আক্ষেপ ঘুচলো অ্যাটলেটিকোর

আপডেট : ১৮ মে ২০১৪, ২২:৫৫
অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ শিরোপাধারী বার্সেলোনার সাথে ১-১ গোলে ড্র করে সুদার্ঘ ১৮ বছর পর লা লিগার শিরোপা ঘরে তুলেছে। রিয়াল মাদ্রিদ-বার্সেলোনার বাইরে যা কিনা ২০০৪-০৫ মৌসুমের পর প্রথম কোন দলের লিগ শিরোপা জয়। দিয়েগো সিমিওনের দলের শিরোপা জয়ের রাতে ব্যর্থতার দায়ভার কাঁধে নিয়ে মাত্র এক মৌসুম শেষেই কাতালানদের কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন জেরার্ডো মার্টিনো। ন্যু ক্যাম্পে অবশ্য ৩৩ মিনিটে অ্যালেক্সিজ সানচেজের দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে গিয়েছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের চার মিনিটের মধ্যে দিয়েগো গোডিনের হেড থেকে অ্যাথলেটিকো করা গোলটি তাদের শুধু সমতায় ফেরায়নি, শিরোপার জন্য মূল্যবান এক পয়েন্টও এনে দেয় সেটা। আর এতেই ১০ বছর পরে বার্সা ও রিয়াল মাদ্রিদের পরে তৃতীয় কোন দল হিসেবে স্প্যানিশ লীগের শিরোপা অন্য কোন ক্লাবে গেল। এই ড্রয়ে এক পয়েন্ট অর্জন করায় রিয়াল মাদ্রিদেও সাথে সমান ৮৭ পয়েন্ট অর্জন করলেও হেড টু হেড এ এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে কাতালানরা। এ্যাথলেটিকো এই দুই দলের থেকে তিন পয়েন্ট এগিয়ে শীর্ষস্থান অক্ষুণ্ন রেখেছে। ম্যাচ শেষে উচ্ছসিত অ্যাটলেটিকো কোচ দিয়েগো সিমেওনে বলেছেন, ‘এটা এমন এক অনুভূতি যা ভাষায় বলে বোঝানো যাবে না। আমি সকল খেলোয়াড় এবং একই সাথে সমর্থকদের ধন্যবাদ জানাতে চাই যারা সবসময়ই আমাদের ওপর বিশ্বাস রেখেছেন। কঠোর পরিশ্রমের কোন বিকল্প নেই। আমার পুরো দল সেটা উপলব্ধি করে সঠিক কাজটাই করেছি। অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের ইতিহাসে এই দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন।’ ন্যু ক্যাম্পে ম্যাচের শুরুটা দারুণভাবে করেছিল সফরকারীরা। কিন্তু মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে দলের মূল স্কোরার দিয়েগো কস্তার হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি তাকে মাঠেই বাইরে পাঠিয়ে দেয়। এই ইনজুরির ফলে আগামী সপ্তাহে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লীগের ফাইনালেও তার খেলা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিল। এরপরই মিডফিল্ডার আরদা তুরান কোমরের ইনজুরিতে পড়লে আদ্রিয়ান লোপেজ এবং রাউল গার্সিয়াকে একটু আগেভাগেই মাঠে নামাতে বাধ্য হন সিমেয়োন। ম্যাচের সময় গড়ানোর সাথে সাথে কাতালানরা নিজেদের মেলে ধরতে শুরু করে। ডানদিক থেকে ডানি আলভেসের ক্রস থেকে পেড্রো রডরিগুয়েজের হেড বাইরে দিয়ে চলে যায়। সামনে থেকে এগিয়ে থেকে বার্সেলোনা যখন একের পর এক আক্রমণ চালাচ্ছিল তখনই লিয়নেল মেসির দারুণ এক পাস থেকে ডান দিকে আগুয়ান সানচেজ কোনাকুনি শটে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন। এ্যাথলেটিকোর বেলজিয়ান গোলরক্ষক থিবাট করটোয়িস শটটি বুঝে ওঠার আগে তা জালে জড়ায়। বিরতির আগে ম্যাচে সমতা ফেরানোর লক্ষ্যে এ্যাথলেটিকো বেশ কয়েকটি কর্নার পেলেও তার থেকে কোন কাজ করতে পারেনি। এর মধ্যে মেসি এবং সার্জিও বাসকোয়েটের হলুদ কার্ড বার্সা শিবিরে হতাশার জন্ম দিয়েছে। বিরতির পরপরই এ্যাথলেটিকো যেন গোলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠে। ডেভিড ভিয়ার লো শট অল্পের জন্য গোলের ঠিকানা খুঁজে পায়নি। তবে ৪৯ মিনিটে গোদিন আর ভুল করেননি। গাবির কর্নার থেকে শক্তিশালী হেডে হোসে ম্যানুয়েল পিন্টোকে পরাস্ত করে ম্যাচে সমতা ফেরান এই ডিফেন্ডার। এরপর ইনজুরি আক্রান্ত বাসকোয়েটের স্থানে এ্যালেক্সসং এবং নেইমারকে নামিয়েও জয়ের দেখা পায়নি বার্সা বস জেরার্ডো মার্টিনো। ম্যাচ শেষের ২৫ মিনিট আগে মেসির একটি বল জালে জড়ালে অফ সাইডের কারণে তা বাতিল হয়ে যায়।