জার্মানিতেই থাকতে চান লো

আপডেট : ১৪ মে ২০১৪, ২১:২১
জার্মান ফুটবল দলের সাথে তার সম্পর্কটা বেশ পুরনো। সেই ২০০৪ সালে প্রথমে দু’বছর কাজ করেছেন সহকারী কোচ হিসেবে। এরপর ২০০৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত কাজ করছেন জার্মানী দলের প্রধান কোচ হিসেবে। সেবার ফাইনাল হারের পরও তার উপরই আস্থা রেখেছিল জার্মান ফুটবল কর্তৃপক্ষ। সেই জোয়াকিম লো’র সাথে জার্মানীর চুক্তি শেষ হবে আগামী ২০১৬ সালে। তবে এর মাঝেই আগামী ১২ জুন থেকে শুরু বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপে জার্মানীর ফলাফল যেমনই হোক না কেন আরো দীর্ঘমেয়াদে জার্মানীর কোচের পদটা ধরে রাখতে চান ৫৪ বছর বয়সী এই কোচ। লো গত বছরের অক্টোবরে জার্মান ফুটবল এসোসিয়েশনের (ডিএফবি) সাথে চুক্তিবৃদ্ধ করেন। সম্প্রতি তিনি ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন অন্তত চুক্তি শেষ হবার আগ পর্যন্ত তিনি এই দলেই থাকতে চান। তার এই সময়ের মধ্যে ফ্রান্সে ইউরো ২০১৬ অনুষ্ঠিত হবে। কোলন ভিত্তিক দৈনিক পত্রিকা এক্সপ্রেসের সাথে আলোচনাকালে তিনি বলেছেন, ‘আমি অন্তত পক্ষে এমনটা আশা করতেই পারি। যেভাবেই হোক ২০১৬ সাল পর্যন্ত জার্মান দলের সাথে আমি থাকতে চাই। আপাতত এই ইচ্ছাই আমার আছে। কিন্তু এখানে একটি বিষয় বিবেচ্য হলো কোন দল যদি বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়ে যায় তবে তার অনেক কিছুই পরিবর্তিত হয়ে যায়। দলকে উজ্জীবিত করতে বা এর পরিকল্পনা আমূল পরিবর্তন করতে গিয়ে অনেক সিদ্ধান্তই সংশ্লিষ্টদের নিতে হয়। ২০১০ সালের বিশ্বকাপ জয়ের পরে যেমন করে স্প্যানিশ কোচ ভিসেন্তে ডেল বস্ক বলেছিলেন এখন আমি ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপও জিততে চাই।’ এর আগে বিভিন্ন সূত্রে খবর পাওয়া গিয়েছিল বিশ্বকাপে চতুর্থবারের মত শিরোপা জিতলেই লো জার্মানীর চাকরি ছেড়ে যাবেন। এদিকে ডিএফবি সভাপতি উল্ফগাং নিয়েরবাশ বলেছেন ব্রাজিল বিশ্বকাপ জার্মানী যদি ভাল নাও খেলতে পারে তারপরেও লো তার পদে বহাল থাকবেন। ব্রাজিল বিশ্বকাপে ‘জি’ গ্রুপে জার্মানীর প্রতিপক্ষ পর্তুগাল, ঘানা এবং যুক্তরাষ্ট্র। ২০১৬ সাল পর্যন্ত একসাথে কাজ করার নিমিত্তেই আমরা আমাদের কোচিং দলের সাথে চুক্তি বৃদ্ধি করেছি। তাহলে কেন বিশ্বকাপের পরে সবকিছু পরিবর্তিত হয়ে যাবে? ইউরো ২০০৮, ২০১০ বিশ্বকাপ এবং ইউরো ২০১২তে জার্মানীকে সেমিফাইনাল পর্যন্ত নিয়ে যাবার পিছনে লো’র প্রশংসা করে নিয়েরবাশ বলেছেন, জোয়াকিম লো অবশ্যই একজন প্রথম শ্রেণীর কোচ কিন্তু একই সাথে সে নিজেও জানে ডিএফবি কতটা পেশাদার মনোভাব নিয়ে কাজ করে। তার দক্ষতা নিয়ে আমার মধ্যে কখনই কোন সন্দেহ ছিল না। এমনকি ইউরো ২০১২ সেমিফাইনালে ইতালির কাছে ২-১ গোলে হারার পরেও তার উপর আমার পূর্ণ আস্থা ছিল।