‘দারিদ্র্য দূর করতে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে’

আপডেট : ১১ মে ২০১৪, ২২:২৬
শুধু ক্ষুদ্রঋণের উপর নির্ভর করলে হবে না, দারিদ্র্য দূর করতে হলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) পঁচিশ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গতকাল অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ কথা বলেন। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, গত তিন দশকে দেশে ক্ষুদ্রঋণের ব্যাপক প্রসার হয়েছে। ১৯৮৬ সালে দেশের মোট ঋণের মাত্র ৪ শতাংশ ছিল ক্ষুদ্র ঋণ। এর পুরোটাই বিতরণ করতো গ্রামীণ ব্যাংক। বর্তমানে দেশের মোট ঋণের ৩৩ শতাংশ ক্ষুদ্রঋণ। এর মাত্র এক-তৃতীয়াংশ বিতরণ করে গ্রামীণ ব্যাংক। গ্রামীণ ব্যাংক ক্ষুদ্রঋণ চালু করলেও এটিকে ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে পিকেএসএফ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিকেএসএফ চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমেদ। বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান, পিকেএসএফ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল করিম প্রমুখ। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ১৯৯০ সালে সরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত পিকেএসএফ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে ক্ষুদ্রঋণ বিতরণের জন্য এখন পর্যন্ত ২৭২টি সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে ১৭ হাজার ৮৬৭ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে। ঋণ আদায়ের হার ৯৮ দশমিক ৫০ শতাংশ। বিভিন্ন ধরনের সেবা ও ঋণগ্রহীতার সংখ্যা ৮০ লাখ ৮৮ হাজার ৪৪২ জন। অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের উদ্ভাবনী ধারণা আরও শক্তিশালী করতে হবে। পিকেএসএফ দরিদ্র ও অবহেলিত মানুষদের একটি উন্নয়ন চক্রের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এ কাজটি পিকেএসএফ সরাসরি করে না। তারা বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে করে থাকে। এই প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে গর্ব করার মতো অনেক কিছুই আছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দীর্ঘ ২৫ বছরে পিকেএসএফের কর্মকাণ্ড বহুমুখী হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা খাতেও প্রতিষ্ঠানটি তাদের কর্মকাণ্ড বিস্তৃত করেছে। শিক্ষা থেকে ঝরে পড়া রোধে পিকেএসএফ যে কর্মসূচি চালু করেছে তা খুবই আনন্দের। কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়ার বিষয়ে নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করায় অর্থমন্ত্রীকে অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জানান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমেদ। তিনি বলেন, কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিলে অবৈধ আয়কে উত্সাহিত করা হয়। উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচন একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া। রাজনৈতিক সমর্থন না থাকলে উন্নয়ন সম্ভব হবে না। সম্পদ ছড়িয়ে দিতে পারলে গুটি কয়েক মানুষের হাতে সম্পদ কুক্ষিগত থাকবে না। ঋণ বা সহায়তার বিপরীতে সম্পদ ভিত্তি তৈরি না হলে দারিদ্র্র্য বিমোচন টেকসই হয় না। অনুষ্ঠানে শিক্ষা ও নারী উন্নয়নে অবদানের জন্য অধ্যাপক লতিফা আকন্দ ও জাহানারা হককে বিশেষ সম্মাননা দেয়া হয়।