ইরানের প্রতি সৌদি আরবের বন্ধুতার আভাস

আপডেট : ১৫ মে ২০১৪, ২২:০৯
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জাফরিকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানাইয়াছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুবরাজ সাউদ আল-ফয়সাল। মঙ্গলবার রিয়াদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানাইয়াছেন তিনি। নানাবিধ কারণে পরস্পর বৈরি এই দুই দেশের সম্পর্কোন্নয়নে এহেন ঘোষণা কোন অবদান রাখে কিনা, তাহা লইয়া ইতোমধ্যে উত্সুক্য তৈরি হইয়াছে বিশ্লেষক মহলে। কবে এই আমন্ত্রণ জানানো হইয়াছে তাহা সংবাদ সম্মেলনে জানান নাই মন্ত্রী। তবে ইরান যে এখন অবধি সৌদি আহবানে কোন রূপ সাড়া প্রদান করে নাই তাহা জানাইয়াছেন তিনি। নিমন্ত্রণের খবর নিশ্চিত করিয়া আল-ফয়সাল বলেন, ‘‘যখনি তাহার আসিবার সময় হইবে, আমরা তখনি তাহাকে সাদর অভ্যর্থনা জানাইতে প্রস্তুত আছি।’’ সৌদি আরবের দিক হইতে এমন এক সময়ে এই আহবান আসিল যখন বিশেষ করিয়া সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ লইয়া উভয় দেশ সাংঘাতিক রকমের বিরূপ সম্পর্কের মধ্যে জড়াইয়া আছে। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে প্রেসিডেন্ট হাফেজ আল বাশারের বিরুদ্ধে লড়াইরত বিদ্রোহীদের অন্যতম প্রধান সমর্থক ও সহায়তাদানকারী দেশ হইতেছে সৌদি আরব। পক্ষান্তরে, ইরান হইতেছে আসাদের একমাত্র উল্লেখযোগ্য ঘনিষ্ঠ মিত্র। শিয়া ও সুন্নী বিভাজনের ভিত্তিতেই ইরান ও সৌদি আরব সিরিয়াতে তাহাদের শত্রু-মিত্র স্থির করিয়াছে। শিয়া ধর্মগুরু শাসিত ইরান সিরিয়াতে বর্তমানে শিয়া শাসক আসাদের পক্ষ লইয়াছে। অন্যদিকে সুন্নী বিদ্রোহীদের পক্ষে রহিয়াছে সুন্নী সৌদি আরব। সিরিয়ার বিদ্রোহীরা অবশ্য কেবল সৌদি আরব নহে যুক্তরাষ্ট্রসহ গোটা পশ্চিমা বিশ্বের সমর্থন লাভ করিয়া আসিতেছে শুরু হইতে। আল-ফয়সাল তাঁহার বক্তব্যের একটি অংশে জানাইয়াছেন যে, সৌদি আরব ইরানের সহিত সমঝোতা করিবে এবং সংলাপে বসিবে। ইরানের প্রতি সৌদি আরবের দৃশ্যত এই নূতন ইতিবাচক অবস্থানের সম্ভাব্য পরিণতি এখনই আঁচ করা যাইবে না। প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য যে, পশ্চিমা বিশ্বের সহিত কিছুদিন পূর্বে পরমাণু প্রকল্প বিষয়ে এক ধরনের রফাতে উপনীত হইবার পরে কুয়েত, কাতার, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করিয়াছেন জাভেদ জাফরি। এই সফরগুলি ইরানের পরমাণু প্রকল্প লইয়া এইসব প্রতিবেশীদের উত্কণ্ঠা কিছুটা প্রশমনে সক্ষম হইলেও, এখন অবধি তাহাকে রিয়াদে প্রেরণের কোন আভাস দেয় নাই তেহরান। উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্প লইয়া অন্য সকল প্রতিবেশী অপেক্ষা সৌদি আরবকেই সর্বাপেক্ষা সোচ্চার হইতে দেখা যায়। দেশটি এমনকি এই ঝুঁকির কথা মাথাতে রাখিয়া বত্সরের পর বত্সর ধরিয়া সামরিক ব্যয় বাড়াইয়া চলিয়াছে। উল্লেখ্য, ইরান তাহার পরমাণু প্রকল্পকে বেসামরিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলিয়া সর্বদাই দাবি করিয়া আসিলেও, পশ্চিমা বিশ্ব, ইসরায়েল ও সৌদি আরব ইহার মধ্যে সামরিক উদ্দেশ্য যুক্ত আছে বলিয়া দাবি করিয়া আসিতেছে। কেবলমাত্র পরমাণু প্রকল্প লইয়া সন্দেহ নহে, সৌদি আরবের ভিতরে সরকারবিরোধী শিয়াদিগকে উস্কানি দেওয়ার জন্যও সময়ে-সময়ে তেহরানকে দুষিয়াছে রিয়াদ। মঙ্গলবার সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই মর্মেও আশা প্রকাশ করিয়াছেন যে, উপসাগরীয় অঞ্চলকে একটি নিরাপদ ও যতটা সম্ভব সমৃদ্ধশালী করিয়া গড়িয়া তুলিবার প্রয়াসে ইরান সমস্যা নহে বরং শরীক হইয়া উঠিবে। স্পষ্ট যে, এহেন ধাঁচের বক্তব্যের মধ্যে ইরানকে অবধারিতভাবে নেতিবাচক হিসাবে চিহ্নিত করিবার একটি প্রবণতা স্পষ্ট হইয়াছে। রিয়াদের এহেন ধরিয়া লওয়াকে তেহরান কেমন করিয়া গ্রহণ করে তাহা আশা করা যায় অচিরেই প্রতিভাত হইবে।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন