কে যেন প্রশ্ন করলেন, এটাই অধিনায়ক হিসেবে প্রথম শিরোপা কি না। রাজ্জাক হেসে মনে করিয়ে দিলেন, জাতীয় লিগে খুলনার অধিনায়ক হিসেবে শিরোপা জিতেছিলেন। সেই সঙ্গে এটাও মনে করিয়ে দিলেন, ট্রফি নিশ্চিত হওয়ার সে ম্যাচেও এক ইনিংসে ৫-এর বেশি উইকেট নিয়েছিলেন।
তার মানে, সামনে থেকে পারফরম করে দলকে ট্রফি জেতানো রাজ্জাকের জন্য নতুন কিছু নয়! আর এই ব্যাপারটাকেই সবচেয়ে বড় করে দেখছেন প্রাইম ব্যাংক দক্ষিণাঞ্চলের কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন। ফাইনালে ওঠা নিয়েই অনিশ্চয়তা থেকে এই ট্রফি জয়; নাটকীয় এই যাত্রার পেছনে দলের সবারই অবদান দেখছেন কোচ। তবে সবচেয়ে এগিয়ে রাখলেন তিনি অধিনায়ককেই, ‘এই শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব দলের সবারই। তবে রাজ্জাককে বিশেষ কৃতিত্ব দিতে হবে। ওর ভেতর একটা ব্যাপার দেখলাম, কিছুতেই হার মানবে না, এরকম একটা অ্যাটিচিউড আছে। এটা খুব দরকার।’
এই অ্যাটিচিউড, শরীরি ভাষাটাকে শেষ দিনে দ্রুত জয় পেয়ে যাওয়ার একটা বড় কারণ হিসেবে দেখছেন সুজন। বিশেষ করে আগের দিন বোলার-ফিল্ডারদের যে শরীরি ভাষা তাকে হতাশ করেছিল, সেটাই গতকাল ইতিবাচক হয়ে ওঠায় জয়টা এলো বলে তার বিশ্বাস।
দক্ষিণাঞ্চলের অধিনায়ক রাজ্জাক অবশ্য বলছেন, তিনি অনেকটাই নিশ্চিত ছিলেন যে, গতকাল দ্রুত জয় চলে আসবে, ‘আসলে লঙ্গার ভার্সন খেলায় একটা-দুইটা বড় জুটি হয়। তাই এ নিয়ে খুব একটা হতাশ ছিলাম না। আমাদের মূল চিন্তা ছিল, নাসির আর ফরহাদ যে কেউ আউট হয়ে গেলে কেউ এসে তেমন কিছু করতে পারবে না। আমাদের টার্গেট ছিল কোনো ব্যাটসম্যান এসে যেন স্বাচ্ছন্দ্যে রান না করতে পারে। সেটা করতে পেরেছি আমরা।’ সেই লক্ষ্য ঠিক রেখে চ্যাম্পিয়ন হতে পারার অর্থটাই রাজ্জাকের কাছে অন্যরকম। যে কোনো ক্রিকেটে জয়ই তার কাছে অর্থবহ। সেখানে দেশের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটের জয়টা তো আরো অর্থপূর্ণ, ‘আমার কাছে পাড়ার ক্রিকেট জেতাটাও অনেক আনন্দের ব্যাপার। আর এটা আমাদের দেশে অন্যতম সেরা প্রথম শ্রেণীর টুর্নামেন্ট।’ তবে সুজনের কাছে এই ট্রফি জয়ের মতোই বড় ব্যাপার হল, এর ভেতর দিয়ে ক্রিকেটের যে উন্নয়ন হচ্ছে, সেটার অংশ হতে পারাটা, ‘অর্জন সব সময়ই ভালো লাগে। সব কোচই জিততে চায়, আমিও চাই। তবে আমার কাছে জেতার চেয়ে এই জয়টা ক্রিকেটে কী ভূমিকা রাখছে, কীভাবে জিতলাম; সেটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সেদিক থেকে এই জয়টা আরো তৃপ্তির।’ একদিকে দক্ষিণাঞ্চলের কোচ-অধিনায়কের কণ্ঠে যখন এই তৃপ্তি; তখন সেঞ্চুরি করেও হতাশ মুখ নিয়ে ঘুরতে হচ্ছে ফরহাদ হোসেনকে। নিজেই বললেন, সেঞ্চুরি নিয়ে ভাবেননি। ভেবেছিলেন নাসিরের সঙ্গে জুটিটা লম্বা করতে পারলে ম্যাচটা বাঁচানো সম্ভব, ‘সেঞ্চুরি নিয়ে ভাবিনি। সেঞ্চুরি হলে তো ভালোই লাগে। কিন্তু আমাদের প্লানটা ছিল, যে কোনোভাবে ব্যাটিং চালিয়ে যাওয়া। আসলে গতবারও রানার্সআপ হয়েছি, আবার হলাম; ফলে আফসোসটাই বেশি কাজ করছে।’
