ভারতের সাথে বর্তমান সরকারের সম্পর্কেরও তেমন কোন হেরফের হবে না
ভারতের মোদী সরকারের জয়কে নিয়ে আমাদের বাংলাদেশে আলোচনার ঝড় বইছে। মোদী ক্ষমতায় আসায় বাংলাদেশের সাথে ভারতের সম্পর্ক কেমন হবে। কংগ্রেস আমলে যেমন ছিল, তেমন থাকবে নাকি তার পরিবর্তন হবে? আমার ধারণা, তেমন কোন পরিবর্তন হবে না। সাধারণত প্রতিটি রাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতি সরকার পরিবর্তনের পরপরই বদলে যায় না। কারণ দুটি দেশের সাথে অনেক চুক্তি থাকে, যা চলমান। সে কারণে সেই চুক্তি যেমন বাতিল হয় না তেমনি নীতিরও পরিবর্তন হয় না। তাই ভারতের সাথে বর্তমান সরকারের সম্পর্কেরও তেমন কোন হেরফের হবে না। তবে দুটি দেশের জনগণের উপর তা অনেকটা নির্ভর করবে। জনগণ যা চাইবে সরকারও তা করবে বলে আমার অভিমত। আওয়ামী লীগ সরকারের উচিত হবে ভারতের মোদী সরকারের সাথে সম্পর্কের উন্নতি করা। বিএনপি জামায়াত কি বললো, তা নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে দুটি দেশের সরকার ও জনগণের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা।
অরুণদ্যুতি পাল,
মাষ্টার্স শেষ পর্ব,
সমাজ বিজ্ঞান বিভাগ,
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
০০০০০০০০০০
ঢাকা-দিল্লির
সম্পর্ক কেমন হবে
তা সময়ই বলে দেবে
ভারতে নরেন্দ্র মোদীর বিজেপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ করায় আমাদের বাংলাদেশে ইতিমধ্যে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। আলোচনার মূল কারণ, কংগ্রেসের পরিবর্তে বিজেপি ক্ষমতায় আসায় বাংলাদেশের সাথে ভারতের সম্পর্ক এখন কেমন হবে। আওয়ামী লীগ সরকারের সাথে বিজেপি কেমন আচরণ করবে কিংবা বিএনপিকে ক্ষমতায় আনার জন্য দ্রুত নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের উপর মোদীর কোন চাপ থাকবে কিনা ইত্যাদি ইত্যাদি। গত দু’দিন ধরে টকশোতে এসব নিয়ে কথা হচ্ছে। ভারতের বিদেশ নীতি কিঞ্চিত পরিবর্তন হতে পারে। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা হবে না। কারণ ভারত মুসলিম রাষ্ট্র নয়। ভারত চাইবে না যে বাংলাদেশে বিএনপি জামায়াত জোটকে ক্ষমতায় এনে আবার তাদের সীমান্তে নানান সমস্যার সৃষ্টি হয়। নিজের বুঝ পাগলেও বুঝে। ভারতও তাই বুঝবে। এছাড়া, বিপুলসংখ্যক লোকের দেশ ভারত। তাদের উন্নতির কথা বলে মোদী ক্ষমতায় এসেছেন। তাই তাদের কথাও তাকে ভাবতে হবে। প্রতিবেশী দেশের সাথে কি হবে না হবে তার জন্য আলাদা শাখাই রয়েছে। তারাই বুঝবে ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে তাদের সম্পর্ক কতদূর পর্যন্ত নেয়া যাবে।
ফারহানা ইয়াসমীন আঁখি,
দ্বিতীয় বর্ষ (অনার্স),
বাংলা বিভাগ,
গৌরীপুর সরকারি কলেজ, ময়মনসিংহ
০০০০০০০০০০০
ঢাকা-দিল্লি
সুসম্পর্ক হবে
ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের দৃঢ়তা-নমনীয়তা নির্ভর করছে এখন ভারতের বিজেপী সরকারের ওপর। মোদীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী অমিত শাহ এ ব্যাপারটি অনেকটাই খোলাসা করে দিয়েছেন। তিনি যেহেতু বলেছেন দেশের সার্বিক স্বার্থের উপর ভিত্তি করেই পররাষ্ট্র নীতি গঠিত হয় সেহেতু এ নীতিতে সহসা পরিবর্তনের কোন সম্ভাবনা নেই। তাই ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক পূর্বাবস্থায় থাকবে বলে প্রতীয়মান হয়। এছাড়া বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত চুক্তি নিয়ে বিজেপি বিরোধিতা করলেও পরে তারা তাতে সায় দিয়েছে। কাজেই তারা এদেশের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করবে বলে আশা করা যায়। যদিও ভারত সরকারের পরিবর্তন দীর্ঘ সময় পর তদুপরি এদেশের সাথে তাদের সম্পর্ক তাদের বৈদেশিক সংক্রান্ত মতামতের ওপরই অনেকটা নির্ভর করে। দেশের জনগণ হিসেবে আমরা চাই এ দু’দেশের মধ্যে সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক হোক। দেশের স্বার্থরক্ষা এবং ভারতকে বিপদে-আপদে আদর্শ প্রতিবেশীর মত সাহায্য করাই আমাদের কাম্য।
খন্দকার আরাফাত আহমেদ,
ডিগ্রী প্রাইভেট (বিএসএস ২য় বর্ষ),
সরকারি বাংলা কলেজ, ঢাকা
০০০০০০০০০০০
বিজেপি সাম্প্রদায়িক দল
আদর্শগত কারণে কিছুটা হলেও সম্পর্কের ছেদ পড়বে
ভারতের ১৬তম নির্বাচনের বিজেপির বিজয়ের ফলে নরেন্দ্র মোদী হতে যাচ্ছেন ভারতের পরবর্তী প্রধান মন্ত্রী। ভারতে ১০ বছরব্যাপী কংগ্রেস জোটের ক্ষমতার পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের কোনো পরিবর্তন ঘটবে কি না এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। সেই প্রশ্ন এখন আমাদের মনে। এ প্রশ্নের প্রধান কারণ হচ্ছে ভারতে ধর্মভিত্তিক দক্ষিণ পন্থী দল ভারতীয় জনতা পার্টি বিজেপি ক্ষমতাসীন হচ্ছে। ধর্মের পরিচয়ে সে এত আসন পেয়েছে। মোদীর সরকার কেমন বৈদেশিক নীতি গ্রহণ করবে তা দেখতে হবে। অন্যদিকে বিজেপির বিজয়ে বিএনপিতে হাসি। কারণ বিএনপি মনে করছে মোদী সরকারের সাথে তাদের সুসম্পর্ক তৈরি হবে। বিএনপির বিশ্বাস বিজেপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক কংগ্রেসের মতো এতো নিবিড় হবে না। ফলে আগের মতো ভারতের সমর্থন না পেলে আওয়ামী লীগ চাপে পড়তে পারে। তবে তা সঠিক নাও হতে পারে। এখনই সব কিছু বলা যাবে না। আমাদের আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। তবে, সম্পর্ক যে খুব খারাপ হবে আমি তা মনে করি না।
মো. আব্দুস সালাম,
স্নাতক ১ম বর্ষ,
রসায়ন বিভাগ,
নেত্রকোনা সরকারি কলেজ, নেত্রকোনা
