[ রা জ নী তি ]

র্যাব, মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে

আপডেট : ১৪ মে ২০১৪, ২১:৪৩
বেশ কিছুদিন ধরে মানবাধিকার সংস্থাগুলো দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র্যাব), আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বিরুদ্ধে তাদের এ অভিযোগ। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের সাত মার্ডার নিয়ে তা এখন আরও জোরালো হয়েছে। এ নিয়ে জনমনে ক্ষোভ, ক্রোধ, অসন্তোষ এখন তুঙ্গে। বলা হচ্ছে, মোটা অঙ্কের উেকাচের বিনিময়ে র্যাব এ ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট। এখন প্রশ্ন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কী পেশাগত অসহিষ্ণুতার কারণে, লোভের বশবর্তী হয়ে, অপরাধজগতে ‘রক্ষক ভক্ষকে’র ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে? এ পর্যায়ে সরকারও যে পদক্ষেপগুলো নিয়েছে যেমন সাদা পোশাকের কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা, গাড়ির গ্লাস কালোর পরিবর্তে সাদা রাখার নির্দেশ— তাতে করে অপরাধ জগতের আলাদা একটি চিত্রও ফুটে ওঠে নাকি। বিশেষ করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সম্পর্কে। আমাদের স্মরণে আছে, র্যাব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ২০০৪ সালে। ২০০২ সালের পর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতির মুখে সামরিক বাহিনীর সহায়তায় যখন ‘অপারেশন ক্লীন হার্ট’ তৈরি হয় এবং সে পর্যায়ে নির্ধারিত সাফল্যের আস্থা থেকে তত্কালীন সরকার পুলিশের অঙ্গ হিসেবে র্যাব প্রতিষ্ঠা করে। শুধু পুলিশে নয় সামরিক বাহিনী, বিজিবি ও আনসারও এর অঙ্গীভূত থাকে। এর কাঠামোগত দিক অনেকটা জটিল। তবে এর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের রশিটি থাকে পুলিশ প্রধানের (আইজিপি) হাতে। র্যাবের নেতৃত্বটি কার্যত সামরিক অফিসাররাই পরিচালিত করেন। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা কার্যক্রমে তাদের কার্যক্রম নন্দিত ও নিন্দিত দু’রকমই বলা যায়। পোশাক-পরিচ্ছদ থেকে শুরু করে অভিযান পরিচালনা পর্যন্ত প্রথম থেকেই র্যাব নানা বিতর্কের মধ্যে পড়ে। বিশেষ করে বিচার বহির্ভূত প্রশ্নবিদ্ধ হত্যাকাণ্ড— যা আগে এদেশের মানুষ জানত না। তবে কিছু ক্ষেত্রে সুনামও করেছে। বিশেষ করে জঙ্গী দমনে তারা পালন করে দায়িত্বপূর্ণ ও দক্ষ পেশাদারী ভূমিকা। জেএমবির মতো সংগঠনকে দুর্বল করে দিতে সক্ষম হয়েছে তারা। স্মরণে আনা যায়, বাংলা ভাই বা শায়েখ আবদুর রহমানকে ধৃত ও ধরাশায়ী করে তাদের বিচারের আওতায় আনার বিষয়টি— যা র্যাবের পূর্ণ কৃতিত্ব। তাছাড়া দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে চরমপন্থি দমন, মৌলবাদী ক্যাডারদের ধরতে তারা বেশ দক্ষতার প্রমাণ রেখেছে। সমপ্রতি ময়মনসিংহ রোডে প্রিজন ভ্যান থেকে জঙ্গী মুক্তি ও পুলিশ হত্যার বিষয়টির সাথে জড়িতদেরও গ্রেপ্তারে তারা সক্ষম হয়। প্রসঙ্গত এসব কর্মকাণ্ড র্যাব আইনের মধ্যে থেকেই সম্পন্ন করেছে। কিন্তু সর্বক্ষেত্রে তা করতে সক্ষম হয়নি। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, বিভিন্ন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র অব্যাহতভাবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ করে র্যাবের সমালোচনা করছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সমপ্রতি র্যাব ভেঙ্গে নতুন বেসামরিক প্রতিষ্ঠান গড়ার পরামর্শ দিয়েছে। তারা মনে করে মানবাধিকারকে বেস করে একটি বেসামরিক প্রতিষ্ঠান অপরাধজগেক নিয়ন্ত্রণে রাখবে। র্যাবের সামরিক বেস থাকার প্রয়োজন নেই। এসব বিষয়ে ভাবার আগে আমাদের এই মানবাধিকার সংগঠনটির কর্মকাণ্ড ভেবে দেখার দরকার আছে। মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির দাসত্ব করে এ সংগঠনটি। বিশ্বের অনেক দেশেই তার কার্যক্রম ত্রুটিমুক্ত নয়, বিশেষ করে গুয়ানতানামোতে আফগান যুদ্ধবন্দীদের প্রতি অমানবিক আচরণ কিংবা ইসরায়েল-আরব যুদ্ধপ্রতিবেদন নিষ্কলুষ তো নয়ই বরং বেশি পরিমাণে একচক্ষুদুষ্ট। তবে মানবাধিকার সংস্থার প্রস্তাব নয়, মানবাধিকার সংরক্ষণের কথা তো আমাদের সংবিধানেই রয়েছে— সে মাফিক আমাদের রাষ্ট্রীয় লক্ষ্য পরিচালিত হওয়া সঙ্গত। একই সঙ্গে এটিও সত্য বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ধারাবাহিকভাবে আইন-বিচার লঙ্ঘনের যে বিষয়গুলো বলে আসছে, তা উপেক্ষা বা গুরুত্বহীন মনে করা যেমন ঠিক নয় তেমনি এক দশকের একটি কার্যকর বাহিনীকে কারো প্রেসক্রিপশনে বদলানোও সমীচীন নয়। এখন একটি বৃহত্ দলের নেত্রীও এক সুরে (ক্ষমতায় থাকতে যিনি র্যাব বানিয়েছিলেন) নিছক রাজনৈতিক ফায়দা লোটার তাগিদে কোনো অগ্র-পশ্চাত্ চিন্তা না করে এ বাহিনীটি তুলে দেয়ার কথা বলছেন। এ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কে যাওয়ার দরকার নেই। কারণ বিশেষ উদ্দেশ্যে যেমন কোনো বাহিনী হঠাত্ করেই জন্ম দেয়া যায় না তেমনি তার মৃত্যুও ঘটানো সঙ্গত নয়। আমরা জানি, জননিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ হয় পেছনের অনেক কারণে, কিন্তু ত্বরিত সিদ্ধান্তে কোনো পেশাদারী বাহিনী বাতিল করা যুক্তিযুক্ত নয়, বিশেষজ্ঞ পরামর্শ মোতাবেক খুব বেশি হলে তার সংস্কারের পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে। মাঠপর্যায়ের কাজে পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে র্যাবের এক প্রকার আইনী সমন্বয়ও ঘটতে পারে এবং এ সম্পর্কিত আনুষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যেই তা চলতে পারে। মাথা ব্যথার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ দিতে হবে, কিন্তু মাথা কেটে ফেলা নয়। প্রসঙ্গত যে কোনো কাজেই সবটুকু ভালো ফল আসবে, এমনটা কেউ প্রত্যাশা করতে পারে না। আগেই বলেছি, আইন অনুযায়ী র্যাব পুলিশের অঙ্গীভূত একটি ইউনিট। সেখানে সামরিক অফিসারদের প্রয়োজনীয়তা গণ্য করেই কাজটি করা হয়েছে। পুলিশের চৌকস অফিসাররা থাকলেও র্যাবের কার্যক্রম একদম নেতিবাচক, তা বলা যায় না। বিশেষ করে, সামরিক কর্মকর্তাদের বাদ দিলে র্যাব ফলদায়ক কিছু করতে পারবে বলে মনে হয় না। বরং শূন্যতা দেখা দিতে পারে। বাংলাদেশের আইন প্রয়োগকারী গুরুত্বপূর্ণ এ সংস্থাটির মাঠপর্যায়ে সংস্কার সম্পর্কে যা বলেছে তা দীর্ঘ সময়ের অর্জনকে সামনে রেখেই। ধৈর্য, সহিষ্ণুতা ও সংবেদনশীলতার ভেতর দিয়ে শাসন ও আইনের প্রয়োগ, বিচারিক আদালতে সোপর্দ করার ওপর সতর্ক দৃষ্টি এবং কড়া নজরদারির প্রয়োজন আছে। কারণ, বিচারহীনতার সংস্কৃতি কারো জন্যই মঙ্গলজনক নয়। জনগণ আইন-শাসনের নামে কোনো দানব দেখতে চায় না, নিশ্চয়ই আমাদের সংবিধানসম্মতভাবে পরিচালিত রাষ্ট্রের সরকারও তা চায় না। ইতিমধ্যেই সরকার এবং সরকারি দলের মুখপাত্রও সে বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। নারায়ণগঞ্জের ঘটনার সঙ্গে জড়িত র্যাব কর্মকর্তাদের কর্তব্যে অবহেলার জন্য চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, যথাযথ প্রমাণ মিললে আইনগত ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ, ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার পুরো আইন-শৃঙ্খলা কার্যক্রম ঢেলে সাজানোর ব্যবস্থা নিয়েছে। নেয়া হয়েছে কঠোর ও নিশ্ছিদ্র আইনী ব্যবস্থা। কার্যত, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে যথাযথ তদন্ত ও প্রমাণ উদ্ধারের যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য। তবে বিষয়গুলো শুধু নারায়ণগঞ্জ নয়, গোটা দেশের জন্যই গ্রহণীয়। আইনী কার্যক্রম, মানবাধিকার, জননিরাপত্তা, সিভিল সমাজের স্বস্তির জন্য এর কোনো বিকল্প নেই। সংবেদনশীল আইনের শাসন, জনগণের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও বোঝাপড়াই মানবাধিকারের অংশ। আস্থার জায়গাটিও সেখানেই। সচেতন মানুষ যেমন অধিকারের প্রশ্নে দৃঢ় তেমনি নিশ্চয়ই আইনের প্রতিও শ্রদ্ধাশীল। আর এরূপ পদক্ষেপ ও প্রতিক্রিয়ার ভেতর দিয়েই তৈরি হতে পারে আইনের সংস্কৃতির যথাযথ চর্চা। ২. মানবাধিকার ও গণতন্ত্র কী সমর্থক নয়? গণতন্ত্রের দুনিয়ায় গণতন্ত্র কেমন? গণতন্ত্র নিয়ে সর্বক্ষণ যে দেশগুলোর ঘুম হারাম সেসব দেশের গণতন্ত্র কী পূর্ণাঙ্গ? গণতন্ত্র জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার, কিন্তু ভোটে অংশ নেয়া যাদের দায়িত্ব তারা ভোটে অংশ না নিয়ে সে দায়িত্ব যেমন পালন করে না তেমনি গণতন্ত্রকে মজবুত ও স্থায়ীকরণেও কোনো ভূমিকা নেয় না। বড় দল হিসেবে জনগণকে তারা বঞ্চিত করে। তাদের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়। সংখ্যাগরিষ্ঠের সরকার সমাজের সম-অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে, বিরোধীদল সরকারের কাজে সহায়তা দেবে, গঠনমূলক সমালোচনা করবে এবং জনগণ যথাযথ ভূমিকা রাখবে। এটিই গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার প্রাথমিক ও অনস্বীকার্য পদক্ষেপ। স্বাধীন দেশে আমরা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছি। সংবিধানে সবকিছু সমুন্নত থাকলেও বিগত সময়ে তা নানা কারণে কার্যকর হয়নি। আর গণতন্ত্র তো শুধু ভোটাধিকার বা ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় আরোহণের পাসপোর্ট নয়। দারিদ্র্য দূরীকরণ, ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য কমানোর সংগ্রাম, সর্বস্তরের নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় কার্যকর পদক্ষেপে, তথ্যবিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডিজিটাল কর্ম-পদ্ধতির উদ্ভাবন, রাষ্ট্রের জনগুরুত্বসম্পন্ন কাজে অগ্রাধিকার ও সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের প্রতিফলনে দ্বিধাহীন সিদ্ধান্ত প্রভৃতি গণতন্ত্রের বাইরের কোনো বিষয় নয়। ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশে যোগাযোগে ও তথ্যপ্রযুক্তি অসামান্যরূপে এগিয়েছে। গত কয়েক বছরে সরকারি সমর্থনের পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোগেও কাজ করে অনেক মানুষ দেশকে এগিয়ে নিয়েছে। লক্ষণীয় মাপে মানুষের কর্মস্পৃহাও এখন অনেক। সামাজিক মর্যাদা, অর্থনীতিক উন্নয়ন, শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে দেশ অনেকদূর এগিয়েছে। কিন্তু এটাও সত্য, এ পর্যায়গুলো সর্বাংশে ত্রুটিমুক্তও নয়। কিন্তু বিপরীতে সামাজিক নিরাপত্তা যে ঝুঁকির মধ্যে আছে আমরা তাও জানি। একইসঙ্গে ভোগবাদ ও সন্ত্রাসের নানামুখও তৈরি হয়েছে— যা শুভকাজের প্রতি প্রবলভাবে হুমকিস্বরূপ। এবং একইসঙ্গে অর্থনৈতিক অগ্রগতির ধারাতেও তা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পর্যায়ে এককভাবে শুধু বাংলাদেশকে দায়ী করা চলে না। ‘গ্লোবাল ভিলেজ’ ধারণায় সন্ত্রাস এখন বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়, নয় বিশেষ কোনো এলাকায় স্থির— আন্তর্জাতিকভাবে তার প্রসার ঘটেছে। মনোপোলার বিশ্বে ধনিক শ্রেণীর যে কায়েমী তত্পরতা— সেখানে সন্ত্রাস নানারূপে নানা অভিধায় বিভিন্ন অঞ্চলে আতঙ্ক হয়ে উঠেছে। চলমান সময়ের প্রভাবে ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতাও বদলে গেছে। মৌলবাদ ও জঙ্গীবাদ দরিদ্র দেশগুলোতে ভিন্ন আঙ্গিকে প্রসার ও বিস্তার লাভ করছে। এ অনস্বীকার্য বিষয়গুলো গণতন্ত্রের জন্য শুধু বাধা নয়, অভিশাপও বটে। এটা ঠিক, ধনীক দেশগুলোতেও গণতন্ত্র শুধু সরকার বদলের দৃষ্টান্ত ছাড়া বড় কোনো লক্ষণীয় কাজ করতে পারেনি। তার কারণও রাজনৈতিক ও মানসিক দেউলিয়াগ্রস্ততা। বিশ্বখ্যাত সমাজ-ভাষাবিজ্ঞানী নোয়ম চমস্কী কিংবা অ্যাকটিভিস্ট মার্গারেট কিম্বারলীর মতে খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ধনী গরিবের পার্থক্য বা আয়বৈষম্য বাড়ছে, সাধারণের স্বার্থরক্ষায় তাদের নেই কোনো দূরপ্রসারী পদক্ষেপ। হতাশাব্যঞ্জক হয়ে পড়েছে তারা নানাভাবে। বাইরের বিশ্বেও তাদের এখনকার অবস্থান খুব আশাপ্রদ বলা যাবে না, বিশেষ করে রাশিয়া ও আরব বিশ্বের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে। সেক্ষেত্রে অধিক জনসংখ্যার দেশ ভারত-বাংলাদেশ গণতন্ত্র রক্ষায় কাজ করছে এবং পূর্বের তুলনায় এগিয়েছেও। যদিও নানারকমে উভয় দেশেই অভ্যন্তরীণ ত্রাস বেড়েছে। মানবিক গুণাবলিও হ্রাস পেয়েছে। বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি সুদৃঢ় করতে কাজ হচ্ছে না এমনটা বলা যাবে না। উল্লেখ করেছি, মানবাধিকার ও গণতন্ত্র বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় মানুষের সামগ্রিক উন্নয়ন, বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন অংশীদারিত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়— যার সঙ্গে মানবাধিকার প্রশ্নটি জড়িত। পাকিস্তান, মিশরে বিপর্যস্ত মানবাধিকারের তুলনায় আমাদের অবস্থান স্বস্তি উদ্রেককারী হলেও সাম্প্রতিক সময়ে তা ব্যাপকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। নিখোঁজ, অপহরণ, হত্যা মানবাধিকারকেই শুধু নয় গণতন্ত্রকেও একপ্রকার বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে। আমাদের এখন সম্মুখে এগুনোর সময়। সরকার নানাভাবে সে প্রচেষ্টার মধ্যে কাজ করছে। নির্বাচনী অঙ্গীকার, জনগণের নিকট প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের চেষ্টার ভেতরে মাঝে মধ্যেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সমাজের বিভিন্ন অংশ। এ দুর্বৃত্তায়ন সমাজকে কলুষিত করছে। ব্যক্তি-পর্যায়ের অবক্ষয় ছড়াচ্ছে সমাজের নানা স্তরে। দেখা দিয়েছে ক্ষত। কার্যত তাই দেশকে অস্থির করে তুলছে। যেখানে গণতন্ত্র ও আইনের শাসনও হচ্ছে প্রশ্নবিদ্ধ। গণতন্ত্রকে সামনের দিকে পরিচালিত করার জন্য যে কাজের কথা আমরা আগেই উল্লেখ করেছি তার বিপরীতে এইরূপ ধ্বংস-অবক্ষয় যে দেশের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তা কেউ মেনে নিতে চাইবে না। আমরা পেছাতে চাই না। একে নির্মূল করতে চাই। কারণ, সমাজের এ অপরাধীর সংখ্যা খুব বেশি নয়। দুষ্টবুদ্ধির এ মানুষগুলো গণনীয়মাত্র। এজন্য যে পদক্ষেপ সরকার কর্তৃক গৃহীত হয়েছে তার কার্যকারিতা চায়। সরকার ইতিমধ্যেই বলেছে, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার কথা। কাউকেই এ বিষয়ে ন্যূনতম ছাড় না দেয়ার কথাও তারা পুনর্ব্যক্ত করেছে। সারা দেশের মানুষ সেটি কার্যকর দেখার অপেক্ষায় আছে। কেননা, প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে যখন অনেক সেক্টরে কষ্টার্জিত সাফল্য আসছে, দেশের মানুষ যখন স্ব-উদ্যোগে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অবদান রাখছে, তখন মুষ্টিমেয় অসত্ মানুষ দেশকে পিছিয়ে দিতে পারে না। গণতন্ত্রকে অপমানিত ও ভূলুণ্ঠিতও করতে পারে না। অপরাধীদের কঠোর হাতে দমনের যে প্রত্যয় সরকার ঘোষণা দিয়েছে, তার সত্যতা দেশবাসী দেখতে চায়। লেখক:অধ্যাপক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় [email protected]

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন