হতাশায় আক্রান্ত তরুণ সমাজের মুক্তির একমাত্র তাবিজ কর্মসংস্থান
সব সমস্যার দেশ বাংলাদেশ। ব্যাপারটি এমন- “সর্বাঙ্গে ব্যথা ওষুধ দিবো কোথা।” রাজনীতি, অর্থনীতি, মানুষের নীতি— সব নীতিই যেন ভ্রষ্ট। রাজনীতিতে হত্যা, অর্থনীতিতে দুর্নীতি, মানুষের নীতিতে মরা মুরগি বিক্রি, খাবারে ভেজাল, ক্রেস্টে জালিয়াতি, অপহরণে টাকা দাবি দিলে মুক্তি না হয় গুলি। এই নীতি ভ্রষ্টের কারণে মনে হয় বাংলাদেশ বায়ু দূষণে বিশ্বে তৃতীয় অবস্থানে পৌঁছেছে। যে দেশে হতাশার মুক্তি নেই আছে শুধু আশার মরীচিকা। আছে বুকভরা স্বপ্ন, নেই কোনো প্রাপ্তি— এমন বাংলাদেশের তরুণরা হতাশ না হয়ে পারে কি?
মুছা বিন মোহাম্মদ
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা
বিভাগ(৪র্থ বর্ষ),
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়,
শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী হল
আমরা তরুণ
সমাজ খুব
ভালো নেই!
আজকের তরুণ সমাজই অদূর ভবিষ্যতে দেশ চালনার প্রধান ভার তথা দায়িত্ব গ্রহণ করে সোনার ও সুন্দর দেশ গঠনে কাজ করবে। কিন্তু সে কঠিনতম দায়িত্ব গ্রহণ করার পূর্বেই যদি আজকের তরুণরা বিষণ্নতায় ভোগে, হতাশায় ভেঙ্গে পড়ে তবে নিশ্চিত সে দায়িত্ব গ্রহণে অসম্ভব হয়ে পড়বে। আমি তরুণ হিসেবে বলতে পারি, আমরা তরুণ সমাজ আজ খুব ভালো নেই। দেশের অধিকাংশ তরুণই বিভিন্ন কারণে হতাশায় ভুগছি, প্রায় সবসময় মাথায় টেনশন নিয়ে ঘুরছি। কিন্তু কেন? একদিকে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সহিংসতা, অন্যদিকে অধিকহারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি। এছাড়াও অনেক সমস্যার কারণে তরুণ সমাজ আজ চরমভাবে হতাশ।
জহির আসলাম
অনার্স (২য় বর্ষ),
সমাজ বিজ্ঞান বিভাগ,
শিবপুর সরকারি কলেজ
তরুণ সমাজ
হতাশ নয়,
সদা জাগ্রত
তারুণ্য এমন একটি শক্তি, যা কি না সদা জাগ্রত। আজকে তরুণরা যদি হতাশ হতো, তাহলে দেশ যে একটু একটু করে উন্নতির দিকে ধাবিত হচ্ছে তা থেমে যেত। দেশকে নিয়ে ভাবার জন্য প্রবীণদের যেমন দরকার ঠিক তার চেয়ে বেশি তরুণদের প্রয়োজন যা কিনা দেশকে নিয়ে ভাবার শক্তি যোগায় এবং দেশকে উন্নতির সঠিক স্রোতের দিকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। তাই হয় তরুণরা হতাশ, নয় তরুণদের মাঝে সত্, যোগ্য, নীতিবান এবং পরিশ্রমী নেতার অভাব রয়েছে। যে কিনা এই তরুণদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারে।
মো. ইসমাঈল হোসেন (সবুজ)
বিএসএস (পাস),
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
তরুণ সমাজ কখনোই হতাশ নয়, তরুণ সমাজ সর্বদাই সংগ্রামী
আমাদের দেশের তরুণ সমাজ কখনোই হতাশ নয়। তারা সর্বদাই সংগ্রামে অবতীর্ণ। ’৫১-র ভাষা আন্দোলন, ’৬২-র শিক্ষা আন্দোলন, ’৬৬-র ৬ দফা ও ১১ দফা, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ’৭০-এর নির্বাচন, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দান করেছে এদেশের সংগ্রামী তরুণরা। সর্বোপরি ২০১৩ সালের যুদ্ধাপরাধী আন্দোলনের ডাক দিয়েছে এদেশের দেশপ্রেমিক যুবকরা। তাদের লক্ষ্য হচ্ছে সংগ্রামের মাধ্যমে ন্যায্য অধিকার আদায় করা। কিন্তু আমাদের দেশের যুবকরা কিছু বড় বড় সমস্যায় যেমন- ঘুষ প্রদান না করলে উপযুক্ত চাকরি না হওয়া, প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া, বেকারত্ব দিনে দিনে বৃদ্ধি পাওয়া, ছাত্র রাজনীতিতে হিংসাত্মক কার্যকলাপ আচরণ করা, অশালীনভাবে চলাফেরা করা ইত্যাদি বিষয় আমাদের সমাজকে ধ্বংসের পথে ধাবিত করছে।
মো. আতউর রহমান সুজন
বিএ অনার্স, ১ম বর্ষ,
ইসলামের ইতিহাস বিভাগ,
সাভার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ
সাভার, ঢাকা
হতাশায় নিমজ্জিত
তরুণ সমাজ
সাম্প্রতিক জরিপে দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশের প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ বেকার। লেখাপড়ার দীর্ঘসূত্রতা ও বয়সের বাধ্যবাধকতার কারণে স্নাতক, স্নাতকোত্তরের আগেই চাকরির বয়স চলে যায়। বছরে যে পরিমাণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় তার চেয়ে স্নাতকোত্তরদের সংখ্যা শতগুণ বেশি। ফলে তরুণরা চাকরি না পেয়ে বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হচ্ছে, অন্ধকার পথে হাঁটছে। হতাশাগ্রস্ত তরুণরা হতাশা কাটানোর জন্য মাদকের মরণ ছোবলের শিকার হচ্ছে। ফলে যারা ছিল দেশের সম্পদ তারা আজ দেশের বোঝা, দেশের জন্য হুমকি। তাই সরকারের উচিত শিক্ষা ব্যবস্থা কর্মমুখী করা, ব্যাপক শিল্পায়ন, বিদেশে মানবসম্পদ রপ্তানি করা, নতুন উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে তরুণ সমাজকে রক্ষা করা।
মোস্তাফিজুর রহমান
১ম বর্ষ ২য় সেমিষ্টার, ব্যবসা প্রশাসন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও
প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট
