মেসি ক্লাব সাফল্যের বিনিময়ে বিশ্বকাপ চাইবেন: আর্দিলেস

আপডেট : ১৫ মে ২০১৪, ২২:২৮
বার্সেলোনার হয়ে ক্লাব পর্যায়ে কোন সাফল্যই অধরা নেই তার। কাতালানদের হয়ে দুরন্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে টানা চারবার জিতেছেন ফিফা ব্যালন ডি’অর পুরস্কার। মেসির শো-কেসে পাওয়া যাবে না এমন কোন ব্যক্তিগত পুরস্কার বোধহয় নেই। তবে আর্জেন্টিনার ১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য, ওজি আর্দিলেসের বিশ্বাস, কেবল একটি বিশ্বকাপ সাফল্যের বিনিময়ে ক্লাব পর্যায়ের সব সাফল্য পায়ে ঠেলতেও দ্বিধাবোধ করবেন না মেসি। বার্সেলোনার হয়ে ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই বল পায়ে জাদুকরী সব মুহূর্ত উপহার দিয়ে আসা মেসি, জাতীয় দলের জার্সি গায় দিলেই যেন পরিণত হন নিজের ছায়ায়। ক্লাব পর্যায়ের সব সাফল্য যেখানে তার পায়ের সামনে লুটোপুটি খায়, সেখানে দু’বার বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে নিজের দেশকে এখনো পর্যন্ত কোয়ার্টার ফাইনাল বৈতরণী পার করতে পারেননি এই তারকা। যদিও ২০০৬ সালে নিজের প্রথম বিশ্বকাপে নিজেকে পুরোপুরি মেলে ধরার সুযোগ পাননি মেসি। তবে সেই আক্ষেপ ঘোচানোর একটা সুযোগ এসেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে। তবে জার্মানদের শক্তিশালী ফুটবলের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করে আর্জেন্টিনা বিদায় নেয় শেষ আট থেকেই। অর্থাত্ বার্সেলোনার হয়ে ২১টি শিরোপা জেতা মেসির ক্যারিয়ারের আক্ষেপ বলতে কেবল বিশ্বকাপই। আর্দিলেসের বিশ্বাস প্রতিভা বিচারে পেলে, ম্যারাডোনার সঙ্গে একই কাতারে থাকা মেসি একটি বিশ্বকাপের জন্য বিসর্জন দিতে চাইবেন ক্লাবের হয়ে তার যেকোন অর্জন, ‘একটি বিশ্বকাপ জেতার জন্য বার্সেলোনার হয়ে সে যতগুলো মেডেল জিতেছে তার সবগুলোই হয়তো দিতে চাইবে। পেলে, ম্যারাডোনার মতো সর্বকালের সেরাদের সঙ্গে একই কাতারে থাকতে তাকে কেবল বিশ্বকাপে অংশ নিলেই চলবে না, সেটা জিততেও হবে।’ আর্দিলেস কথা বলেছেন আসন্ন বিশ্বকাপে ইউরোপীয় দলগুলোর সম্ভাবনা বিষয়েও। দক্ষিণ আমেরিকায় অনুষ্ঠিত কোন বিশ্বকাপে ইউরোপের কোন দেশ শিরোপা জেতেনি, এই তথ্যকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এবার সেই ইতিহাস ভেঙ্গে যেতে পারে বলে মনে করছেন আর্দিলেস। যদিও ব্রাজিলকে শিরোপার অন্যতম দাবিদার বলে মেনে নিতে আপত্তি নেই তার। নিউক্যাসল ইউনাইটেড ও টটেনহ্যাম হটস্পারের সাবেক এই কোচ বলেন, ‘ইউরোপের তিন-চারটি দল আছে যাদের ব্রাজিলে ভাল সম্ভাবনা আছে বলেই আমি মনে করি। যদিও ব্রাজিল নিজের মাঠে খেলবে। কিন্তু নিজের মাঠে খেলাটা এখন আর খুব বড় কোন পার্থক্য গড়ে দিতে পারে না। কারণ, এখন খেলোয়াড়রা সবধরনের কন্ডিশনেই অভ্যস্ত। সুতরাং এটা (নিজের দেশে খেলাটা) এখন আর কোন বড় সুবিধা দেয় না, যেটা আগে পাওয়া যেত।’-বিবিসি অবলম্বনে