জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, মায়ের উন্নয়ন মানে জাতির উন্নয়ন, দেশের উন্নয়ন। তাই মায়ের উন্নয়নের জন্য মাতৃ স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থানে নারীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং দক্ষতা অর্জনে প্রশিক্ষণসহ উদ্যোক্তা তৈরিতে প্রণোদনা দিতে হবে। আর তাই আসন্ন বাজেটে ৪০টি মন্ত্রণালয় যুক্ত করে জেন্ডার সংবেদনশীল করলেই হবে না, বরাদ্দ কোথায় কিভাবে খরচ করা হবে সেদিকেও তদারকি করতে হবে, যেন তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হয়।
গতকাল রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বাজেট ভাবনা : সংগ্রামে উন্নয়নে দারিদ্র্য বিমোচনে মা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ব মা দিবস উপলক্ষে যৌথভাবে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে দৈনিক ইত্তেফাক ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ডর্প।
ইত্তেফাকের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক তাসমিমা হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য শিরীন আক্তার ও কেয়া চৌধুরী, একশন এইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারহা কবির, ভাস্কর শিল্পী ফেরদৌসি প্রিয়ভাষিনী, কবি রুবী রহমান, সাংবাদিক নাদিম কাদের, শিল্পী ফাহমিদা নবী, সহকারী উপ-পুলিশ কমিশনার মুক্তা ধর, র্যাবের লিগ্যাল এন্ড মিডিয়া উইংয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাদিরা খাতুন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন ডরপের প্রতিষ্ঠাতা এএইচএম নোমান।
স্পিকার বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন ও বাজেট ভাবনায় মা বিষয়টা পূর্বের বাজেট থেকে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। আমাদের বাজেটে নিরাপত্তা বেষ্টনী হিসেবে বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা যেমন গুরুত্ব পেয়েছে; তেমনি হতদরিদ্র নারীর জন্য মাসে ৩০ কেজি চাল দেয়া ও বিধবা ভাতা এসব বিষয়ও আছে।
তিনি আরো বলেন, গত বাজেটে নারী উদ্যোক্তদের জন্য ১০০ কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে; কিন্তু তা খরচ করা যায়নি বলে এবছর তা কমিয়ে আনা হবে। তিনি এর সমালোচনা করে বলেন, অনেক নারী উদ্যোক্তা আছেন যাদের দুয়ার পর্যন্ত এই সেবা পৌঁছায় না। তাই সেদিকে যত্নশীল হয়ে পুরো টাকা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির ভাষণে তাসমিমা হোসেন দেশের প্রথম নারী স্পিকারের প্রশংসা করে বলেন, যোগ্যতাই ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে স্পিকারের আসনে বসিয়েছে। আজকের অবস্থানে আসার পিছনে তার মায়ের বিশেষ অবদান আছে। প্রত্যেক সন্তানের সফলতায় মায়ের ভূমিকা থাকে। আমরা জাতিগতভাবে মায়েদের অবস্থার উন্নয়নে সংবেদনশীল বাজেট করার দাবি করছি। তিনি বলেন, নারী উন্নয়নে বর্তমান সরকার কাজ করে আমাদেরকে আলোর দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
এম এ মান্নান বলেন, বাজেট সার্বিকভাবে সকল মানুষের জন্য। সেই হিসেবে নারীকেও সমান বরাদ্দ দেয়ার কথা; কিন্তু আমরা তাদের সমানভাবে দেখি না। আমরা সবাই নারীর জন্য সমান অধিকার চাই।
মূল প্রবন্ধে এএইচএম নোমান বলেন, স্বপ্ন প্যাকেজে গর্ভকালীন মায়ের জন্য ভাতার বিস্তারিত বর্ণনা করেন। তিনি দরিদ্র মাকে সহায়তার জন্য ঘর, গরু কিংবা অন্যকোন অবলম্বন দিয়ে পরিবারে তাদের অবস্থা তৈরির কথা জানান।
শিরীন আক্তার বলেন, রাষ্ট্র কতোদিন মাকে সুরক্ষা দিবে, সেটা নির্দিষ্ট করতে হবে। তিনি বলেন, প্রতিটি গ্রামে মনিটরিং করে মায়েদের এই ভাতা প্রদান করতে হবে। যাতে করে কোন মা এই তালিকা থেকে বাদ না যান।
কেয়া চৌধুরী বলেন, মা, মাটি, মাতৃভূমি— এই তিনটি বিষয়কে এক করে ভাবতে শিখিয়েছেন আমার মা। তৃণমূলের নারীর ক্ষমতায়নের পাশাপাশি তাদের চিন্তার পরিবর্তন এলে আমরা উপকৃত হবো।
ফারাহ কবির বলেন, আমাদের দেশে যাদের আমরা মা বলছি তারা কিন্তু প্রধানত ‘কিশোরী’। যে কিশোরীটি মা হচ্ছেন তাকে মাসিক ৩০০ টাকা মাতৃত্বকালীন ভাতা দিয়ে তার পুষ্টিসাধনে কতটুকু সহায়তা হবে সেটা ভাববার বিষয়।
