সব সাধকের বড় সাধক আমার দেশের চাষা
বাংলা দ্বিতীয়পত্র
আতাউর রহমান সায়েম
শিক্ষক ,বাংলা
সারমর্ম
১৪. সব সাধকের বড় সাধক আমার দেশের চাষা,
দেশ মাতারই মুক্তিকামী দেশের সে সে আশা।
পুণ্য এতে হবে নাকো, সব করিলেও জড়।
মুক্তিকামী মহাসাধক মুক্ত করে দেশ,
সবারই সে অন্ন যোগায় নাইকো গর্ব লেশ।
ব্রত তাহার পরের হিত সুখ নাহি চায় নিজে,
রৌদ্রদাহ-তপ্ত তনু শুখায় মেঘে ভিজে।
আমার দেশের মাটির ছেলে করি নমস্কার,
তোমায় দেখে চূর্ণ হউক সকল অহঙ্কার।
সারমর্ম: যে সাধনার ফল সবাই ভোগ করতে পারে তা-ই বড় সাধনা। এ কারণে চাষিই সবচেয়ে বড় সাধক। তারা রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে যে ফসল ফলায়, তার ওপর নির্ভর করে সমগ্র দেশ বেঁচে থাকে বলেই সে দধীচির চেয়েও বড় সাধক।
১৫. স্বাধীনতা স্পর্শমণি সবাই ভালবাসে,
সুখের আলো জ্বালে বুকে, দুঃখের ছায়া নাশে।
স্বাধীনতা সোনার কাঠি, খোদার সুধা দান,
স্পর্শে তাহার নেচে উঠে শূন্য দেহে প্রাণ।
মনুষ্যত্বের বান ডেকে যায়, পশুর হূদয়তলে,
বুক ফুলায়ে দাঁড়ায় ভীরু স্বাধীনতার বলে।
দর্পভরে পদানত উচ্চ করে শির,
শক্তিহীনেও স্বাধীনতা আখ্যাদানে বীর।
সারমর্ম: মানুষের জীবনে স্বাধীনতা পরশ পাথরের মতো। তার ছোঁয়ায় দুঃখময় জীবনে আসে সুখ, মুমূর্ষ, জাতির জীবনে জাগে প্রাণস্পন্দন। স্বাধীনতা মানুষের ভীরুতা দূর করে তাকে সাহসী করে তোলে।
১৬. হে দারিদ্র্য, তুমি মোরে করেছ মহান!
তুমি মোরে দানিয়াছ খ্রিষ্টের সম্মান
কণ্টক মুকুট শোভা;-দিয়াছ তাপস,
অসংকোচ প্রকাশের দুরন্ত সাহস;
উদ্ধত উলঙ্গ দৃষ্টি; বাণী ক্ষুরধার,
বীণা মোরে শাপে তব হল তরবার।
দুঃসহ দাহনে তব হে দর্পী তাপস,
অম্লান স্বর্গরে মোর করিলে বিরস,
অকালে শুকালে মোর রূপ রস প্রাণ!
শীর্ণ করপুট ভরি সুন্দরের দান
যতবার নিতে যাই- হে বুভুক্ষু, তুমি
অগ্রে আসি, কর পান! শূন্য মরুভূমি
হেরি মম কল্পলোক।
সারমর্ম: দারিদ্র্য জীবনকে করে মহিমান্বিত। দারিদ্র্য মানুষকে স্পষ্টভাষী করে, ফলে সে নির্মম বাণী প্রকাশের প্রেরণা পায়, নিজের দাবি জানাতে সাহস পায়। কিন্তু দারিদ্র্যের অভিশাপে জীবনের অনেক স্বপ্ন অপূর্ণ থাকে এবং সৌন্দর্য-আনন্দ বিনষ্ট হয়।
১৭. হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন;—
তা সবে, (অবোধ আমি!) অবহেলা করি,
পর-ধন-লোভে মত্ত, করিনু ভ্রমণ
পরদেশে, ভিক্ষাবৃত্তি কুক্ষণে আচরি।
কাটাইনু বহু দিন সুখ পরিহরি!
অনিদ্রায়, অনাহারে সঁপি কায়, মনঃ,
মজিনু বিফল তপে অবরেণ্য বরি;—
কেলিনু শৈবালে, ভুলি কমল-কানন!
পালিলাম আজ্ঞা সুখে; পাইলাম কালে
মাতৃভাষা-রূপ খনি, পূর্ণ মণিজালে।
সারমর্ম: পরের সম্পদের লোভ করা ভিক্ষাবৃত্তির শামিল। নিজের মাতৃভাষা ও সাহিত্যের ভান্ডার যেন খনির মতো অনন্ত রত্নসম্পদের আকর। তা অবহেলা করে অন্য ভাষা-সাহিত্যের দ্বারস্থ হওয়া মূর্খতা।
১৮. ক্ষমা যেথা ক্ষীণ দুর্বলতা
হে রুদ্র, নিষ্ঠুর যেন হতে পারি তথা
তোমার আদেশে। যেন রসনায় মম
সত্যবাক্য ঝলি ওঠে খরখড়গ সম
তোমার ইঙ্গিতকে। যেন রাখি তব মান
তোমার বিচারাসনে লয়ে নিজ স্থান।
অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে
তব ঘৃণা যেন তারে তৃণ সম দহে।
সারমর্ম: অন্যায় করা এবং অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া কিংবা অন্যায়কারী ও অন্যায়সহ্যকারী দুজনই সমান অপরাধী, এবং ঘৃণার পাত্র। সত্য ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠার জন্যে প্রয়োজনবোধে উভয়ক্ষেত্রেই কঠোর হতে হবে।
