গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে বাড়ছে প্রাণহানি

আপডেট : ১৪ মে ২০১৪, ২২:৩৬
পুরনো ও নিম্নমানের এলপি গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করায় দেশে সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা বেড়েই চলেছে। এতে একদিকে যেমন ঘটছে প্রাণহানি অন্যদিকে মূল্যবান সম্পদ আগুনে পুড়ে যাচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ ছাড়াও পুরনো সিলিন্ডারের দুর্বল ভাল্বের লিকেজ দিয়ে ছড়িয়ে পড়া গ্যাসে শিশু ও মহিলারা আক্রান্ত হচ্ছেন। ফলে এলপি গ্যাসের ক্ষতিকারক কার্বন শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে ঘাতকব্যাধি সৃষ্টি করছে। সমপ্রতি সিলিন্ডার বিস্ফোরণের বেশ কিছু দুর্ঘটনা ঘটলেও কর্তৃপক্ষের টনক নড়ছে না। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নতুন সিলিন্ডার কেনার টাকা বাঁচাতে পুরনো মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার ব্যবহার করে অনেকেই নিজের অজান্তে ঝুঁকিতে বসবাস করছেন । জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বলতে গেলে কয়েক লাখ লোক সুপ্ত মাইনের ওপর বসে আছে। গ্যাস সিলিন্ডার আইন-১৯৯১-এ সিলিন্ডারের মান যাচাইয়ের জন্য প্রতি পাঁচ বছর পর সিলিন্ডার পুনঃপরীক্ষা (রি-টেস্টিং) করার কথা বলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থার (আইএসও) স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ীও প্রতি পাঁচ বছর পর গ্যাস সিলিন্ডার পুনঃপরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কিন্তু তা মানা হচ্ছে না। অনেকেই ২৫ বছরের পুরনো সিলিন্ডারও ব্যবহার করছেন কোনো রকম পুনঃপরীক্ষা ছাড়াই। ফলে যেকোন সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সরাসরি বিস্ফোরণ ছাড়াও অগ্নিকাণ্ডের কারণও হয়ে উঠতে পারে এই গ্যাস সিলিন্ডার। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এলপি গ্যাস ওজনে বাতাসের চেয়ে ভারী। লিকেজের মাধ্যমে এলপি গ্যাস ছড়িয়ে পড়লে ঘরের সবচেয়ে নিচু স্থানে এসে জমা হয়। আর সেখানে কোনোভাবে আগুনের স্পর্শে এলে অথবা বৈদ্যুতিক সুইচের স্পার্ক থেকেও অগ্নিকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা জানান, সিলিন্ডার পুরনো হয়ে গেলে ভাল্ব সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। দুর্বল ভাল্বের লিকেজ দিয়ে গ্যাস বাইরে ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষেত্রবিশেষে নিম্নমানের ভাল্বের কারণেও গ্যাস লিকেজ হচ্ছে। ফলে ছড়িয়ে পড়া গ্যাসের ক্ষতিকারক কার্বন শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে শিশু ও মহিলাদের শরীরে প্রবেশ করে ঘাতকব্যাধি সৃষ্টি করছে। এ প্রসঙ্গে ক্যাবের জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. শামসুল আলম বলেন, পুরনো ও নিম্নমানের এলপি গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারের কারণে দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে। কিন্তু এসব দেখার যেন কেউ নেই। ভোক্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিলিন্ডার পুনঃপরীক্ষা করা প্রয়োজন।