ভাব-গুরুদের জনসম্মুখে
ধূমপান দেখে
আমরা হতাশ
বাংলাদেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কয়েকজন স্বনামধন্য, বিজ্ঞ, সুবিচক্ষণ এবং আমাদের সবার ভাব-গুরু মহোদয়রা জনসম্মুখে ধূমপান করে থাকেন এবং এটা তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। (বি.দ্র. আমার বাবাও কিন্তু জনসম্মুখে ধূমপান করে থাকেন)। এসব ভাব-গুরুর জীবনাদর্শ, প্রজ্ঞা, চিন্তা, আহ্বান এবং ব্যক্তিত্ব আমাদের আকুল করে তুলে। আমরা তাদের পথই অনুসরণ করার স্বপ্ন লালন করি। তাহলে কি আমরাও একদিন তাই করবো?
আমাদের ভাব-গুরুদের মত বিখ্যাত ব্যক্তিরাও জনসম্মুখে ধূমপান করত - মূলত প্রথা ভাঙ্গার বা মুক্ত চিন্তা বিকাশের উদ্দেশ্যে। মধ্যযুগীয় প্রথা ভাঙ্গার বা মুক্ত চিন্তা বিকাশকে স্বাগত জানাই। কিন্তু আজও আছি প্রথা, মধ্যযুগ ও তার নির্মম বিধি-বিধানের মধ্যে। আমি প্রথার স্বপক্ষে নই। প্রথা মানুষকে পশুস্তরে আটকে রাখে, বিকশিত হতে দেয় না। আমরা তাদের সম্মুখ সৈনিক এবং বিশ্বাস করি, আমরা প্রথা ভাঙ্গার বা মুক্ত চিন্তার বিকাশ ঘটাতে পারব। আমাদের ভাবগুরুরা যদি প্রথা ভাঙ্গার উদ্দেশ্যে— তরুণদের সামনে ধূমপান করেন, তাহলে আমরা, তরুণরা কি বিষ পানে প্রলুব্ধ হব না
মেহেদী হাসান মুকুল
৩য় বর্ষ , ইংরেজি বিভাগ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
বিশ্ববিদ্যালয় গোপালগঞ্জ- ৮১০০।
তরুণরা আগামী দিনের
সম্পদ, তাদের হতাশ
হলে চলবে না
তারুণ্য হলো বন্ধুর পথ। এক্ষেত্রে তাকে ঝুঁকি নিতেই হবে। তরুণরা জাতির কর্ণধার। তরুণ সমাজ তাদের ধৈর্য এবং একতাবদ্ধ হয়ে অনেক কল্যাণকর অর্জন বয়ে এনেছে জাতির জন্য। ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ প্রতিটি দুঃসাহসিক কর্মে স্বাক্ষর রেখেছে তরুণ সমাজ। বিভিন্ন সময়ে ন্যায্য দাবি আদায়ে রাজপথে নেমেছে। একটা জাতির আগামীদিনের মূল্যবান সম্পদ এই তরুণরা। তাদের পথভ্রষ্ট হলে চলবে না। দেশের বৃহত্ স্বার্থে তাদের কাজ করতে হবে। সকল বাধাবিপত্তি, অপসংস্কৃতি, দুর্নীতি, অপকর্ম পরিহার করতে হবে। তেমনিভাবে বর্তমানেও পরাজয়ের ভয় না করে যাবতীয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে হবে। অতএব, তরুণদের হতাশ হওয়া যাবে না। কখনোই না।
মসিউর রহমান
মানবিক বিভাগ, ২য় বর্ষ
কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজ।
আর হতাশা নয়
মানসিক প্রশান্তিই
বড় শক্তি
তরুণদের তারুণ্য থাকতে হতাশ হলে চলবে? শুধু ব্যাকুল হয়ে আকুল আবেদন করলেই সৃষ্টিকর্তা তার পাশে এসে দাঁড়ায় না। এর পেছনে যুক্তি থাকতে হয়। এর মধ্যে কিছু আবার হতাশাগ্রস্ত হয়ে অন্ধকার মহল দ্বারা ব্ল্যাক ভায়োলিন বাজাচ্ছে। নীল দংশনে কিছু তরুণসমাজ খেই হারিয়ে ফেলছে। যদিও তারা সচেতনতার মন্ত্রে দীক্ষিত। অনেকেই আছে যারা সবকিছু ভাগ্যের উপর ছেড়ে দেয়। যেটার জন্য তাদের একসময় চরম মূল্য দিতে হয়। দেশের লক্ষ তরুণ হতাশার মন্ত্রে দীক্ষিত হওয়ার পেছনে একটি বড় কারণ থাকতে পারে। আর সেটা হতে পারে মানসিক শক্তির অভাব। আবার অনেকেই নেশাকে মনে করে পোস্ট মডার্ণ যুগের স্মার্টনেসের একটি অংশ হিসেবে। তারা ধীরে ধীরে প্রবেশ করে অন্ধকার গ্রহে। যখন চেতনা ফিরে আসে তখন তারা নিজেদের আবিষ্কার করে হতাশার চরম পর্যায়ে। যদি কেউ হতাশা থেকে বের হতে না পারে তাহলে সে রোজ রোজ একডোজ হতাশার বড়ি খেতে পারে। মনে রাখতে হবে মানসিক প্রশান্তিই বড় শান্তি। আমার যা আছে তা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে।
শেখ রাসেল
৩য় বর্ষ, ইংরেজি বিভাগ
নরসিংদী সরকারি কলেজ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।
অতি দ্রুত তরুণদের
কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা
করতে হবে
বেকারত্বের কারণে তরুণরা সত্যিই হতাশাগ্রস্ত। অতিদ্রুত তরুণদের সঠিক কর্মসংস্থান না করা হয় তাহলে এই দেশের উন্ন্য়নের চলমান চাকা মুখ থুবড়ে পড়বে। শুধু তাই নয়, দেশে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটবে। আজকাল পত্র-পত্রিকা খুললেই দেখা যায় যে, গুম, হত্যা, অপহরণ, চাঁদাবাজি প্রভৃতি কাজে তরুণদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাচ্ছে। এর কারণ সুস্পষ্ট যে, তরুণদের সঠিক কর্মসংস্থান নেই। বেকারত্বের কারণেই এরকম ঘটনা ঘটে থাকে। আবার অনেকে জীবিকা নির্বাহের জন্যও এরকম জঘন্য কাজ বেছে নিতে বাধ্য হয়। যদি সঠিক কর্মসংস্থান থাকত তাহলে এ ধরনের কাজ করার কোন সুযোগই পেত না। তাই এজন্য সরকারকে অতি দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে ও বাস্তবায়ন করতে হবে। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও সাহায্যের হাত বাড়াতে হবে, বিভিন্ন কল-কারখানার মালিকদেরও সাহায্যের প্রয়োজন। তরুণদের উন্নয়নের কথা চিন্তা করে সকলকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। তাহলে দেশের উন্নয়ন সম্ভব।
মো.হাসিবুল করিম
শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ।

