ভারতের প্রায় দেড়মাসব্যাপী নির্বাচন শেষ হয়েছে মাত্র কয়েকদিন আগে। ফলাফল এখনো প্রকাশিত না হলেও নানাদিক থেকেই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বিজেপি সমর্থিত মোদি সরকারই এবার নির্বাচনে জয়ের পথে। কারও কারও মতে বিজেপি এককভাবেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এবারের সরকার গঠন করবে। স্বাভাবিকভাবেই ভারতের এই নির্বাচনকে ঘিরে ভারতে যেমন নানান আলাপ-আলোচনা আর জল্পনা-কল্পনা চলছে, তেমনিভাবে ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোতেও এনিয়ে নানান চিন্তাভাবনা চলছে। প্রতিবেশি দেশগুলোর ভাবনার বিষয় নতুন সরকার কে হবেন, কেমন হবে সেই সরকারের দেশীয় ও পররাষ্ট্র নীতি ইত্যাদি।
নির্বাচনী ফলাফলের কথা বাদ দিয়ে আগে যদি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার দিকে লক্ষ্য করি তবে দেখা যাবে যে অনেকদিন পরে ভারতে এক ধরনের Mass mobilization বা Grass root mobilization দেখা গেছে। বিশেষ করে হিন্দুতুয়া বা হিন্দু কালচারাল ন্যাশনালিজমের উপর ভিত্তি করে বিজেপি, বিএইচপি আর এসএসএফ এবং মোদি নিজেও সারা ভারতে প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ টির উপর সভা সমাবেশ করেছেন। আমার জানা মতে বিগত ২০-৩০ বছরে এ ধরনের mobilization দেখা যায়নি। দ্বিতীয় যে বিষয়টি তা হলো এর পূর্বে ২০-৩০ বছর ধরে ভারতে যে ধারা চলছিল, যেখানে বিজেপি কিংবা কংগ্রেস তারা সর্ব ভারতীয় পর্যায়ে তাদের উপস্থিতি কিংবা প্রতিনিধিত্বকে কখনোই সুসংহত ও শক্তিশালী পর্যায়ে দাঁড় করাতে পারেনি, সেখানেও এবার বিজেপি তাদের উপস্থিতিকে শক্তিশালী করে তুলেছে। যদিও এখনো পর্যন্ত ফলাফল না পাওয়া পর্যন্ত কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
এছাড়াও এবারের নির্বাচনে আরেকটি বড় যে বিষয়টি ছিল তা হলো তরুণদের একটি বড় অংশ এবার বিজেপির সমর্থনে এগিয়ে এসেছে। সাথে সাথে হিন্দু ভোট বা বিশেষ একটি সম্প্রদায়ের ভোট এবারের নির্বাচনে বড় একটি পার্থক্য তৈরি করবে এবং উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ এই জায়গাগুলোতে যেখানে স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলো বড় ধরনের ভূমিকা পালন করতো, সেই জায়গাগুলোতে বিজেপি এবং কংগ্রেস দু দলের পক্ষেই তাদের ব্যুহ ভেদ করা অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়তো। এবার কিন্তু সেই জায়গাগুলোতে বিজেপি এই ব্যুহ ভেদ করতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষ করে উত্তরপ্রদেশ এবং বিহার যেখানে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক আসন রয়েছে। বিহারে রয়েছে ৪০টি এবং উত্তর প্রদেশে ৮০টি। এই দুই প্রধান রাজ্যে বিজেপি ফলাফল মোটামুটি ভাল করবে এবং স্থানীয় যে দলগুলো সেখানে রয়েছে তারা তাদের অবস্থানে অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়বে বলে ধারণা করা হয়।
এছাড়াও এবারে আরেকটি বিষয় সামনে এসেছে তা হলো, অন্য বছরগুলোতে নির্বাচনের চেহারাটা অনেকটা পার্লামেন্টারি ফর্মে ছিল কিন্তু এবারই প্রথম নরেন্দ্র মোদিকে সামনে রেখে বিজেপি তাদের নির্বাচনী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছে, অন্যদিকে কংগ্রেস রাহুল গান্ধীকে সামনে রেখে তাদের নির্বাচনী কর্মকান্ড পরিচালনা করেছে। যদি এবারের নির্বাচনের ধরনের দিকে আমরা নজর দেই তবে দেখা যাবে যে, এবারের নির্বাচন অনেকাংশেই প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনের মতো হয়েছে। এবং সেখানে শুধুমাত্র একজন নেতাকে সামনে নিয়ে এসে তারা তাদের পুরো নির্বাচন পরিচালনা করেছে এবং সফলও হয়েছে।
এবারে আসা যাক কী কী বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে মোদি নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। প্রধানত তিনি দুটো বিষয়কে প্রাধান্য দিয়েছিলেন। একটি হচ্ছে ভারতের অর্থনৈতিক শ্লথ অবস্থাকে কাটিয়ে তা চাঙ্গা করে তোলা এবং এর মডেল হিসাবে তিনি গুজরাট মডেলকে সামনে তুলে আনেন এবং দ্বিতীয়ত, ভারতে গত কয়েকবছরে কংগ্রেস সরকার থাকাকালীন সময়ে বেশকিছু বড় বড় দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে এবং এর ফলে জনমনে যে প্রশ্নের উদ্বেগ হয়েছে মোদি সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করেছেন এবং নিজেকে দুর্নীতিবিরোধী একটি পক্ষ বা শক্তি হিসেবে দাঁড় করানোর জোর চেষ্টা তিনি চালিয়েছেন।
কিন্তু নির্বাচনী প্রক্রিয়ার শেষদিকে যেটা দেখা গেলো যে মোদি সম্ভবত তার পক্ষে জনসমর্থন আরো বাড়ানোর জন্য তিনি হিন্দু সাম্প্রদায়িকতাকে ট্রাম্পকার্ড হিসেবে ব্যবহার করেছেন এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে তিনি বিদেশী ইস্যুগুলোকে যেমন বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তিনি তথাকথিত অনুপ্রবেশকারীদের ইস্যুকে সামনে নিয়ে এসেছেন যাতে করে একে পুঁজি করে ভারতের হিন্দু জনগোষ্ঠীর সমর্থন আদায় করতে পারেন, পাশাপাশি তিনি পাকিস্তানের বিরুদ্ধেও অনেক কথা বলেছেন। উদ্দেশ্য একটাই ছিল যে বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানকে ভারতের বিপক্ষে দাঁড় করিয়ে নিজের জনসমর্থন আদায় করা।
ভারতের এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যদি মোদি জয়যুক্ত হন তবে নিঃসন্দেহে তিনি একজন শক্তিশালী কেন্দ্রীয় প্রধানমন্ত্রী হবেন। যে কেন্দ্রীয় সরকারটি ব্যাপক জনসমর্থনের ভিত্তিতে তৈরি হবে এবং এটি বলাও ভুল হবে না যে, এ ধরনের সরকার ভারতের অবস্থানকে বহির্বিশ্বে তাদের অবস্থানকে দৃঢ়ভাবে তুলে ধরার জন্য সচেষ্ট হবে, পাশাপাশি তাদের সাথে বাংলাদেশ যদি দর কষাকষিতে যায় তবে তাদের এই ধরনের একটি শক্তিশালী সরকারকে মোকাবেলা করতে হবে। এছাড়াও বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকার এবং ভারতে কংগ্রেসের নেতৃত্বে ইউপি এই দুই সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে যে ধরনের বোঝাপড়া ছিল এখন সেই বোঝাপড়াকে আবার নতুন করে ঝালিয়ে নেয়ার সময় এসে গেছে।
ভারতের সাথে বাংলাদেশের যে ইস্যুগুলো এখনো ঝুলে রয়েছে যেমন তিস্তাচুক্তি, সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকানো, সীমান্তে নাগরিক হত্যা, বাণিজ্য জোরদারকরণ এই বিষয়গুলো নিয়ে বাংলাদেশকে ভারতের নতুন সরকারের সাথে কাজ করতে হবে।
অনেকেই এখন একথা ভাবছেন যে, একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সরকার ক্ষমতায় এলে রাজ্য সরকারের উপর তারা তাদের কর্তৃত্ব ফলাতে পারবে কিন্তু এক্ষেত্রে একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে যে, মোদি কিন্তু দিল্লীর রাজনীতিবিদ নন। তিনি রাজনীতি করেছেন গুজরাটে এবং বিজেপির নির্বাচনী প্রচারণাপত্রগুলো লক্ষ্য করলে পাই যে, সেখানে রাজ্য সরকারকে আরো শক্তিশালী করার কথা বলা হয়েছে। ইতোপূর্বে বাংলাদেশ মমতা ব্যানার্জীকে নিয়ে যে সমস্যায় পড়েছিল বিজেপি এলেও সেই সমস্যাগুলোও থাকবে। তাই বাংলাদেশের উচিত হবে কেন্দ্রীয় সরকারের পাশাপাশি আশপাশের রাজ্য সরকারের সাথেও ঘনিষ্ঠতা ও যোগাযোগ বৃদ্ধি করা, যাতে করে নিজেদের সমস্যাগুলোর সমাধান অতি দ্রুত আদায় করা যায়।
এক্ষেত্রে একটা কথা মাথায় রাখতে হবে যে কংগ্রেস কিন্তু আমাদের দাবী-দাওয়াগুলোতে সমর্থন দিয়েই রেখেছে। যদি এক্ষেত্রে বিজেপিও সাড়া দেয় তবে দুই তৃতীয়াংশ যে ভোটের দরকার হবে তাও পূরণ হবে।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যে নিরাপত্তা সহযোগিতা আছে আমার ধারণা তা অব্যাহত থাকবে কারণ ভারতে সরকার পরিবর্তন হলেও ভারত নিজেদের স্বার্থেই চলমান যে সম্পর্ক রয়েছে বাংলাদেশের সাথে তা বজায় রাখতে আগ্রহী হবে এবং বাংলাদেশও চাইবে দুই দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতা কোন কারণে ব্যাহত হোক কারণ তা উভয় দেশেরই পারস্পরিক নিরাপত্তার সাথে সম্পর্কযুক্ত। তাই আমার ধারণা উভয় দেশই তাদের নিজেদের স্বার্থেই একে অপরের সাথে ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রাখবে।
মোদি সরকার ভারতের ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসারের জন্য অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার দিকেও যথেষ্ট নজর দেবে কারণ অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ছাড়া অর্থনৈতিক উন্নয়ন কখনোই সম্ভব নয়। এছাড়াও যেহেতু তাদের নির্বাচনী প্রচারণার একটি অংশই ছিল অর্থনৈতিক উন্নয়ন সেহেতু তারা যদি তা করে তবে বাংলাদেশের জন্যও তা কল্যাণকর হবে।
ভারতের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যদিও অনেক প্রশ্ন উঠেছে তবে আমার ধারণা নির্বাচন শেষ হয়ে যাওয়ার পর তা কেটে যাবে কারণ নরেন্দ্র মোদি নিজেও রাজ্য চালিয়েছেন। তিনি ভাল করেই জানেন যে, নির্বাচন করা এবং রাষ্ট্র চালানো দুটো ভিন্ন জিনিস। শাসনক্ষমতা হাতে নিয়ে নিশ্চয়ই তিনি একটি ইতিবাচক পথের দিকে হাঁটবেন এবং ইতিবাচক একটি যাত্রার সূচনা হবে।
বিজেপি ক্ষমতায় আসলে তাদের পররাষ্ট্র নীতিতে খুব বেশি একটা পরিবর্তন হবে না। যেটুকু পরিবর্তন হবে তা হবে তাদের মধ্যকার স্টাইলের। পররাষ্ট্রনীতির যে মৌলিক বিষয়গুলো রয়েছে সেগুলো পরিবর্তনের খুব বেশী সম্ভাবনা নেই কারণ গত কয়েক বছরে ভারত বাংলাদেশের মধ্যকার সম্পর্কে অনেকগুলো ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাথে ভারতের ইতিবাচক সম্পর্ক না বজায় রাখার দৃশ্যমান তেমন কোন কারণ নেই। বরং একটু পেছনে গেলেই দেখা যাবে যে, বিজেপির বাজপেয়ীই প্রথম লাহোর যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। বাজপেয়ীর পররাষ্ট্র নীতি মোদি সরকার ধারণ করলে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর জন্য তা ফলদায়কই হবে।
মোদি সরকার ক্ষমতায় এলে সাম্প্রদায়িকরা এবং ধর্মীয় সহিংসতার উত্থান ঘটবে বলে অনেকেই মনে করছেন। এ নিয়ে ভারত এবং বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে এক ধরনের আশঙ্কাও রয়েছে।
পুরোপুরি উড়িয়ে দেয়া না গেলেও ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে ঘটনাটা এরকম যে মোদি সরকারের সময়ে যদি এ ধরনের কোন সংঘাত ঘটে তবে তার দায়ভার মোদির ঘাড়েই চাপবে। নরেন্দ্র মোদি গুজরাটের ২০০২ সালে দাঙ্গার দায়ভার যা তার কাঁধে এখনো রয়েছে সেক্ষেত্রে তিনি আবারও একাই দায়ভার যেঁচে নিজের কাঁধে তুলে নিবেন বলে অন্তত মনে হয় না।
নির্বাচনে ব্যর্থতার পেছনে কংগ্রেসের জন্য তাদের পূর্বেকার কার্যকলাপ ও ঘটনাবলী খুবই নেতিবাচক ছিল। এর মধ্যে প্রধান হলো ভারতের যে অর্থনৈতিক গতি তা শ্লথ ছিল। দ্বিতীয়ত কংগ্রেসের অনেকের বিরুদ্ধেই দুর্নীতির সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে, তৃতীয়ত জননিরাপত্তায় ব্যর্থতা এতে করে বিশেষ করে নারীরা সবাই বলছে কংগ্রেসের আমলে নারীরা অনিরাপদ তাই তারা ঝুঁকেছেন বিজেপির দিকে। এছাড়াও সর্বশেষ যা তা হলো সাংগঠনিকভাবে কংগ্রেসের চাইতে বিজেপি অনেক বেশী দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। এবং রাহুলের পাশাপাশি মোদি নেতা হিসেবে অনেক বেশী আকর্ষণীয়। দসা ও কর্মফল মনে হয়েছে। এছাড়াও ভারতের যে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর উত্থান তারা রাহুলের যে বংশপরম্পরায় নেতা হয়ে ওঠা তা আর তারা পছন্দ করছেন না, সেক্ষেত্রে রাহুলকে সামনে নিয়ে আসাটাও আমার মতে কংগ্রেসের খুব একটা ভালো সিদ্ধান্ত নয়, কারণ ইতোপূর্বে বেশকিছু নির্বাচনে রাহুল প্রমাণ করেছে যে সে একজন দক্ষ নেতা হয়, সেক্ষেত্রে মোদির মত একজন ক্যারিশম্যাটিক লোকের বিপক্ষে রাহুলকে বেশ নিষ্প্রভই মনে হয়েছে।
এবারের নির্বাচনে গুণগত একটা ফ্যাক্টর ছিল ক্যারিশমা। বর্তমানে মিডিয়ার কল্যাণে অনেক নেতাই দলের চেয়ে বড় হয়ে গেছেন। কয়েক মাস আগে বিজেপির নেতৃত্বের সাথে এ নিয়ে আলোচনা পর্যন্ত হয়েছে। এবার বিজেপির যারা পুরোনো নেতৃবৃন্দ ছিলেন আদভানি থেকে শুরু করে মুরলী মনোহর জোশি, যশোবন্ত সিং যারা একসময় এর নেতৃত্বে ছিলেন তারা সবাই বর্তমানে মোদির সামনে সমান্তরালে চলে গেছেন। গত ৫০-৬০ বছর ধরে ভারতে যে এলিট কেন্দ্রিক রাজনীতি ছিল মোদি এবার তা ভেঙ্গে তৃণমূল পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। যা ভারতীয় রাজনীতির জন্য মৌলিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একেবারে্ই নিজের যোগ্যতায় রাজনীতিতে উঠে আসা একজন মানুষ নরেন্দ্র মোদি। পাশ্চত্য ঘেঁষা ঘরাণার চিন্তা-চেতনা তার সাথে অনুপস্থিত। এবার যদি মোদির হাত ধরে ভারতের রাজনীতি নতুন পথে অগ্রসর হয় তবে আগামী দিনে সেখানে রাহুলদের আর কোন জায়গা থাকবে না। এবং ভারতীয় রাজনীতির এই গুণগত পরিবর্তন দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের উপরন্তু প্রভাব ফেলবে।
ভারতে নতুন একটি সরকার আসছে। এই নতুন সরকারের সাথে যোগাযোগ এবং পরিচিতি বাড়ানোই হবে বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক কাজ। দ্বিতীয়ত, আমাদের ঝুলে থাকা ইস্যুগুলো নিয়ে নতুন করে উদ্যোগ নিতে হবে। তৃতীয়ত, বাণিজ্যিক যোগাযোগ বাড়াতে হবে। যেমন ভারতে আমরা প্রায় শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাই কিন্তু এর মাঝেও অনেকগুলো প্যারা-ট্যারিফ, নন-ট্যারিফ বেরিয়ে এসেছে। এগুলোকে সরানোর জন্য আলোচনা দরকার। এছাড়াও ভারতের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্যের বড় রকমের একটি ঘাটতি রয়েছে, এই ঘাটতি দূর করার প্রধান উপায়ই হচ্ছে ভারত থেকে এদেশে বিনিয়োগ করা এবং ক্রমান্বয়ে তা বাড়ানো। কারণ বাণিজ্য সবসময়ই দ্বি-পাক্ষিক। যদি ভারত সরকার এ নিয়ে এগিয়ে আসে তবে অবশ্যই তা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গলজনক হবে।
অনুলিখন : সাইদুর রাহমান খান
লেখক : সাবেক রাষ্ট্রদূত ও সচিব
