বাংলাদেশের প্রথম ক্লাব হিসেবে শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্র এএফসি প্রেসিডেন্টস কাপ ফুটবলের চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছেন। গতকাল রবিবার শ্রীলঙ্কার কলম্বোর সুগাথাদাসা স্টেডিয়ামে ভুটানের উগেইন একাডেমি ফুটবল ক্লাবের বিরুদ্ধে ৪-০ গোলে জিতে এ কৃতিত্ব দেখায়। মিঠুন চৌধুরী দুই গোল দেন। অপর দুটি গোল আসে প্যাসকাল মিলিয়েন ও শাকিল আহমদের কাছ থেকে।
শেখ রাসেল অধিনায়ক বিপ্লবের চোখে এই জয় বাংলাদেশের। বাফুফের মাধ্যমে তিনি শ্রীলঙ্কা থেকে বলেন, ‘ষোল কোটি মানুষের ভালোবাসা ও প্রত্যাশার মান রাখতে পেরেছি এটাই সবচেয়ে আনন্দের।’ অপরদিকে দায়িত্ব নেয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই সাফল্য এনে দেয়া কোচ দ্রাগান দুকানোভিচ বলেন, ‘দেশে ফিরেও এই পারফরম্যান্স ধরে রাখতে চাই। এখানকার ফর্ম ছেলেরা কতটুকু দেশে ফিরে ধরে রাখতে পারবে, তার ওপরই অনেক কিছু নির্ভর করছে। তবে ওরা যেমন খেলেছে, আমি তাতে সন্তুষ্ট।’
মিঠুন চৌধুরী গোল দুটি করেন ২১ ও ৮৮ মিনিটে। তার আগে হাইতির ফরোয়ার্ড প্যাসকাল ১৪ মিনিটে গোলের সূচনা করেন। দলের শেষ গোলটি আসে রেফারির শেষ বাঁশির দুই মিনিট আগে শাকিলের কাছ থেকে। বিরতি সময়ে দলটি তিন গোলে এগিয়ে ছিল।
ঢাকায় প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, আগের দুই খেলায় একই একাদশ থাকলেও কোচ দুকানোভিচ এদিন স্ট্রাইকার রবিনের পরিবর্তে সবুজকে নামান। দলটি শুরু থেকেই উগেইন একাডেমির বিপক্ষে আক্রমণাত্মক খেলতে থাকে। দশ মিনিটের মধ্যে দুটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেন প্যাসকাল ও মিথুন। তাতে অবশ্য কোনো সমস্যা হয়নি। মিঠুনের থ্রু থেকে বক্সের ভেতরে গোলকিপারকে বোকা বানিয়ে বল জালে পাঠান প্যাসকাল (১-০)। ২১ মিনিটে প্যাসকালের জোগানো বলে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মিঠুন। টুর্নামেন্টে এটি তার তৃতীয় গোল। দলের তৃতীয় গোলটা আসে শাকিলের পা থেকে। বিপক্ষের রক্ষণভাগকে বোকা বানিয়ে, ডান দিক থেকে পাঠানো প্যাসকালের ক্রসে দারুণ প্লেসিংয়ে ব্যবধান ৩-০ করেন শাকিল।
বিরতির পর শেখ রাসেল গোল করার চাইতেও বল নিজেদের দখলে রাখায় বেশি মনোযোগী ছিল। এর মধ্যেও উগেইন দূরপাল্লার শটে গোল শোধের চেষ্টা চালিয়েছে। এরই ফলশ্রুতিতে শেখ রাসেল গোলরক্ষক বিপ্লব গোটা তিনেক আক্রমণ রুখে দেন। এরপর আসে মিঠুনের দ্বিতীয় ও দলের চতুর্থ গোলটি।
এ নৈপুণ্যে সন্তুষ্ট হয়ে শেখ রাসেল সভাপতি নূরুল আলম চৌধুরী দলের সদস্যদের ব্যক্তিগতভাবে দশ হাজার ডলার বোনাস হিসেবে দিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
ভুটানের ক্লাবটির বিরুদ্ধে পাওয়া জয়টির সুবাদে প্রতিযোগিতার ‘এ’ গ্রুপে সাত পয়েন্ট পেয়ে চ্যাম্পিয়ন হলো শেখ রাসেল। অপরদিকে ২০১৩ সালের ফাইনালিস্ট পাকিস্তানের খান রিসার্চ ল্যাবরেটরী ফুটবল ক্লাবকে গতকালের অপর খেলায় শ্রীলংকার বিমান বাহিনী দল ৩-০ গোলে পরাজিত করে।
শ্রীলংকায় অনুষ্ঠিত এ টুর্নামেন্টে শেখ রাসেল নিজেদের প্রথম খেলায় পাকিস্তানের ক্লাবটির সাথে গোলশূন্য ড্র করে এক পয়েন্ট পেয়েছিল। এরপর গত শুক্রবার স্বাগতিক ক্লাবটিকে ৫-০ গোলে হারিয়ে পায় আরো তিন পয়েন্ট। সর্বশেষ ভুটানের ক্লাবকে হারিয়ে পেলো আরো তিন পয়েন্ট। সব মিলিয়ে সাত পয়েন্ট এবং শ্রেয়তর গোল ব্যবধানের সুবাদে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশের দলটি।
দল খেলা জয় ড্র হার গোল (পক্ষে/বিপক্ষে) পয়েন্ট
শেখ রাসেল ৩ ২ ১ ০ ৯/০ ৭
শ্রীলঙ্কা বিমান বাহিনী ৩ ২ ০ ১ ৪/৫ ৬
খান রিসার্চ ল্যাবরেটরী ৩ ১ ১ ১ ৩/৩ ৪
উগেইন একাডেমী ৩ ০ ০ ৩ ০/৮ ০
