তৃতীয় দিনে ইমরুল কায়েস ও মোহাম্মদ মিথুনের ব্যাটিংয়েই আসলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে গিয়েছে প্রাইম ব্যাংক দক্ষিণাঞ্চলের হাতে। গতকাল উত্তরাঞ্চলের বোলাররা এবং তাদের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা মিলে সেই নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নেয়ার এক অবিশ্বাস্য লড়াই করার চেষ্টা করেছেন। লড়াইটা এখনও চালাচ্ছেন ফরহাদ হোসেন ও নাসির হোসেন। কিন্তু এই লড়াইতে মান বাঁচাতে হলেও ইতিহাস গড়া এক অবিশ্বাস্য পথ পাড়ি দিতে হবে উত্তরাঞ্চলকে।
আগের দিনের ব্যাটিং তাণ্ডব ভুলে গতকাল প্রথম সেশনেই হুড়মুড় করে ধসে পড়ে দক্ষিণাঞ্চলের ব্যাটসম্যানরা। ৩ উইকেটে ৪৩৮ রান তোলা দলটি পরের ৯৮ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে অলআউট হয় ৫৩৬ রানে। তারপরও উত্তরাঞ্চলের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ দাঁড়ায় ৫৭৩ রান; সময় দেড় দিনেরও বেশি।
এই অবিশ্বাস্য লক্ষ্যে গতকালই পরাজয় নিশ্চিত হয়ে যেতে পারতো তাদের। কিন্তু জুনায়েদ, নাসির ও ফরহাদের প্রতিরোধে গতকাল দিনের খেলা শেষ হওয়া পর্যন্ত ৩ উইকেটে ২৫৪ রান তুলেছে তারা। জয়ের জন্য এখনও উত্তরাঞ্চলের দরকার ৩১৯ রান। আর ম্যাচ বাঁচাতে ৭ উইকেট নিয়ে আজ পঞ্চম দিনের পুরোটা সময় ব্যাট করতে হবে!
প্রায় অসম্ভব হলেও উত্তরাঞ্চল যে এই ভাবনাটা ভাবতে পারছে, সে কৃতিত্ব তাদের বোলারদের। ৩ উইকেটে ৪১০ রান নিয়ে গতকাল দিন শুরু করেছিল দক্ষিণাঞ্চলের ব্যাটসম্যানরা। উইকেটে ছিলেন সেঞ্চুরিয়ান মিথুন। কিন্তু ১১১ রানে অপরাজিত থাকা মিথুন ১২৬ রানে শুভাশীষের প্রথম শিকার হয়ে ফেরেন। এই পেসার পরে নিয়েছেন আরও দুটি উইকেট। মিথুনের ফেরার পর সে অর্থে আর কোনো ব্যাটসম্যানই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেননি।
তাইয়াবুর পারভেজ ৩১ ও নবম ব্যাটসম্যান রাজ্জাক ৩৩ রান করে কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু রাজ্জাককে ফিরিয়ে সব প্রতিরোধ শেষ করে দেন তানভীর। উত্তরাঞ্চলের শুভাশীষ ৩টি এবং ফরহাদ রেজা ও তাইজুল ২টি করে উইকেট নিয়েছেন। তাইজুলের ম্যাচে শিকার দাঁড়ালো ১০ উইকেট।
বোলারদের দেখানো পথে উত্তরাঞ্চলের ব্যাটসম্যানরাও দারুণ প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পৌনে ছয়শ’ রানের পাহাড় মাথায় নিয়ে ব্যাট করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে ৫৭ রান তুলে প্রতিরোধপর্বের সূচনা করেন মাইশিকুর ও জুনায়েদ। মাইশিকুর ৩২ রান করে আউট হয়ে ফিরলেও জুনায়েদ আরও একটি বড় জুটি করে ফিরেছেন ফরহাদ হোসেনের সঙ্গে। ৪২ রানের জুটি ভাঙে ৫১ রান করে জুনায়েদ ফিরে আসায়। পরপর অবশ্য উত্তরাঞ্চল আরেকটি ধাক্কা খান। ১৬ রান করে রাজ্জাকের দ্বিতীয় শিকার হয়ে ফেরেন নাঈম ইসলাম। আর এখান থেকেই দিনের সেরা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন ফরহাদ হোসেন ও নাসির হোসেন।
ফরহাদ সেঞ্চুরির কাছাকাছি গিয়ে অপরাজিত আছেন। আর নাসির পেয়ে গেছেন ম্যাচে টানা দ্বিতীয় ফিফটি। দু’জনের এই চতুর্থ উইকেটে যোগ করেছেন ১২৮ রান।
দিনশেষে খুব ভালো অবস্থায় না থাকলেও অন্তত এই প্রতিরোধের সান্ত্বনাটুকু সঙ্গী হয়েছে নাসিরের দলের।
বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ
ফাইনাল
প্রাইম ব্যাংক দক্ষিণাঞ্চল (১ম ইনিংস)
৮৩ ওভারে: ২৭১/১০
দ্বিতীয় ইনিংস: রান বল ৪ ৬
মিথুন ক হামিদুল ব শুভাশিষ ১২৬ ১৮৩ ১৬ ৫
শুভাগত ব তাইজুল ২২ ৪০ ২ ০
তাইয়াবুর ক জুনায়েদ ব শুভাশীষ ৩১ ৩০ ৬ ০
জিয়াউর ক হামিদুল ব ফরহাদ ১৫ ১৭ ২ ১
সোহাগ ক নাসির ব শুভাশীষ ১২ ১৫ ২ ০
রাজ্জাক ক নাসির ব তানভীর ৩৩ ২৪ ৩ ২
আল আমিন ব নাঈম ০ ৪ ০ ০
মুস্তাফিজুর নটআউট ০ ১৩ ০ ০
অতিরিক্ত (বা-১২, লেবা-২, ও-৯, নো-৮) ৩১
মোট: ১১৬.৩ ওভারে ৫৩৬/১০
বোলিং:
শুভাশীষ: ২২-১-১২৮-৩, ফরহাদ রেজা: ১১-২-৫৯-২, তাইজুল ৩৭-৫-১৫৬-২, নাঈম ১১-৩-৩১-১, নাসির ৭-১-২৬-০, সানজামুল ১৫-২-৬৫-০, ফরহাদ হোসেন ২-১-৯-০, তানভীর ৯.৩-০-৩৩-১, জুনায়েদ ২-০-১৫-০
বিসিবি উত্তরাঞ্চল: ১ম ইনিংস
৯৭.৫ ওভারে: ২৩৫/১০
দ্বিতীয় ইনিংস:
মাইশিকুর ব রাজ্জাক ৩২ ৩৮ ৫ ১
জুনায়েদ এলবিডব্লু শুভাগত ৫১ ৬৬ ৭ ০
ফরহাদ হো. ব্যাটিং ৮৫ ১৫৪ ৯ ০
নাঈম ব রাজ্জাক ১৬ ১৯ ৩ ০
নাসির ব্যাটিং ৬৭ ১০২ ৭ ১
অতিরিক্ত (বা-১, লেবা-১, নো-১) ৩
মোট: ৬৩ ওভারে ২৫৪/৩
বোলিং:
আল আমিন ৮-০-৪৭-০, মুস্তাফিজুর ৩-০-১৪-০, জিয়া ৩-০-১৩-০, রাজ্জাক ২৪-৫-৭৬-২, সোহাগ ৪-০-১৬-০, শুভাগত ৭-০-৪১-১, তাইয়াবুর ১৪-১-৪৫-০।
(চতুর্থ দিন শেষে)
