পাঁচ কারণে সবার সেরা

আপডেট : ১৮ মে ২০১৪, ২২:১৯
২০১০ সাল। এসএসসিতে প্রথম হয় প্রতিষ্ঠানটি। ২০১১ সালেও প্রথম। ২০১২ সালেও এই ধারা অব্যাহত থাকে। ২০১৩ সালে একটু ছন্দপতন। মেধা তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে। তবে এবছর ফের প্রথম। বলছিলাম রাজউক উত্তরা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের কথা। রাজধানীর এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের টানা সাফল্যের পেছনে পাঁচ কারণ খুঁজে পাওয়া গেছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে এ কারণ খুঁজে পাওয়া গেছে। জানা গেছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার জন্য রয়েছে ১৩ সদস্য বিশিষ্ট পর্ষদ। শিক্ষা সচিব এই পর্ষদের সভাপতি। পর্ষদের দিক-নির্দেশনাতেই চলে প্রতিষ্ঠানটি। আছেন তিনজন উপাধ্যক্ষ। শিক্ষকরা কাজ করতে গিয়ে পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করেন। কোন ধরনের চাপ তাদের উপর দেয়া হয় না। এই প্রতিষ্ঠানে কোন ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব নেই। ভর্তি পরীক্ষা, শিক্ষক নিয়োগে থাকে স্বচ্ছতা। কোন ছাত্র বা ছাত্রী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ক্লাসে উপস্থিত না হলে মোবাইলফোন বার্তায় জানিয়ে দেয়া হয় অভিভাবকদের। শিক্ষার্থীরা কোন অজুহাতেই ক্লাস ফাঁকি দিতে পারে না। আর এসবই ভালো ফলাফলে অবদান রাখছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সবার সেরা হওয়ার রহস্য নিয়ে কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমামুল হুদা বলেন, নিয়মিত পাঠদান ও তদারকি, শিক্ষকদের প্রচেষ্টা, শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার অবস্থা নিয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা করার কারণেই ফলাফল ভালো হয়। তিনি বলেন, সেরা হওয়ার পেছনের কাহিনী খুবই স্বাভাবিক। আমাদের শিক্ষার্থীরা খুবই পরিশ্রমী। লেখাপড়ায় ফাঁকি দেয় না। শিক্ষকরা খুবই নিবেদিত। তারা ছেলেমেয়েদের পড়া আদায়ে দায়িত্বশীল। এছাড়া অভিভাবকরাও বেশ সচেতন। ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা খুবই সচেতন। সব সময় তাদের ছেলেমেয়েদের পড়ালেখার খোঁজখবর নেন। এছাড়া ভর্তি পরীক্ষা স্বচ্ছ হওয়ার কারণে মেধাবীরাই এখানে পড়ার সুযোগ পায়। সেরা শিক্ষকদেরই নিয়োগ দেয় প্রতিষ্ঠানটি। এক্ষেত্রে কোন আপস করা হয় না। গণিত বিভাগের শিক্ষক সাইফুর রহমান বলেন, প্রশংসনীয় ফলাফলের পেছনে রয়েছে সুযোগ্য নেতৃত্ব ও নিবিড় তত্ত্বাবধান। শিক্ষার্থীদের পাঠোন্নতির নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং যত্ন সহকারে পাঠদান শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলে সহায়ক হয়েছে। মো. হানিফ নামের একজন অভিভাবক বলেন, আমার ছেলে জিপিএ-৫ পেয়েছে। তার ভালো ফলাফলে আমরা খুশি। সে পড়াশোনা করেছে নিয়মিত। আর শিক্ষকরাও সঠিক দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন। অন্যথায় ভালো ফলাফল করা হয়ত কষ্টকর হতো। শিক্ষকদের ধন্যবাদ জানাই। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পাস করা সাকিব বিন আলম বলেন, আমরা কয়েক বন্ধু মিলে একসঙ্গে পড়তাম। সবাই আলোচনা করে পড়াতে বিষয়টা সহজ মনে হতো। আর আমাদের স্কুলে আসলে ফাঁকি দেয়ার সুযোগ নেই। সিস্টেমটাই এমন যে, আপনাকে পড়তেই হবে। আর তাই পড়লে ভালো ফলতো হবেই!