স্যামুয়েল ইতোর মতো বিখ্যাত খেলোয়াড় যেমন আছেন, তেমনি আছেন স্টেফানি মোবিয়ার মতো উঠতি তারকাও। তবে ইতো-মোবিয়াদের উপর নয়, বরং ব্রাজিল বিশ্বকাপে ক্যামেরুনের ভাগ্য নির্ভর করছে তাদের ঐক্যবদ্ধ থাকার উপরে। দলীয় সম্প্রীতির অভাবে গত বিশ্বকাপে প্রথম রাউন্ডে বিদায় নেয়া দলটি এবারও আক্রান্ত সেই পুরনো সমস্যাতেই। তাই আগামী ১২ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে খেলোয়াড়দের একাট্টা করতে পারাকেই কোচ ভলকার ফিনকের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসাবে মনে করা হচ্ছে।
বিশ্বকাপ শুরুর মাসখানেক আগে দেশটির ইতিহাসের অভিজ্ঞতম খেলোয়াড় রিগোবার্ট সংকে পাল্টে স্যামুয়েল ইতোকে অধিনায়ক করার মাধ্যমে যে বিরোধের শুরু, সেই বিরোধই দক্ষিণ আফ্রিকায় বিশ্বকাপের গত আসরে সর্বনাশ করে ক্যামেরুনের। তিনটি ম্যাচই হেরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় ‘অদম্য সিংহরা’। আর পরেই গণমাধ্যমে উঠে আসতে শুরু করে দলের ভেতরে বিভিন্ন উপ-দলের অস্তিত্বের কথা। খেলোয়াড়দের এক পক্ষের অবস্থান ছিল ইতোর পক্ষে। আর অন্যপক্ষে ছিলেন বার্সেলোনা ডিফেন্ডার ও রিগোবার্টের ভাতিজা অ্যালেক্স সংয়ের মতো বেশ কিছু খেলোয়াড় যারা কিনা ঐ বিশ্বকাপ বিপর্যয়ের পর বেশ কিছুদিন ছিলেন দলের বাইরে।
তবে এবার দলের মধ্যে সে রকম কোন বিভাজন নেই বলে দাবি করলেন সেভিয়ার মিডফিল্ডার মোবিয়া। ইউরোপা কাপের সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে, ৯৪তম মিনিটের অ্যাওয়ে গোলে দলকে ফাইনালে তোলা এই তারকা বলেন, ‘সবাই সবার কথা শুনতে এবং সর্বোচ্চ ছাড়টুকু দিতে প্রস্তুত। দেশ, সতীর্থ এবং নিজেদের জন্য আমরা আমাদের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত।’
তবে মোবিয়ার এই কথার সাথে একমত নন ডিফেন্ডার বেনোয়েট আসৌউ-ইকোতো। ইংলিশ ক্লাব কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্সের এই খেলোয়াড় জানান, ‘১৯৯০ সালে যে দলটি কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছিল প্রতিভা কিংবা কৌশলগত সামর্থ্য বিবেচনায় বর্তমান দলটিকে হয়তো তাদের সাথে তুলনা করা যায়। তবে (এই) দলের খেলোয়াড়রা যখন একত্র হয়, তখন অনেকে তথাকথিত বড় দল থেকে আসা তারকার মতো আচরণ করে। যা কিনা প্রায় সাথে সাথেই ড্রেসিংরুমের আবহ পাল্টে দেয়। আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা শিশু সন্তানের জনক। অথচ, আমরাই কিনা শিশুদের মতো আচরণ করছি। এসব অহংবোধ থেকে বেরিয়ে আমাদের অবশ্যই মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন।’
ঐ দলীয় বিভাজনের কারণেই এবার বিশ্বকাপেও ক্যামেরুনের কাছ থেকে ভাল কিছু প্রত্যাশা করতে পারছেন না তাদের আরেক সাবেক তারকা ওমাম বিয়িক। আফ্রিকার কোন দেশ হিসাবে সর্বোচ্চ সাতবার বিশ্বকাপের চূড়ান্তপর্বে খেলা দেশটির এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ সাফল্য হয়ে আছে ১৯৯০ আসরে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছানোটাই। রজার মিলার নেতৃত্বে দেশকে সর্বোচ্চ বিশ্বকাপ সাফল্য এনে দেয়া সেই দলের সদস্য বিয়িক বলেন, ‘ক্যামেরুনে মেধাবী খেলোয়াড়ের কোন অভাব নেই। তবে কোন সময়ই তাদের একটি দল হিসাবে খেলতে দেখা যায় না। প্রত্যেকেই নিজেকে একজন তারকা ভাবেন এবং ব্রাজিলের মতো একটা দল যাদের কিনা স্বাগতিক দর্শক সমর্থন থাকবে; তাদের বিরুদ্ধে জেতাটা দারুণ কঠিনই হবে। সুতরাং, তাদের পর দ্বিতীয় দল হিসাবে (গ্রুপ পর্ব পেড়োতে) লড়তে হবে ক্যামেরুন, মেক্সিকো এবং ক্রোয়েশিয়াকে।’
বিশ্বকাপের ১৯৯০ আসরে প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসাবে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা ক্যামেরুন সেবার শেষ আটে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে হারের পর গত ২৪ বছরে তাদের ১২ ম্যাচে জিততে পেরেছে মাত্র একটি ম্যাচ। তবে ব্যর্থতার সেই বলয় ভাঙ্গতে বদ্ধপরিকর ফিনকে। চেলসির হয়ে ইতোর ফর্মই বড় স্বপ্ন দেখাচ্ছে এই জার্মানকে, ‘চেলসির হয়ে স্যামুয়েল তার সেরা ফর্মে ফিরেছে। সে ক্যামেরুনের ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড় এবং যে কোন ম্যাচে ব্যবধান গড়ে দেয়ার সামর্থ্য তার আছে।’
