আজ টিভিস্বত্ব বিক্রি

সব শর্ত পাকা করে এগোচ্ছে বিসিবি

আপডেট : ১৫ মে ২০১৪, ২২:২৭
সবকিছু ঠিক থাকলে প্রায় দু’বছর পর আজ আবার দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশ ক্রিকেট সম্প্রচারের দায়িত্ব পেয়ে যাবে কোনো একটি প্রতিষ্ঠান। ২০১২ সালের পর এই প্রথম দীর্ঘমেয়াদের টিভিস্বত্ব বিক্রির বিষয়টি অন্তত নিলাম পর্যন্ত পৌঁছেছে। ইতিমধ্যে চারটি দেশি ও বিদেশি প্রতিষ্ঠান ছয় বছর মেয়াদি এই টিভিস্বত্ব কিনতে আগ্রহ দেখিয়ে ‘টেকনিক্যাল’ দরপত্র জমা দিয়েছে। আজ উন্মুক্ত নিলামের ভেতর দিয়ে বিক্রি হবে সেই টিভিস্বত্ব। ১ মে ২০১৪ থেকে কার্যকর বলে বিবেচিত এই সময়কাল শেষ হবে ৩০ এপ্রিল ২০২০ সালে। গতকাল বোর্ডের এ বিষয়ক সভাশেষে মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস জানালেন, ‘এ পর্যন্ত চারটি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে। তারা তাদের টেকনিক্যাল বিডগুলো জমা দিয়েছে। এরা হলো—বার্গ মিডিয়া আছে, মিডিয়া কম আছে, একটা ভারতীয় কোম্পানি আছে নাম স্পোর্টস সলুশন লিমিটেড এবং গাজী টিভি। এদের প্রস্তাবগুলো আমাদের পরিচালকরা, অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বিশ্লেষণ করেছেন।’ এর আগে বিসিবি সর্বশেষ ছয় বছর মেয়াদি চুক্তি করেছিল নিম্বাসের সঙ্গে। যেটি তিক্ততার ভেতর দিয়েই ২০১২ সালে শেষ হয়। এখনও বিসিবি তার পাওনা নিম্বাসের কাছ থেকে বুঝে পায়নি। সেই চুক্তি শেষ হওয়ার পর বিসিবি একবার লম্বা চুক্তিতে টিভিস্বত্ব বিক্রি করতে চেয়েছিল। কিন্তু সেবার সাড়া পায়নি সংস্থাগুলোর কাছ থেকে। এরপর থেকে তিনটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আলাদা আলাদা করে বিক্রি করেছে বিসিবি। যেগুলো বাংলাদেশি দুটি চ্যানেল মাছরাঙ্গা ও চ্যানেল নাইন কিনেছিল। অবশ্য এই চ্যানেল নাইনকে নিয়ে একটি প্রশ্ন উঠলো। তাদের কাছে বিসিবির এখনও বিপিএলের পাওনা আছে বলে জানা গেছে। সে ক্ষেত্রে তারা কী করে বৈধতা পেল? বিসিবির কমার্শিয়াল কমিটির চেয়ারম্যান কাজী ইনাম আহমেদ বললেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের বিসিবি বা অন্য কোনো বোর্ডের সঙ্গেও শর্তভঙ্গ করার ইতিহাস থাকলে, তারা বৈধতা পাবে না। শুরুতে কৌশলগত কারণে এটাকে বড় করে না দেখলেও আইন দেখেই সব ঠিক করা হবে বলে বলেছেন তিনি। আমি পরিষ্কার ভাবে বলতে চাই আপনাদের, আমাদের প্রথম থেকে পরিকল্পনা ছিল অংশগ্রহণকারী যাতে বৃদ্ধি পায়। অংশগ্রহণকারীর চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ আমাদের আর্থিক নিরাপত্তা। এখন কিন্তু নিশ্চিত করা হয়নি কারা অংশগ্রহণ করবে। এটা আমরা এখনো অপেক্ষা করে আছি। সমস্যাগুলো আমরা উদ্ধার করার চেষ্টা করছি।’ একইরকম বললেন জালাল ইউনুসও, ‘এগুলোই এখন যাচাই বাছাই হচ্ছে। কেউ যদি এখানে শর্তপূরণ না করে তবে অবশ্যই ডিসকোলিফাই হবে।’ এদিকে যে ভিত্তিমূল্যের ওপরে আজ নিলাম হবে, সেটা প্রকাশ করলো না বিসিবি। অস্ট্রেলিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান ভিত্তিমূল্যটা হিসাব করে দিয়েছে। তার সঙ্গে বিসিবির অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরাও অবদান রেখেছেন। অংকটা প্রকাশ না করলেও সেটা যে আগের চেয়ে বড় হবে, তা বলে দিলেন কাজী ইনাম, ‘শেষবারের সাথে তুলনা করলে অনেক কিছু সাথে যোগ হবে। আমরা কখনই চিন্তা করছি না আমাদের ভ্যালু কমিয়ে ফেলব। সেবার ভারতের সঙ্গে আমাদের ২টি সিরিজ ছিল। ২টি ত্রি-দেশিয় সিরিজও ছিল। এবার ভারতের সঙ্গে আমাদের আছে ৬ ওয়ানডে এবং ১টি টেস্ট ম্যাচ। এখানে ভারত একটা বড় ভ্যালু। ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়া বড় ভ্যালু।’ এই ছয় বছর সময়ে অতিরিক্ত কোনো সিরিজ যদি বিসিবি আয়োজন করে, তার কী হবে, তাও বললেন ইনাম, ‘শর্তে আছে যে, সে ক্ষেত্রে আমরা একটা মূল্য নির্ধারণ করবো। সে মূল্য নিয়ে আমরা একমত হতে না পারলে রিটেন্ডার করতে পারি। অন্য কোন ব্রডকাস্টারকে সেটা দিতে পারবো।’