পাচার থেকে রক্ষা পেলেন ৩ তরুণী

আপডেট : ১৫ মে ২০১৪, ২২:৩৭
কাজের সন্ধানে গ্রাম থেকে ঢাকায় আসা। গুলশান বনানী এলাকায় কোন বাসাবাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ পাব এমনটাই আশা করেছিলাম। কিন্তু কাজ পেতে হলে তো কোন মাধ্যম দরকার। চেনাজানা এমন কেউ নেই যার সহায়তা পাব। প্রায় ২০ দিন চেষ্টা করেও কোন ব্যবস্থা করতে পারিনি। চরম হতাশার মধ্যে পড়ে গেলাম। এ অবস্থায় গুলশান লেডিস পার্কের সামনে চা দোকানদার আব্দুল মজিদের সঙ্গে পরিচয়। তাকে বিস্তারিত খুলে বলি। আমার কথা শুনে আব্দুল মজিদ জানায়, বাসাবাড়িতে কাজ করে কত টাকা আয় করবে। তার চেয়ে তোমার বয়সি আরো কয়েকটা মেয়ে সংগ্রহ কর। তোমাদের ভারতে পাঠিয়ে ভাল চাকরির ব্যবস্থা করে দেব। কিন্তু মজিদকে বিশ্বাস করেই ভুল করেছিলাম—কথাগুলো পাচারকারীদের কবল থেকে রক্ষা পাওয়া এক তরুণীর। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি টিম বুধবার ঐ তরুণীসহ আরও দুই তরুণীকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর একটি কমিউনিটি সেন্টারের সামনে থেকে পাচারকারীদের কবল থেকে উদ্ধার করে। যাদের ভারতে ভাল চাকরির লোভ দেখিয়ে পাচার করার জন্য জড়ো করা হয়েছিল। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ এক ভারতীয় নাগরিকসহ ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। এরা হলেন ভারতীয় নাগরিক নিখিল দাস, আব্দুল মজিদ, মনিকা, চঞ্চলা রানী, আরিফুল ইসলাম, নবী হোসেন, আনোয়ার হোসেন ও গোপাল মন্ডল। তাদের গতকাল ২ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ডিবি। পাচারকারীদের কবল থেকে মুক্তি পাওয়া ঐ তরুণী বলেন, চা দোকানদার আব্দুল মজিদের কথামত ঘটনার দিন বিকাল চারটার দিকে তারা তিনজন যাত্রাবাড়ী মালঞ্চ কমিউনিটি সেন্টারের সামনে হাজির হন। এ সময় দেখে আব্দুল মজিদের সঙ্গে আরও ১০/১২ জন সেখানে অবস্থান করছে। তারা তিনজন উপস্থিত হওয়ার পর মজিদসহ অন্যরা কানাঘুঁষা করছিল। এতে তাদের সন্দেহ হয়। এক পর্যায়ে তারা জানতে চায়, ভারতে যেতে হলে তো পাসপোর্টের প্রয়োজন হয়। পাসপোর্ট কোথায়? কী চাকরি করতে হবে? এসব প্রশ্নের ব্যাপারে তারা কোনরকম সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেনি। ফলে তারা তাদের সঙ্গে ভারতে যেতে অস্বীকৃতি জানায়। কিন্তু তাদের আপত্তির মুখে মজিদসহ অন্যরা তাদেরকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আটকে রাখার চেষ্টা করে। অবস্থা বেগতিক দেখে তারা তিনজন চিত্কার দেয়। চিত্কার শুনে স্থানীয় কিছু লোক সেখানে জড়ো হয়। একই সময় ঘটনাস্থল থেকে যাচ্ছিল ডিবির একটি টিম। তারাও ঘটনাটি জানার চেষ্টা করে। ডিবি পুলিশ ঘটনাস্থলে আসতেই পাচারকারীদের কয়েকজন পালিয়ে যায়। এ অবস্থায় ডিবি পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৮ জনকে আটক করে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতারকৃতরা সংঘবদ্ধ নারী পাচারকারী চক্রের সদস্য। তারা বাংলাদেশ থেকে কম বয়সি মেয়েদের উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দিয়ে ভারতে পাচার করে আসছিল। দলটির নেতা নিখিলও অবৈধভাবে কয়েক মাস আগে বাংলাদেশে আসে। তিনি আরো বলেন, গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করেছে, তারা বিভিন্ন সময় ২০/২৫ জন নারীকে ভারতে পাচার করেছে। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার নাজমুল আলম বলেন, ভারতীয় নাগরিক নিখিলের পূর্বপরিচিত আসামি চঞ্চলা রানী ও গোপাল মণ্ডল। তারা পাচারকারী চক্রের মূল দেশীয় এজেন্ট। চঞ্চলা রানী ও গোপাল মন্ডল নিখিলকে নারী সরবরাহের উদ্দেশ্যে কম বয়সি দেশীয় মেয়েদের সংগ্রহ করার জন্য মজিদ, হানিফ, আরিফুল ইসলাম, নবী হোসেন, আনোয়ার হোসেনকে নিয়োজিত করে। তারা বিভিন্ন কৌশলে কম বয়সি সুন্দরী মেয়েদের ফুসলিয়ে জড়ো করে। পরবর্তী সময়ে ঐ সমস্ত নারীকে ঢাকা থেকে সড়কপথে বেনাপোলে নিয়ে সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী আসামি হায়দার ও নাজিমের মাধ্যমে অবৈধভাবে সীমান্ত পার করে নিখিলের হাতে তুলে দিত। সে তরুণীদের ভারতের বিভিন্ন পতিতালয়ে বিক্রি করে দিত।