হতাশা লাঘবে সুষ্ঠু পরিকল্পনা
ও প্রয়োগ এবং মানব সম্পদ
উন্নয়ন খুবই জরুরি
তারুণ্য জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। জীবনকে একটি শক্ত ভিত্তির উপর স্থাপন করার সময়। কিন্তু এখন প্রশ্ন উঠছে তরুণ সমাজ কি হতাশ? বাক্যটি পড়তেই একটি অজানা ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাই। আজ না! আমার জানা মতে গুটি কয়েক উন্নত দেশ ছাড়া বাকি সব দেশেই অশিক্ষিত, অল্পশিক্ষিত তরুণদের তুলনায় শিক্ষিত তরুণরাই অনেক বেশি হতাশ। কি জানি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা, চাকরির সংকুলান বা অন্য কাজ করার পরিবেশ ঠিকঠাক আছে কি না? ভারতে যেখানে ২৩-২৪ বছর বয়সে অনার্স শেষ করে বৃহত্ চাকরির বাজারে ঢোকার সুযোগ পায়, সেখানে আমরা অনার্স শেষ করি ২৫-২৬ বছর বয়সে। এ তো গেল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় হলে তো কথাই নেই, আপনাকে সেখানে বুড়ো হওয়ার স্বপ্ন দেখতে হবে। এছাড়া পরিবারের প্রত্যাশা থাকে সন্তানরা একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর চাকরি করে সংসারের হাল ধরবে। কিন্তু সেই সময়ে কি সব তরুণ তা করতে পারছে? এজন্য তারা জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন সামাজিক অপরাধমূলক কাজে। তারা গ্রহণ করছে ইয়াবা, ফেন্সিডিল, গাঁজা ইত্যাদির মত ঘাতক নেশা। ফলে বিপথগামী হচ্ছে তরুণ সমাজ। এসব তো হতাশারই ফসল।
সামিয়েল মারডী
মার্কেটিং বিভাগ (৪র্থ বর্ষ), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
০০০০০০০০০০০০০০
তরুণ সমাজ হতাশ নয় হতাশ তরুণ নামের
কিছু বার্ধক্যপ্রাপ্তরা
বর্তমানে তরুণ সমাজ হতাশ নয়। আজ থেকে কয়েকবছর আগে কি এমন উন্নয়ন সাধিত হয়েছিল দেশে? আর বর্তমানে কি হচ্ছে না? যেখানে বহির্বিশ্বে ‘বাংলাদেশ’ নামে কোন দেশ আছে কিনা সেটা অজ্ঞাত ছিল, সেখানে বর্তমানে শিক্ষাক্ষেত্রে, কৃষিতে, চিকিত্সায়, বিজ্ঞানে অবদানের জন্য ছোট্ট একটি দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। প্রতিবছর S.S.C, H.S.C পরীক্ষার G.P.A-5 পাওয়া ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা এত বেশি হচ্ছে যে, তাদেরকে ভর্তি করিয়ে শ্রেণীকক্ষে বসার স্থান দেয়ার মত পর্যাপ্ত কলেজ, ভার্সিটি বাংলাদেশে নেই। আজ তরুণরা উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে স্কলারশিপ নিয়ে বিভিন্ন দেশে পড়াশুনা করতে যাচ্ছে। যুগের সাথে পাল্লা দিয়ে তরুণ সমাজও এগিয়ে যাচ্ছে সমান তালে। কিন্তু কিছু তরুণ নেশাগ্রস্ত, বিবেকহীন, মাদকাসক্ত, ধর্ষণ, ব্যাভিচার, লুটতরাজ এমনকি বাবা-মাকে খুন করে গোটা তরুণ সমাজকে কলঙ্কিত করছে। দেশের একটি বিরাট অংশ তরুণ সমাজ। সেখানে এই সামান্য সংখ্যক তরুণ নামের বৃদ্ধদের জন্য আমরা গোটা তরুণ সমাজকে হতাশাগ্রস্ত বলতে পারি না, তাদেরকে দোষারোপ করতে পারি না।
পারভীন খাতুন সাথী
দর্শন বিভাগ
বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ।
০০০০০০০০০০০০০০
চরম হতাশাগ্রস্ত
ভবিষ্যতের প্রতিভাবান
তরুণ সমাজ
মানুষকে শান্তি ও মানবতার আশা দেখাতে। তবে সেজন্য প্রয়োজন সঠিক ও মানবিক শিক্ষার। আর সেজন্য প্রয়োজন সরকার ও সুশীলদের ভূমিকা। আর সেখানেই তরুণ সমাজ চরমভাবে হতাশাগ্রস্ত। আর অন্যতম কারণ বেকারত্ব সমস্যা। আন্তর্জাতিক শ্রম-সংগঠন (আইএলও) তথ্যমতে, বর্তমান বাংলাদেশের বেকারের সংখ্যা প্রায় তিন কোটি। তাছাড়া বর্তমানে চাকরির ক্ষেত্রে ছিটকে পড়ছে প্রকৃত মেধাবীরা। রাজনীতিতে প্রবেশ করে তারা প্রকৃত শিক্ষা থেকে সরে যাচ্ছে। দেশের রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলায় ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে শিক্ষাঙ্গন। যে কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনৈতিক কার্যাদি সংঘটিত হয়ে থাকে। আর সেজন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন বন্ধ থাকে। এই সমস্ত কারণে তরুণ সমাজ হতাশাগ্রস্ত হয়ে বেছে নিচ্ছে কুপথ। যা দেশের অগ্রগতির জন্য মোটেও মঙ্গলজনক নয়।
মো. মাহফুজুল্লাহ মুন্নু
বি.এ. অনার্স (৩য় বর্ষ), বাংলা বিভাগ
উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়, মিরপুর, ঢাকা।
০০০০০০০০০
আমরা তরুণসমাজ
হতাশাগ্রস্ত—
আমরা মুক্তি চাই
আমাদের সৌভাগ্য, আমাদের দেশে অনেক বিখ্যাত শিক্ষাবিদ রয়েছেন। যখন বিখ্যাত শিক্ষাবিদরা আমাদের ক্লাস নেন। কিন্তু আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি, যে শিক্ষকরা আমাদের পড়ান, আমাদের দেশ মধ্যম-আয়ের দেশে পরিণত হচ্ছে, অর্থাত্ সভ্যতা, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি, ব্যাংকিং ইত্যাদি ক্ষেত্রে দেশ উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। যা প্রশংসার দাবিদার। কিন্তু একঝাঁক হতাশ তরুণ নিয়ে দেশ কখনও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে না। কিছু নতুন পরিকল্পনা এবং কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করে সরকার এবং শিক্ষকরা সমন্বিত করে আমাদের হতাশাগ্রস্ত তরুণদের মুক্তি দিতে পারেন। কারণ আমরা তরুণ সমাজ দেশের বোঝা হতে চাই না বরং দেশকে নিয়ে যেতে চাই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে।
মিনহাজ ভুঞা
শেষবর্ষ, শিক্ষার্থী, ফার্মেসী বিভাগ
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা।
