আগামী অর্থবছরে যোগাযোগ খাতকে প্রাধান্য দিয়ে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করেছে পরিকল্পনা কমিশন। কমিশনের বর্ধিত সভায় সড়ক, রেল ও সেতু বিভাগসহ যোগাযোগ খাতের জন্য মোট ১৮ হাজার ৯৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর বড় অংশ অর্থাত্ ৮ হাজার ১০০ কোটি টাকার প্রস্তাব রয়েছে বহুল আলোচিত পদ্মা সেতু প্রকল্পে। চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) সভায় এ প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা যায়, আগামী অর্থবছরের (২০১৪-২০১৫) জন্য মোট ৭৯ হাজার ৩১ কোটি টাকার এডিপি প্রস্তাব করা হয়েছে। যা চলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরের সংশোধিত এডিপির তুলনায় প্রায় ২৪ শতাংশ বেশি। নতুন অর্থবছরের এডিপিতে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে যোগান দেয়া হবে ৫১ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা যা মূল বরাদ্দের প্রায় ৬৫ শতাংশ। আর প্রকল্প সাহায্য থেকে যোগান দেয়া হবে ২৭ হাজার ৭০০ কোটি টাকা বা বরাদ্দের ৩৫ শতাংশ। এছাড়া আগামী অর্থবছরের এডিপিতে স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা কর্পোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নে ১৫৩টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন আকারে থাকছে। এর জন্য ৫ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে। চলতি অর্থবছর এ খাতে মোট ৮ হাজার ১১২ কোটি টাকার বরাদ্দ ছিল। উল্লেখ্য, চলতি (২০১৩-১৪) অর্থবছরের শুরুতে ৬৫ হাজার ৮৭২ কোটি টাকার এডিপি গ্রহণ করা হলেও তা পরবর্তীতে সংশোধন করে ৬০ হাজার কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়।
সূত্র জানায়, আগামী এডিপি তালিকায় প্রায় ১৮শ প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
চলমান প্রকল্পের তালিকা থেকে স্থানান্তর হবে ১ হাজার ৩৪টি প্রকল্প। আগামী এডিপিতে সড়ক, রেল ও সেতু বিভাগ মিলে মোট ১৮ হাজার ৯৮ কোটি টাকা বা এডিপির প্রায় ২৩ শতাংশ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৯ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা বা প্রায় ১২ শতাংশ বরাদ্দ থাকছে শিক্ষা খাতে। আর বিদ্যুত্ বিভাগের জন্য থাকছে প্রায় ৯ হাজার ৩০০ কোটি টাকা বা প্রায় ১২ শতাংশ। এছাড়া ভৌত পরিকল্পনা, পানি সরবরাহ ও গৃহায়ন খাতে দেয়া হচ্ছে ৭ হাজার ৮৭৭ কোটি টাকা বা প্রায় ১০ শতাংশ। স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে পল্লী উন্নয়ন ও পল্লী প্রতিষ্ঠান খাতে বরাদ্দ থাকছে ৬ হাজার ৮৭১ কোটি টাকা বা প্রায় ৯ শতাংশ। কৃষি খাতে ৫ হাজার ৫৭৫ কোটি টাকা বা ৭ শতাংশ এবং স্বাস্থ্য পুষ্টি, জনসংখ্যা ও পরিবার কল্যাণ খাতে ৪ হাজার ৯৪৩ কোটি টাকা বা ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে।
