ভারত-সিরিজের আগেই দায়িত্ব নিচ্ছেন
আগের দিন রটে গিয়েছিল গতকাল ঘোষণা করা হবে না নতুন কোচের নাম।
সাত সকালে তাই বিসিবির অফিসের সামনের প্রাঙ্গণটা বেশ নীরব হয়ে রইলো; সংবাদ মাধ্যমের গাড়ির ভিড় নেই, নেই ক্যামেরা আর যন্ত্রের দাপট। কিন্তু সময় গড়াতে গড়াতে আবার উল্টোটা রটে গেল—যে কোনো সময় কোচের নাম জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হবে। ব্যস শুরু হয়ে গেল সেই চিরচেনা ছোটাছুটি; ক্যামেরা বসানো, সরাসরি সর্বশেষ অবস্থা জানানো, নোট নেয়ার প্রস্তুতি। কিন্তু আবার বিধি বাম। এবার খবর এলো—মিরপুর বিসিবি অফিসে নয়, নতুন কোচের নাম ঘোষণা করা হবে ধানমণ্ডিতে বিসিবি সভাপতির নিজস্ব অফিসে!
আবার ছুট। ক্যামেরা, খাতা-কলম, প্রাণ হাতে নিয়ে ছুটলেন সবাই ধানমন্ডি!
এই ছোটাছুটির ফল কিন্তু শেষ পর্যন্ত অনুমিতই ছিল। গত সপ্তাহ খানেক ধরে বাতাসে ভাসতে থাকা সেই উপল চান্দিকা হাতুরু সিংহকেই বাংলাদেশ জাতীয় দলের নতুন কোচ হিসেবে ঘোষণা করলেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। তবে বাড়তি হিসেবে যেটা জানালেন, তা হল চুক্তি জুলাই থেকে শুরু হলেও জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে ভারতের বিপক্ষে সিরিজ থেকেই দায়িত্ব পালন শুরু করবেন এই শ্রীলঙ্কান কোচ।
পাপন জানালেন, সে ক্ষেত্রে তাদেরকে আর এই ভারত সিরিজের জন্য আর ভারপ্রাপ্ত কোচ খুঁজতে হচ্ছে না, ‘আমাদের এখানে হেড কোচ হিসেবে আসছে চান্দিকা হাতুরু সিংহ। তার সঙ্গে চুক্তি আমাদের চূড়ান্ত হয়ে গেছে। চুক্তিটা হচ্ছে ১ জুলাই থেকে দুই বছরের জন্য। তবে যেহেতু সামনে ভারত সিরিজটা আছে সেজন্য তার সঙ্গে যে কথা হয়েছে তাতে আমরা আশা করছি সে ১০ তারিখের মধ্যে চলে আসবে। আমরা অনুরোধ করেছিলাম আগে আসতে পারে কিনা, যাতে ভারত সিরিজের সময় সে আমাদের সঙ্গে থাকতে পারে।’
হাতুরু সিংহে ছাড়া শ্রীলঙ্কা থেকে আরো একজন জাতীয় দলের সঙ্গে আসছেন। শ্রীলঙ্কা জাতীয় দলের বর্তমান স্ট্রেন্থ ও কন্ডিশনিং কোচ মারিও ভিলাবারায়েন একই পদে দু’ বছরের জন্য যোগ দেবেন বাংলাদেশ জাতীয় দলে। তিনিও জুনের শুরুর দিকেই চলে আসবেন বলে বললেন বোর্ড সভাপতি। এর বাইরে ব্যাটিং, ফাস্ট বোলিং, স্পিন ও ফিল্ডিংয়ের জন্য বিশেষায়িত কোচ এবং অ্যাকাডেমির কোচ খুঁজছে বাংলাদেশ। ফাস্ট বোলিং, ফিল্ডিং ও অ্যাকামেমি কোচের ব্যাপারে কিছুটা এগোলেও এখনও চূড়ান্ত করতে পারেনি বোর্ড। তাই তাদের নামও ঘোষণা করা হয়নি। এরা কেউ ভারত সিরিজের আাাগে যোগ দেয়ার সম্ভাবনা নেই।
তবে সবকিছু ছাপিয়ে বিসিবি সভাপতি প্রধান কোচ নিয়োগ দিতে পেরে যে এক ধরনের স্বস্তিতে আছেন, সেটা পরিষ্কার করে দিলেন। বললেন যে, একেবারে চূড়ান্ত সময়ে জার্গেনসেন চলে যাওয়ায় তারা আসলেই বিপাকে পড়ে গিয়েছিলেন। তাই এই স্বস্তি, ‘বিশ্বকাপের আগে আমাদের হেড কোচ চলে গেলেন। ফলে দ্রুত এই শূন্যতা পূরণ করা দরকার ছিল। আমরা এমন একজন কোচ খুঁজছিলাম যে কিনা উপমহাদেশ ও বাইরে ওই অস্ট্রেলিয়ার মতো কন্ডিশনে কাজ করায় অভিজ্ঞ। আমরা এ ধরনের একজন কোচই খুঁজছিলাম। আমরা জানামতে হাই প্রোফাইল কোচের মধ্যে হাতুরু সিংহের নাম আছে।’
কোচ হিসেবে হাতুরু সিংহ ‘তারকা’ না হলেও বড় কোচ যে, তাতে সন্দেহ নেই। সাবেক এই লঙ্কান টেস্ট ক্রিকেটার ইতিমধ্যে শ্রীলঙ্কা ও অস্ট্রেলিয়ার ‘এ’ দলে, আরব আমিরাত, কানাডার জাতীয় দলে, নিউ সাউথ ওয়েলস ও সিডনি থান্ডার্সের মতো ক্লাব দলে দারুণ কাজ করে দেখিয়েছেন। এবার অপেক্ষা বাংলাদেশের হয়ে নিজেকে মেলে ধরার।
