমার মত আজকের তরুণ সমাজ চরম হতাশাগ্রস্ত। পারব কি জীবন তরী বাইতে? পারব কি?
মো. তানভীর হায়াত খান
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ,
====
জাতি গঠনের
চালিকাশক্তি তরুণরা
হতাশ নয়
৭ম ব্যাচ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
তারুণ্য হল সর্ববিপদ-জয়ী, সর্বগামী এবং ধ্বংস-সৃষ্টির প্রতীক। তরুণরা সকল দেশের, সকল কালের। এ দেশের তরুণরা স্বাধীনতার জন্য প্রাণ উত্সর্গ করতে কোন দ্বিধা করেনি। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে সংগ্রামী হয়ে দেশের জন্য রক্ত দিতে এ দেশের তরুণরা পুণ্যের কাজ বলে মনে করে। বর্তমান নতুন সমাজ ও জাতি গঠনে তারুণ্যের প্রয়োজন ও অবদানই সবচেয়ে বেশি। চারপাশের অন্যায়-অত্যাচার, সামাজিক বৈষম্য দেখে তরুণরাই আগে এগিয়ে এসেছে। এর প্রমাণ আমরা প্রতিনিয়ত পাচ্ছি। আমাদের তরুণরাই জাতীয় জীবনের চালিকাশক্তি, তারা হতাশ নয়।
জনি লাল দেব
ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ,
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট।
