বিশ্বকাপে সহিংসতা

হুঁশিয়ারি ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টের

আপডেট : ১৪ মে ২০১৪, ২২:১১
ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতি ডিলমা রুসেফ বলেছেন, তার সরকার জনগণের অধিকার আদায়ের মাধ্যম হিসাবে বিশ্বকাপের সময় বিক্ষোভ প্রদর্শনকে মেনে নিলেও কোন ধরনের সহিংসতাকে বরদাশত করবেন না।বিশ্বকাপ মাঠে গড়াতে আর একমাসও নেই। এরই মধ্যে যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টিকারীদের মোকাবেলায় রিওর রাজপথে মিলিটারি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে ধর্মঘট ডেকেছে চালকরা। জোরালো নিরাপত্তার মধ্যেও ক্ষুব্ধ বাস চালকরা ৭৪টি বাস ভাংচুর করেছে। ফলে যাতায়াত ব্যবস্থায় নৈরাজ্যের সৃষ্টি হয়েছে। রিও ও ব্রাজিলের অন্যান্য শহরে কয়েক দফা পদব্রজ কর্মসূচি পালনের পর ওই ঘটনাটি ঘটে। ১২ জুন শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপ চলাকালেও এমন কর্মসূচি পালনের হুমকি দিয়েছে আন্দোলনকারীরা। টুর্নামেন্টের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থব্যয়ের ঘটনাকে মেনে নিতে পারেনি ব্রাজিলের এসব মানুষ। গত বছর সেখানে কনফেডারেশন কাপ টুর্নামেন্ট চলাকালেও একই ধরনের বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে ব্রাজিলীয়রা। এ সময় সহিংসতার ঘটনাও ঘটে। উত্তরাঞ্চলীয় শহর সিয়েরায় ব্রাজিলীয় রাষ্ট্রপতি রুসেফ বলেন, ‘কেউ যদি বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে চায় তাহলে করতে পারে। ব্রাজিল হচ্ছে একটি গণতান্ত্রিক দেশ। তবে গণতন্ত্র মানে সহিংসতা কিংবা জানমালের ক্ষতি করা নয়, যা গোটা জাতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।’ গত বৃহস্পতিবারের বাস চালকদের ধর্মঘটের পর ফের ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘট চলাকালে ব্যাপক ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা ৫৩১টি বাসে ভাংচুর ও আগুন লাগিয়ে দেয়। এতে অন্তত ৫৬ লাখ ইউরোর সমপরিমাণ ক্ষতি হয়েছে। বাস ব্যবসায়ীরা বলেছে, গত সপ্তাহের ধর্মঘট চলাকালে তাদের অন্তত ২৫ কোটি রেইসের (ব্রাজিলীয় মুদ্রা) ক্ষতি হয়েছে যা তাদের দৈনিক আয়ের ৬০ শতাংশ। রিও নগরীর পৌর সচিব আলেক্সান্দ্রে সানসাও বলেছেন, ‘শহরের ৬৩ লাখ মানুষ বেসরকারি যান চলাচল নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভরশীল।’ এদিকে বিশ্বকাপ উপলক্ষে হাজার হাজার বিদেশি পর্যটক দেশটি সফরে আসবে। তাই ১৩ জুলাইয়ের ফাইনালসহ সাতটি ম্যাচের আয়োজক শহরটিতে ধর্মঘটের কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থায় প্রচণ্ড চাপ পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সামপ্রতিক সপ্তাহগুলোতে ধর্মঘটে যোগ দিয়েছেন দেশটির শিক্ষক, ব্যাংকের নিরাপত্তা কর্মী এবং ফেডারেল পুলিশসহ নানান পেশার মানুষ। যে কারণে বিশ্বকাপের সময় কাজের লোকেরও সংকট সৃষ্টি হবার আশংকা দেখা দিয়েছে। রুসেফ বলেছেন যে, মাসব্যাপী বিশ্বকাপ চলাকালে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য দেশব্যাপী এক লাখ ৭০ হাজার সামর্থ্যবান নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হবে। এ সময় বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে বিভিন্ন অনিয়মের কারণে ব্রাজিলের সমালোচনাকে প্রত্যাখ্যান করেন রাষ্ট্রপতি। কয়েকটি স্টেডিয়াম সময়মত নির্মাণ এবং দেশব্যাপী যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপনে ব্যর্থতার কারণে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে ব্রাজিল। তবে তিনি বলেন, ‘স্টেডিয়ামের সঙ্গে বিমান বন্দর সংস্কারের কাজও শেষ হয়ে আসছে। আমি মনে করি একটি সফল বিশ্বকাপ আয়োজনের সকল উপাদানই আমাদের আছে।’-বাসস/এএফপি